kalerkantho

বুধবার । ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ২৭  মে ২০২০। ৩ শাওয়াল ১৪৪১

যেভাবে চাকরি পেলাম...

ডা. আবীর হাসান, মেডিক্যাল অফিসার, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, গঙ্গাচড়া, রংপুর

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৬ মে, ২০২০ ১২:৩৫ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



যেভাবে চাকরি পেলাম...

আমি ২০০৭ সালে বনানী বিদ্যানিকেতন থেকে এসএসসি এবং ২০০৯ সালে সরকারি বিজ্ঞান কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করি। এরপর প্রথমবার মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষা দিয়েই স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজে পড়ার সুযোগ পাই।

আমি শুধু মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষার জন্যই ফরম তুলেছিলাম। আত্মবিশ্বাস ছিল যে ভর্তি পরীক্ষায় টিকব। তা-ই হলো। মেডিক্যাল লাইফেই টুকটাক সাধারণ জ্ঞানের বই পড়তাম। পঞ্চম বর্ষে এসে ঠিক করলাম—পাস করেই বিসিএস পরীক্ষা দেব। এমবিবিএস পাস করে মেডিক্যাল অফিসার হিসেবে যোগ দিই ঢাকার অ্যাপোলো হাসপাতালে। ওটাই ছিল আমার প্রথম চাকরি। তখন থেকেই মূলত সরকারি চাকরির জন্য টুকটাক পড়াশোনাও শুরু করি। ৩৬তম বিসিএস প্রিলি পরীক্ষার ছয় মাস আগে থেকে জোরেশোরে প্রস্তুতি নেওয়া শুধু করি। হাসপাতালে ডিউটির পর বাকি সময় পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতাম। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ছয় ঘণ্টা পড়াশোনা করেছি। প্রস্তুতির শুরুর দিকে বিসিএসের প্রশ্নব্যাংক সলভ করি। বাংলার জন্য নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ বই এবং সাহিত্য অংশের জন্য হাইলাইটস পড়েছিলাম। ইংরেজি প্রস্তুতির জন্য বেরনস টোফেল, ইংরেজির জব প্রশ্নব্যাংক বইগুলো পড়েছি। আর ছোটবেলা থেকেই ইংরেজিতে বেসিক ভালো ছিল। ফলে আটকাইনি। গণিতের জন্য নবম-দশম শ্রেণির গণিত বইয়ের অনুশীলনীর অঙ্কগুলো সমাধান করতাম। সাধারণ জ্ঞানের জন্য নতুন বিশ্ব বইটি পড়েছি। প্রতিদিন বাসায় পত্রিকা পড়তাম, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক পাতা বাদ দিইনি। চেষ্টা করতাম প্রতিদিন অন্তত এক ঘণ্টা গণিত এবং এক ঘণ্টা বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি পড়ার জন্য।

২০১৫ সালের শেষের দিকে ৩৬তম বিসিএসের প্রিলি পরীক্ষা দিলাম। তবে উত্তীর্ণ হইনি। হতাশও হইনি। নতুন উদ্যমে আবার শুরু করেছি। ২০১৬ সালের আগস্টে ৩৭তম বিসিএসের প্রিলিতে অংশগ্রহণ করি এবং উত্তীর্ণ হই। কিন্তু লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি তখন নেওয়া হয়নি। ২০১৭ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রিলি পরীক্ষায়ও উত্তীর্ণ হয়েছিলাম। এর মধ্যে ৩৮তম বিসিএস পরীক্ষায় আর অংশ নিইনি। তখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে এমডি করার সুযোগ পাই। কিন্তু সরকারি চাকরির জন্য চেষ্টা অব্যাহত রাখি। ৩৯তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তির পর অংশগ্রহণ করি। প্রস্তুতি আগে থেকেই ছিল। তখন বিভিন্ন কোচিংয়ে শুধু মডেল টেস্ট দিয়েছি। ৩৯তম বিসিএসের প্রিলির (২০০ নম্বর) প্রশ্ন হাতে পেয়ে ৫০ শতাংশ প্রশ্নের উত্তর শিওর ছিলাম। আর বাকি সব বেসিক থেকে দিয়েছি। প্রিলির ফলাফলে উত্তীর্ণ হই। তারপর সরাসরি ভাইভায়। ২০১৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ছিল আমার ৩৯তম বিসিএস পরীক্ষার ভাইভা। আমি শেখ আলতাফ আলী স্যারের বোর্ডে ভাইভা দিয়েছি। প্রথমেই ঢুকে সালাম দিলাম। চেয়ারম্যান স্যার বললেন—বসো, কী নাম যেন? আমি নাম বলতেই চেয়ারম্যান স্যার বললেন, ‘এখন কোথায় আছো?’ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ডার্মাটোলজিতে এমডি কোর্সে আছি—বললাম। ‘কয় বছরের কোর্স’—স্যার জানতে চাইলেন এবং বললেন, ‘উপজেলায় গেলে কোর্স ছাড়তে হবে না?’ আমি বললাম, ‘না স্যার, আমাকে ডেপুটেশন দেওয়া হবে।’ তারপর এক্সটার্নাল আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘স্কিনের কয়টা লেয়ার—বলো তো?’ আমি উত্তর দিলাম—স্কিনের লেয়ার মূলত দুটি—এপিডার্মিস আর ডার্মিস; এর নিচে হাইপোডার্মিস। তারপর কার্পাল বোনগুলোর নাম বলতে পারব কি না জানতে চাইলেন। বললাম, হ্যাঁ পারব। তারপর জিজ্ঞেস করলেন, উপজেলায় পোস্টিং দিলে যাবে? বললাম—হ্যাঁ। এরপর সচিব স্যার প্রশ্ন করলেন, ‘ধরো, উপজেলায় দুই দল গ্রামবাসী মারামারি করে আসলো, তুমি নাইট ডিউটিতে একা, কী করে সামলাবে?’ আমি বললাম, ‘স্যার, আমি তাদের আশ্বস্ত করব যে, আমি আমার সাধ্যমতো তাদের সেবা দেব। এরপর এদের মধ্যে যাদের অবস্থা বেশি খারাপ তাদের আগে সেবা দেব। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষ করে সদর হাসপাতালে রেফার করব।’ এভাবে পাঁচ মিনিট সময় ধরে ভাইভা নিয়েছিলেন। শেষে সচিব স্যার বললেন, ‘আবীর তুমি আসতে পারো।’ ভাইভা দিয়েই মনে হলো—হয়তো চাকরিটা হয়ে যাবে।

২০১৯ সালে ৩০ এপ্রিল ভাইভার ফল প্রকাশ হয়। জীবনের চতুর্থ বিসিএস অর্থাৎ ৩৯তম বিসিএসের মাধ্যমে সরকারি চাকরিতে প্রবেশ করি।

চাকরির প্রস্তুতির জন্য পরিকল্পনা মতো পড়াশোনা করেছি। চেষ্টা করেছি প্রতিদিন গণিত, ইংরেজি ও মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে দুই ঘণ্টা করে পড়াশোনা করার। পাশাপাশি বিভিন্ন কোচিং সেন্টারে নিয়মিত মডেল টেস্ট দিয়েছি, যা আমার ভুলগুলো ধরিয়ে দিতে অনেক বেশি সাহায্য করেছে। নতুনদের উদ্দেশে বলব, কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। প্রতিদিনের পড়ার সময়টাকে ভাগ করে নিতে হবে। বেশি বেশি মডেল টেস্ট দিতে হবে। আর গণিতে হাত পাকিয়ে নিতে হবে, যাতে ওই অংশ থেকে কোনো নম্বর ছুটে না যায়। রুটিন করে সে অনুযায়ী পড়তে পারলে ভালো হয়। মেডিক্যালের চতুর্থ বর্ষ থেকেই পত্রিকা ও সাধারণ জ্ঞানের বই পড়ার অভ্যাস করা ভালো।

অনুলিখন : জুবায়ের আহম্মেদ 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা