kalerkantho

শুক্রবার । ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৫ জুন ২০২০। ১২ শাওয়াল ১৪৪১

জাতির পিতার ‘জুলিও কুরি’ শান্তি পদক

মোঃ শফিকুল ইসলাম   

২৩ মে, ২০২০ ২০:৫৫ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



জাতির পিতার ‘জুলিও কুরি’ শান্তি পদক

হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জুলিও কুরি শান্তি পুরস্কার প্রাপ্তির ৪৭তম বার্ষিকী আজ। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন অবদানের জন্য ১৯৭৩ সালের ২৩ মে তাঁকে বিশ্বশান্তি পরিষদ কর্তৃক ‘জুলিও কুরি’ শান্তি পদকে ভূষিত করা হয়।  এই পদক লাভ আমাদের জাতির জন্য এক বড় প্রাপ্তি ছিল। ১৯৫০ সালে থেকে বিশ্ববিখ্যাত বিজ্ঞানী ম্যারি কুরি ও পিয়েরে কুরি দম্পতিকে সম্মান জানানোর জন্য এই পদকের সূচনা হয়। বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় ম্যারি কুরি ও পিয়েরে কুরি দম্পতির সংগ্রামী অবদানকে স্মরণীয় করে রাখতে বিশ্বশান্তি পরিষদ এই পদক চালু করেছিল। তাঁরই ধারাবাহিকতায় আজও এই পদক চলমান।   

যারা এ পর্যন্ত এই পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন তাঁদের মধ্যে আছেন; নেলসন ম্যান্ডেলা, ইন্দিরা গান্ধী, ফিদেল কাস্ত্রো, হো চি মিন, ইয়াসির আরাফাত, সালভেদর আলেন্দে, মাদার তেরেসা, পাবলো নেরুদা, জওয়াহেরলাল নেহরু, মার্টিন লুথার কিংসহ অনেক বিখ্যাত ব্যক্তি। বঙ্গবন্ধু সহ যারা এই পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন তাঁরা সবাই-ই বিভিন্ন দেশের নেতৃত্বে বড় ধরণের ভূমিকা রেখেছিলেন এবং আন্তর্জাতিক পরিম-লেও তাঁদের অবদান ভুলে যাওয়ার মত নয়। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপন উপলক্ষে এই দিনটা ভিন্ন ভাবে উদযাপন করার কথা ছিল। কিন্তু করোনা ও আম্পান আমাদেরকে সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত করেছে। আমরা এখনও লেখার মধ্য দিয়ে তাঁর এই অর্জন স্মরণ করতে চাই। বিশ্বশান্তি পরিষদের শান্তি পদক ছিল জাতির পিতার কর্ম ও প্রজ্ঞার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। এটি ছিল বাংলাদেশের জন্য প্রথম আন্তর্জাতিক সম্মান।  

বঙ্গবন্ধুর এই পুরস্কার/পদক আপামর বাঙালির জন্য এক বিরাট অর্জন। এ মহান অর্জনের সালে জাতির পিতা পরিণত হন বঙ্গবন্ধু থেকে বিশ্ববন্ধু। ২০১৯ সালের ১৫ আগস্ট জাতিসংঘ সদর দপ্তর আয়োজিত জাতীয় শোক দিবসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বিশ্ববন্ধু’ (ফ্রেন্ড অব দ্য ওয়ার্ল্ড) হিসেবে আখ্যা দেন সংস্থাটির সাবেক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল ও জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত আনোয়ারুল করিম চৌধুরী। বৈশ্বিক পরিম-লে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়া এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশ্বনেতা হিসেবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদানের প্রেক্ষিতে তাঁকে “বিশ্ববন্ধু (ফ্রেন্ড অব দ্য ওয়ার্ল্ড)" উপাধিতে ভূষিত করায় আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।

এই বিষয়টিকে আমরা যথার্থ এবং সময়োচিত বলে মনে করি। সঙ্গত কারণেই এ উপাধি নিঃসন্দেহে বৈশ্বিক স্বীকৃতির দাবি রাখে বলেও আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে বঙ্গবন্ধু’কে “বিশ্ববন্ধু (ফ্রেন্ড অব দ্য ওয়ার্ল্ড)" হিসেবে জাতিসংঘ কর্তৃক আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রদানের জন্য যথাযথ উদ্যোগ ও কার্যক্রম গ্রহণে আমরা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা’র নিকট বিনিত অনুরোধ জানাচ্ছি। আমরা যদি মুজিববর্ষে বিশ্ববন্ধুর অফিসিয়াল স্বীকৃতি আদায় করতে পারি, তাহলেই সেটা আমাদের জন্য হতে পারে এক বড় অর্জন।  

জাতির পিতার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা ও তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করছি। স্বাভাবিক পরিস্থিতি থাকলে আজ এই দিনটি অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে পালন করত দেশবাসী। যদিও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে জনসমাগম এড়িয়ে দিবসটি উদযাপন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ উদ্যোগ অবশ্যই প্রশংসনীয়। এটা অবশ্যই পালন করা আমাদের জন্য দায়িত্ব ও কর্তব্য। যার কারণে আমরা আজ স্বাধীন দেশের নাগরিক তাঁর কৃতিত্বকে স্মরণ করতে পারা এক ধরণের বড় পাওয়া। আমরা যত তাঁর আদর্শ,কর্ম, কথা, অর্জন, অবদান,ও চেতনা সঠিক ভাবে পালন এবং ধারণ করতে পারবো , ততই তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং শ্রদ্ধা জানানো হবে বলে আমি মনে করি। আর যারা জাতির পিতার আদর্শ শুধু মুখে ধারণ করে অন্যায় কাজ করছেন। তাদেরকে আমি এইটুকু বলতে চাই, আসুন ,আমরা সকলে মিলে খারাপ চর্চা বাদ দিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রকৃত আদর্শ আমাদের মনে ও হৃদয়ে  ধারণ করে তাঁরই কন্যা শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করি। তাহলেই ভিশন ২০২১ ও ২০৪১ এর লক্ষ্যে আমরা পোঁছাতে পারব বলে বিশ্বাস করি। আজকের দিনে এটাই হউক আমাদের অঙ্গীকার। 

বাঙালী জাতিরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা ও স্বাধীনতার স্থপতি, অসাম্প্রদায়িকতা, গণতন্ত্র ও শান্তি আন্দোলনে জাতির পিতার অসামান্য অবদানের প্রেক্ষিতেই বঙ্গবন্ধুকে ‘জুলিও কুরি শান্তি পদকে ভূষিত করা হয়। ১৯৫০ সাল থেকে বিশ্ব শান্তি পরিষদ ফ্যাসিবাদ-সাম্রাজ্য বাদবিরোধী সংগ্রামে, মানবতার কল্যাণে, শান্তির সপক্ষে বিশেষ অবদানের জন্য বরণীয় ব্যক্তি ও সংগঠনকে ‘জুলিও কুরি’ শান্তি পদকে ভূষিত করে থাকে। আমি আশা রাখতে চাই আমাদের প্রধানমন্ত্রীও ভবিষ্যতে এ পদকে ভূষিত হবেন কারণ তিনিও বঙ্গবন্ধুর মত মানুষের মুক্তি ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় বিরামহীন কাজ করে যাচ্ছেন।

লেখক: পিএইচডি ফেলো, জংনান ইউনির্ভাসিটি অব ইকোনমিকস অ্যান্ড ল, উহান, চীন এবং শিক্ষক, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, ত্রিশাল, ময়মনসিংহ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা