kalerkantho

বুধবার । ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ২৭  মে ২০২০। ৩ শাওয়াল ১৪৪১

লকডাউনে বাড়ি ফিরতে সাইকেল চুরি, ক্ষমা চেয়ে রেখে এলেন চিঠি!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৬ মে, ২০২০ ১৬:৫৯ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



লকডাউনে বাড়ি ফিরতে সাইকেল চুরি, ক্ষমা চেয়ে রেখে এলেন চিঠি!

রুটি-রুজির সন্ধানে ঘর ছেড়েছিলেন তারা। সুদূর রাজস্থান থেকে পাড়ি দিয়েছিলেন উত্তরপ্রদেশে। সঙ্গে প্রতিবন্ধী সন্তান। কিন্তু করোনা লকডাউনে রোজগার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাড়ি ফিরে যাওয়া ছাড়া উপায় নেই। কিন্তু এই দীর্ঘপথ যাবেন কিভাবে? গাড়ি-ঘোড়া তো বন্ধ। তাই মরিয়া হয়ে বাড়ি ফেরার জন্য বাধ্য হয়েই সাইকেল চুরি করলেন এক পরিযায়ী শ্রমিক। তবে তিনি পরিশ্রম করে পেট ভরতে এসেছিলেন, চুরি করতে নয়। তাই বিবেকের দংশনে মালিকের কাছে ক্ষমা চেয়ে একটি চিঠি রেখে যান ওই শ্রমিক।

জানা গেছে, কাজের খোঁজে উত্তরপ্রদেশের বরেলি থেকে রাজস্থানের ভরতপুরে এসেছিলেন পরিযায়ী শ্রমিক মুহাম্মদ ইকবাল। পরিশ্রম করে বেশ দু’পয়সা আয়ও হচ্ছিল তার। কিন্তু করোনা মহামারির লকডাউন এসে পাল্টে যায় সব কিছু। কাজকর্ম বন্ধ হয়ে না খেয়ে মরার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। ফলে প্রতিবন্ধী সন্তানকে নিয়ে বাড়ি ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠেন তিনি।

গণপরিবহণ বন্ধ থাকায় সোমবার রাতে ভরতপুরের রারহার বাসিন্দা সাহাব সিংয়ের সাইকেল চুরি করে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন ইকবাল। কিন্তু তিনি চোর নন, পরিস্থিতি তাকে বাধ্য করেছে এই কাজ করতে। তাই বিবেকের দংশনে সাহাব সিংয়ের কাছে ক্ষমা চেয়ে একটি চিঠি লিখে রেখে আসেন তিনি। চিঠিতে লেখা ছিল, 'আমি বাধ্য হয়ে এই কাজ করছি। আমি আপনার কাছে অপরাধী। আমার সঙ্গে প্রতিবন্ধী শিশু রয়েছে। তাকে নিয়ে বরেলি যেতে হবে। কোনো পথ খোলা না পেয়ে আপনার সাইকেলটি নিয়ে যাচ্ছি। আমায় ক্ষমা করবেন।'

এদিকে, সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ঘটনা ছড়িয়ে পড়তে শুরু হয়েছে সমালোচনা। বিশিষ্ট সমাজতত্ত্ববিদ রাজীব গুপ্তর কথায়। এই ঘটনা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে পরিযায়ী শ্রমিকরা কতটা অসহায়। লকডাউন ঘোষণা করার আগে সরকারের উচিত ছিল পরিযায়ীদের বাড়ি ফেরানোর পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করা। তারা না পযাপ্ত খাবার পাচ্ছে না মজুরি। ফলে বাধ্য হয়েই শ্রমিকদের একাংশ হেঁটে বাড়ি ফিরছেন।

সূত্র- সংবাদ প্রতিদিন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা