kalerkantho

বুধবার । ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ২৭  মে ২০২০। ৩ শাওয়াল ১৪৪১

করোনাকালে জবি শিক্ষার্থীদের ঈদ ভাবনা

মাসুদ রানা, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

১৬ মে, ২০২০ ১৮:৪৮ | পড়া যাবে ৮ মিনিটে



করোনাকালে জবি শিক্ষার্থীদের ঈদ ভাবনা

বিশ্বজুড়ে মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে বিপর্যস্ত জনজীবন। যা থেকে বাদ যায়নি বাংলাদেশও। যার প্রভাব পড়ছে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের ঈদ আনন্দে। প্রতিবছর ঈদের আগে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে বাস, ট্রেনের টিকিট সংগ্রহ করে বাড়ি ফিরতো শিক্ষার্থীরা। অথচ এইবার ব্যতিক্রম হয়েছে। করোনাভাইরাসের কারণে ঈদের দুই মাস আগে থেকেই বাড়িতে ঘরবন্দি সময় পার করছে শিক্ষার্থীরা। প্রতিবছর ঈদকে ঘিরে নানা আয়োজন, পরিকল্পনা থাকলেও এইবার সকল আয়োজন, পরিকল্পনা শেষ করে দিয়েছে করোনাভাইরাস। তবুও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নানাভাবে এই করোনার ঈদ উদযাপন করবে। করোনাকালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ঈদ ভাবনা কালের কণ্ঠ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।

ফারিয়া ইয়াসমিন
শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউট
১ম বর্ষ, ১ম সেমিস্টার

ঈদ মানে আনন্দ ,ঈদ  মানেই খুশি। বছরের ২টা ঈদ যেন অন্য রকম  অনুভূতির সাথে খুশির জোয়ার নিয়ে আসে। আমার কাছে ঈদ হলো ঘরে ফেরার গল্প, সকলের সাথে আনন্দ ভাগাভাগি করার গল্প। এবারের ঈদের গল্পটা সবার কাছেই ভিন্ন।  গত বছরের ঈদ যেখানে সম্পূর্ণ আনন্দের সাথে পালন করেছিলাম সেখানে ভাবতেও পারিনি এবারের ঈদটা এমন সাধারণ ভাবেই কাটাতে হবে। গত বছর ঈদের ২ দিন আগে থেকেই কতো পরিকল্পনা করেছিলাম ঈদের কেনাকাটা, খাবারের তালিকা করা, পরিবার , বন্ধুদের সাথে ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা আরো কতো কি ..... প্রতিবারের মতো গতো বছরের ঈদ অনেক জাঁকজমকপূর্ণ ভাবেই পালন করেছিলাম। ২-৩ দিন ঈদের আমেজ চলতেই ছিল। কিন্তু এ বছর আগের মতো কিছুই হবে না। করোনার ভয়াবহ পরিস্থিতিতে যেখানে ঘর থেকে বের হওয়ায় বিপজ্জনক সেখানে প্রতিবারের মতো  ঈদের কেনাকাটা করা, বন্ধুদের সাথে, পরিবারের সাথে ঘুরতে যাওয়াটা এবার হবে না।চারিদিকে হাহাকার, এমন অসুস্থ পৃথিবীতে ঈদ পালন করতে হবে  কখনো ভাবতেও পারিনি। এখন আমার যে পরিস্থিতিতে আছি আমাদের সকলের উচিত সবার পাশে থাকা। গত বছরের মতো এবারের ঈদটা হয়তো জাঁকজমকপূর্ণ ভাবে পালন করতে পারব না। পরিবার, প্রিয়জনদের সুরক্ষার  কথা ভেবেই ঈদের অনুভূতিগুলো বাড়িতে থেকেই ভাগ করে নিব। সেই সাথে এমন ভয়াবহ অবস্থায় যদি ঈদের দিন  কিছু অসহায় মানুষকে সাহায্য করতে পারি তাহলে এর চেয়ে বড় আনন্দ আর কি আছে।এখন আমার ঘরে নিরাপদ তাই অন্য বারের মতো আনন্দের সাথে  ঈদ পালন করতে না পারলেও  সকলের সুস্থতা কামনা করে সাধারণ ভাবেই ঈদ পালন করবো । সবাই সুস্থ থাকি, নিরাপদ থাকি

নিহাল আহমেদ
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ
৩য় বর্ষ, ১ম সেমিস্টার

প্রতিবারের ঈদের মতো এবারের ঈদ নয় যেন পুরোই আলাদা। ঈদের সকালে গোসল করে বাবার সাথে সালাত আদায় ও পড়ন্ত বিকেলে বড় ভাই ও বন্ধুদের সাথে আড্ডা হয়। তবে এবার সেরকম কিছুই হবেনা , ঘরে বসে প্রতিদিনের মতই থাকতে হবে। গত ঈদ গুলোর কথা বেশ মনে পড়ছে যখন কাজিনরা বাসায় আসতো , একসাথে ফিফা খেলতাম আর রাতে হরর মুভি দেখা। ঈদের এক দুদিন পরেই ঢাকার বাহিরে বেরিয়ে পড়তাম, ট্যুর বেশ ভালই হতো। এবার সেরকম ভাবাও যেনো অন্যায়, শুধু ঘরেই থাকা। দিনগুলো কাটছে গিটার বাজানো , ইউটিউব এ টিউটোরিয়াল দেখা আর হূমায়ন আহমেদ স্যারের বই পড়ে এই ঈদ  এভাবেই কাটবে। যদি কেউ তার পরিবার ও দেশকে ভালোবাসে তাহলে পরিস্থিতি ভালো না হওয়া পর্যন্ত অতি প্রয়োজন ছাড়া বাহিরে বের হওয়ার দরকার নেই। আল্লাহ্ আমাদের সবাইকে মাফ করে পৃথিবীটাকে সুস্থ করে দিক সেই প্রার্থনাই করি।

তানজিনা আক্তার
সমাজকর্ম বিভাগ
১ম বর্ষ, ১ম সেমিস্টার

ঈদ মানে আনন্দ,একে অপরের সাথে কুশল বিনিময় করা। সমস্ত দ্বিধা দ্বন্দ্ব ভুলে সমস্ত মুসলিম জাতি এক হয়ে যাওয়া। তাইতো প্রতিবছর অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় থাকি এই ঈদের জন্য। কিন্তু এবছর ঈদ এলো রুপ পরিবর্তন করে। এ যেন কেমন অপ্রত্যাশিত ঈদ!!! করোনা যেন যেন ঈদের খুশি, আমেজ, আনন্দ সবকিছুকে বদলে দিল । সাধারণত ঈদের অন্তত ১৫ দিন আগে থেকে আমরা নিজেদের জন্য এবং আত্মীয় স্বজনদের জন্য শপিং করে থাকি।একজন অন্যজনের বাড়িতে ইফতার, ঈদের জামা কাপড় ইত্যাদি নিয়ে যাওয়া হতো। তারপর আসে সেই অতি প্রতিক্ষীত ঈদের দিন। সকালবেলা ঈদের নামাজের পর সবার সাথে কুশল বিনিময়, কুলাকুলি, পাড়া-প্রতিবেশীর বাসায় যাওয়া, তাদের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগ করা থেকে শুরু করে যতদিন ঈদের ছুটি থাকে ততদিন ঘুরাফেরা, বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেওয়া, আত্মীয় -স্বজনদের বাসায় যাওয়া এভাবেই কাটত ঈদ। কিন্তু এবার তো বিসমিল্লায় গলদ! হয়নি কোনো শপিং, হয়নি কারো সাথে ইফতার ভাগ করা।যেহেতু কোভিড-১৯ এর জন্য সবাই ঘরবন্দী তাই ঈদটাকেও ঘরবন্দী করে রাখার চিন্তাই করেছি।আত্মীয় -স্বজন, বন্ধুবান্ধব কারো সাথে এবার ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করা হবে না! আসলে এই মহামারী অবস্থায় ঈদটা হয়তো পূর্বের ন্যায় আনন্দ নিয়ে আসেইনি! কেমন হবে এই ঘরবন্দির ঈদ?
পরিশেষে একটাই প্রার্থনা সুস্থ হয়ে উঠুক পৃথিবী।
এক অন্যরকম ঈদ

ছাবেকুন মোস্তফা
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ
১ম বর্ষ, ১ম সেমিস্টার

মুসলমানদের ধর্মীয় প্রধান দুটি উৎসব ওই ঈদ। ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা। এক মাস রোজা রাখার পালিত হয় ঈদুল ফিতর। ঈদ মানেই আনন্দ। ঈদের দিনটাকে সুন্দর করার জন্য আয়োজন শুরু হয় অনেক আগে থেকেই। ঈদকে উপলক্ষ করে শুরু হয় কেনাকাটা। প্রতিটি বাড়িতেই ঈদের রান্না হয় ব্যাপক আয়োজনে। হরেক রকমের সেমাই সহ মুখরোচক বিভিন্ন খাবার। সকলে একসাথে নামাজ আদায় করে। বন্ধু, পাড়া-প্রতিবেশীরা একে অপরের বাড়িতে আসে। অনেক হৈ-হুল্লোড়, আড্ডা, আনন্দে পালিত হয় ঈদ। কিন্তু দেশের এই অন্ধকার সময়ে এবারের ঈদ পালিত হউক সাবধানতার সাথে। বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন ঈদ পালন করবো নিজ বাসায় নিজ পরিবারের সাথে।করোনার প্রকোপ থেকে বাচঁতে এড়িয়ে চলতে হবে সব জনসমাগম। সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে পরিবারের সাথে আনন্দের সাথে ঈদ উদযাপন করবো।

পারভেজ হাসান
বাংলা বিভাগ
২য় বর্ষ, ১ম সেমিস্টার

মুসলিম ধর্মাবলম্বিদের একটি প্রধান উৎসব হচ্ছে ঈদুল  ফিতর। অন্য সকল বছরের মতো এই বছরের ঈদুল ফিতরের সময়টা সম্পূর্ন ভিন্ন। আজ সকল মুসলিম ধর্মাবলম্বিসহ অন্য ধমর্বলম্বির মানুষেরা একটি ভয়াবহ সময় পার করছে।
কিছুদিন পর আসছে মুসলিমদের উৎসব ঈদুল ফিতর, অন্যান্য ঈদের মতো হয়তো এই বছরের ঈদের সময়টা আমাদেরকে ভিন্নভাবে উদযাপন করতে হবে। করোনা ভাইরাস থেকে বাচতে হলে আমাদেরকে কিছু সীমাবদ্ধতার মধ্যে ঈদ পালন করা অত্যন্ত জরুরি। তবেই আমরা পরবর্তী সময়গুলো সুন্দরভাবে কাটাতে পারবো। এবারের ঈদ হয়তো গত ঈদের মতো তত জমজমাট হবেনা কিন্তু আমরা আমাদের মতো করে পরিবারের সাথে সুন্দর সময় কাটানোর সুযোগ পাব। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে আত্নীয়স্বজনের সাথে আমরা আমাদের এবারের ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে পারবো। কিছু সীমাবদ্ধতার মাঝেই আনন্দমুখোর হয়ে উঠুক করোনাকালের ঈদ আনন্দ।

নাদিয়া সুলতানা
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ
১ম বর্ষ, ১ম সেমিস্টার

বন্দীত্ব কারো কাছেই সুখকর নয়, হোক সে মানুষ কিংবা পশুপাখি। ছোট্ট এ জীবনে কেউই চায় না বন্দিত্বের স্বাদ নিতে। তবুও মাঝেমধ্যেই আমরা বন্দি হয়ে পড়ি,কখনো বা নিজেরাই নিজেদেরকে সাময়িক সময়ের জন্য বন্দি করে রাখি।
এমনই একটি বন্দিদশা চলছে বর্তমানে পৃথিবী জুড়ে।বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাসের প্রভাবে আজ অবরুদ্ধ পুরো পৃথিবী। চারদিকে প্রতিনিয়ত বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল। কিন্তু সামনে আসছে বহু আকাঙ্ক্ষিত ঈদ উল ফিতর। এই ঈদে আমার মতো সব মানুষেরই পরিকল্পনা ছিলো নানান রঙের। ঈদের শপিং,বন্ধু-বান্ধবদের সাথে ঈদের দিন সিনেমায় যাওয়া, বহুদিনের স্বপ্নপুরী সাজেক ভ্যালিতে পরিবারের সাথে ঈদ ছুটি কাটানো সহ অনেক ছোট ছোট পরিকল্পনা ছিলো মনে। শুধু ঈদের ছুটি শুরু হওয়ার অপেক্ষায় ছিলাম! কিন্তু সব স্বপ্নই ভেঙে গেলো পৃথিবীজুড়ে ছড়িয়ে পড়া মহামারীর কারণে।তাই মন খারাপ হয়েছিলো ভীষনভাবে, হবে সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তারপরেও সুন্দর একটি আগামীর জন্য সেই মন খারাপকে,মরে যাওয়া মনকে,বিষন্ন ভারাক্রান্ত হৃদয়কে ধীরে ধীরে শান্ত আর স্বাভাবিক করে তুলেছি। মনকে বুঝিয়েছি এই ঈদে না হয় শপিং নাই করলাম, ঘরে বসে নতুন রান্না রেসিপি ট্রাই করলাম, ঘরে বসেই না হয় টিভিতে পরিবারের সাথে ঈদ অনুষ্ঠান উপভোগ করলাম, বন্ধুদের সাথে ভিডিও চ্যাটিং এ না হয় জমিয়ে আড্ডা দিলাম। তবু না হয় এবার সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখলাম। আগের মতো স্বাভাবিক এক পৃথিবীর আশায়, বেচে থাকার প্রয়োজনে!
কবি সহস্র সুমনের ভাষায়-
এ যাত্রায় বেচে গেলে, ভীষণ করে বাচবো!
নতুন করে স্কুলে যাবো কলেজে যাবো!
মামার হাতের ফুচকা খাবো,চায়ের কাপে ঝড় উঠাবো!
বন্ধুদের নিয়ে আড্ডা দেবো,হাসিগুলো ছড়িয়ে দেবো!
ঘুড়ি ওড়াবো রং বেরঙের, নৌকা হবো মুক্ত পালের!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা