kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৪ জুন ২০২০। ১১ শাওয়াল ১৪৪১

নিউ ইয়র্কের জন্য ভালোবাসা

শামীম আল আমিন   

১৪ মে, ২০২০ ১৩:৩৭ | পড়া যাবে ১০ মিনিটে



নিউ ইয়র্কের জন্য ভালোবাসা

অনেকের মতো পল কেরি নামের একজন স্বাস্থ্যকর্মীও ছুটে এসেছিলেন নিউ ইয়র্কে। কলোরাডো থেকে তিনি এসেছিলেন করোনা আক্রান্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে। স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের একটি হাসপাতালে সামনে থেকে লড়াই করেছেন ৬৬ বছর বয়সী এই মানুষটি। কিন্তু একসময় তাঁকে থামতে হলো। প্রাণঘাতী করোনায় আক্রান্ত হলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ভালোবাসার সুভাস ছড়িয়ে পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেন এই অসম সাহসী মানুষটি। শূন্য হাতে ফিরলেন না। নিয়ে গেলেন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আত্মতৃপ্তি। আর অনেকের ভালোবাসা। 

শুধু একজন পল কেরি নন, এমনিভাবে বিমান ভর্তি করে শুরু থেকেই বিভিন্ন স্টেট থেকে ডাক্তার, নার্স এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীকে দেখেছি নিউ ইয়র্কে ছুটে আসতে। মানুষ বাঁচাতে অবসর ভেঙে আবারও তালিকায় নাম লিখিয়েছিলেন অনেকে। করোনার এই সময়টায় পৃথিবীর রাজধানীখ্যাত নিউ ইয়র্কে কত যে গল্পগাথা আর মানুষের উপাখ্যান তৈরি হয়েছে, তার কোনো হিসাব নেই। যে শহর ঘুমায় না কখনো, সেটি এখন তলিয়ে আছে অতল অন্ধকারে। এই অন্ধকার ঠেকাতে কত মানুষই না লড়াই করেছেন; করছেন। এই শহরের যুদ্ধটা তাই একই সঙ্গে হূদয়ছোঁয়া কষ্টের, ভালোবাসারও। করোনার এই সময়টায় এখানে জীবন থেকে গল্প নেওয়া কত যে গল্প তৈরি হয়েছে; তার কোনো হিসাব নেই। 

গোটা পৃথিবীর মধ্যে করোনায় সংক্রমণ ও মৃত্যুর দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র সবার ওপরে। তার মধ্যে আবার নিউ ইয়র্কেই প্রায় অর্ধেক। এই স্টেটটিকে বলা হচ্ছে করোনার এপিসেন্টার। ফলে দৃশ্যত এটি এখন একটি মৃত্যুপরী। বিপুলসংখ্যক মানুষকে একসঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা দিতে হয়, এমন দৃশ্য পৃথিবীর কোথাও চেনা নয়। অদৃশ্য আততায়ীর বিরুদ্ধে এ এক অন্য লড়াই। এরপরও বুক চিতিয়ে এখানে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন সেবাদানকারীরা।  

এই যেমন কর্নেলিয়া গ্রিগস নামে নিউ ইয়র্কের একটি হাসপাতালের একজন চিকিত্সক তাঁর অবুঝ সন্তানের উদ্দেশে কয়েক দিন আগে একটি টুইট করেছেন। অত্যন্ত আবেগঘন ভাষায় তিনি লিখেছেন, ‘যদি আমার সন্তানেরা আমাকে হারায়, তাহলে অন্তত বড় হয়ে তারা জানবে, তাদের মা মানুষকে বাঁচানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন।’

ডা. গ্রিগসের এই টুইট কত মানুষকে কাঁদিয়েছে; সাহসও দিয়েছে। জলে ভেজা চোখ দুটি ঝাপসা হয়ে এসেছে অনেকের। অসংখ্য মানুষ মারা যাচ্ছে জেনেও নিউ ইয়র্কের মানুষ তাই মনোবল হারায়নি। যুদ্ধ তো চলছে! হারি জিতি, ‘তবুও নিউ ইয়র্ক তোমাকেই ভালোবাসি’ এমনটাই তাঁদের ভাবনা। আমার নিজের কথাই বলতে পারি। প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ থেকে আমেরিকায় এসেছিলাম চার বছর আগে। এরপর থেকে নিউ ইয়র্কেই থাকি। কাজে কিংবা বেড়াতে অন্য অনেক স্টেটে যাওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ফ্লোরিডায় বাংলা ভাষার একটা টেলিভিশন স্টেশন গড়ে তোলার কাজে সম্পৃক্ত থাকায় সেটাকে আমার দ্বিতীয় ঘর বলা চলে। যখন নিউ ইয়র্কে করোনা মহামারি প্রকট হতে শুরু করেছে, বাড়ছে মানুষের মৃত্যুর মিছিল; তখন ফ্লোরিডায় থাকা বন্ধুরা অনেক করে আমাকে বলেছেন পরিবার নিয়ে সেখানে চলে যেতে। আমেরিকার সব স্টেটই কম-বেশি করোনা সংক্রমণের শিকার হয়েছে। কিন্তু নিউ ইয়র্কের তুলনায় ফ্লোরিডায় সংক্রমণ অনেকটাই কম। সামনে অনিশ্চয়তা জেনেও নিউ ইয়র্কই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। ভেবেছি পালিয়ে কি সত্যিই বাঁচা যায়! কোথায় যাব এই নিউ ইয়র্ক ছেড়ে? নিউ ইয়র্কের প্রতিটি মানুষকে কি সঙ্গে করে নিয়ে যাওয়া সম্ভব? এই শহরটি বেঁচে যাবে, এমন আশায় লড়ছে। বরং সেই লড়াইয়ে আমিও আছি। আছে আমার ছোট্ট পরিবারটি। এখনো বেঁচে আছি এই শহরে। যদিও ভবিষ্যত্ জানা নেই।

নিউ ইয়র্কের রাতগুলোকে এখন বড় বেশি অন্ধকার বলে মনে হয়। এমন তীব্র অন্ধকার যেন আগে কখনোই দেখিনি। রাতে রাস্তা প্রায় ফাঁকাই থাকে। মাঝে মাঝে শুধু দু-একটি অ্যাম্বুল্যান্সের সাইরেন শোনা যায়। ভূতুড়ে পরিবেশ। কদিন আগে দিনেও এমন ছিল। তবে ইদানীং মানুষ একটু একটু করে বাইরে বের হয়ে আসতে শুরু করেছে।  

রহস্যময় একটি ভাইরাস হঠাৎ করেই থামিয়ে দিয়েছে নিউ ইয়র্কের প্রাণচঞ্চল জনজীবন। এ যেন এক রূপকথার গল্প। বাস্তবে এর আগে যা দেখা হয়নি কখনো। যে শহরে মানুষে মানুষে ঠাসা, পৃথিবীর প্রতিটি দেশের অন্তত একজন হলেও মানুষের বাস যে শহরে; সেই শহর হঠাত্ করে এমন নীরব-নিথর হয়ে গেল! ভাবতে অদ্ভুত লাগে। সভ্যতার সমৃদ্ধির উজ্জ্বলতম সময়েও এমন চিত্র যেন কল্পনার বাইরে। শুধু মানুষের মৃত্যুর মিছিল। মৃত্যুর কোনো জাতপাত নেই। মরছে সবদেশি। সবাই আমেরিকান। করোনা কোনো রাজা-উজির-ভৃত্য চেনে না। কার শরীরের কী রং, করোনা চেনে না। মারা যাচ্ছে প্রবাসী প্রিয় ভাইটি; মারা যাচ্ছে অন্য কোনো আমেরিকান; হয়তো তারও এই শহরটাকে নিয়ে গর্বের শেষ ছিল না।

করোনা মহামারির এই সময়টাতেও নিউ ইয়র্কজুড়ে অদ্ভুত এক ধরনের শৃঙ্খলাবোধ দেখে আমি রীতিমতো অভিভূত। শুধু ভয় দিয়ে এমন শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন হয় শ্রদ্ধাবোধ। নিজের প্রতি, পরিবার, কমিউনিটি, শহর—এমনকি দেশের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ। ক্রান্তিকালে সামাজিক দূরত্ব মেনেও, এখানে মানুষে মানুষে যে অদৃশ্য সম্প্রীতি দেখা গেছে, তা অনুভব দিয়ে বুঝতে হয়। যাঁদের বাইরে না গেলে চলে, নিয়ম মেনে তাঁরা নিজেদের ঘরে বন্দি রাখছেন। যাঁরা বের হচ্ছেন, এমন দুর্যোগে তাঁরা ঠিকই রাস্তায় নিয়ম মেনে গাড়ি চালাচ্ছেন। কোনো অঘটনে এখনো দ্রুত পুলিশ চলে আসছে। দূরত্ব মেনে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে মুখ ঢেকে প্রয়োজনীয় ওষুধ কিংবা খাবার কিনছে মানুষ। যেকোনো গ্রোসারি কিংবা সুপার শপে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বিক্রির কিছু নীতিমালা চালু করা হয়েছে। মানুষ সেটা চমৎকারভাবে মেনে চলছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির তেমন অবনতি হতেও দেখিনি এখনো। কেউ তো কারো খাবার ছিনিয়ে নিচ্ছে না! প্রতিটি মানুষ হৃদয় দিয়ে এই লড়াইয়ে যুক্ত।

শুরুর দিকটায় দেশটির সরকারের বিরুদ্ধে করোনা মোকাবেলায় প্রস্তুতিহীনতার জোরালো অভিযোগ ওঠে। সেই অভিযোগে বিদ্ধ হন নিউ ইয়র্কের মেয়র এবং স্টেটটির গভর্নরও। কিন্তু দুর্যোগ ঘনীভূত হওয়ার আগেই তাঁরা ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। গভর্নর এন্ডরু কুওমো রীতিমতো বীরের মর্যাদা পাচ্ছেন এখন। সেই সঙ্গে সামনে থেকে লড়ছেন মেয়র বিল ডি ব্লাজিও।  

করোনা রোগীতে ভর্তি হাসপাতালগুলো। সাধারণ অন্য জরুরি চিকিত্সায় নগরের মানুষ কী করবে, বিনা চিকিৎসায় মারা যাবে! তাতো হতে পারে না। তাই ছুটে এসেছে জাহাজ হসপিটাল ইউএসএনএস কমফোর্ট। পৃথিবী বিখ্যাত জ্যাকব জেভিট কনভেনশন সেন্টার হয়ে গেছে হাসপাতাল। মনোরম সেন্ট্রাল পার্কে গেলেও দেখবেন চিকিত্সা দেওয়ার সব ব্যবস্থা সেখানে করা হয়েছে। 

এমন উন্নত দেশে এখনো চিকিৎসা সামগ্রীর অপ্রতুলতা আছে। ঘাতকের চরিত্র ও চিকিত্সা এখনো জানা নেই। এরপরও ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীরা জান বাজি রেখে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। কারো মধ্যে পালিয়ে যাওয়ার কোনো তাড়া নেই। এত এত লাশের মিছিল; এরপরও তাঁরা দাঁড়িয়ে আছেন। পরম মমতা আর আত্মবিশ্বাসের ছোঁয়ায় তাঁরা যেন বলছেন, ‘এই মৃত্যুপুরীতে তুমি তো একা নও।’ এমনকি মৃত্যুভয় উপেক্ষা করেই একজন বাংলাদেশি ডাক্তার ফেরদৌস খন্দকার শক্ত ঝাণ্ডা নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে যান। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ওপর চাপ কমাতে তিনি বাড়ি বাড়ি গিয়ে চিকিত্সা দেওয়া শুরু করেন। খাদ্য, অর্থ সহায়তা দেওয়াসহ সমাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কথা বলে মানুষের মনোবলকে চাঙা রাখছেন তিনি। দুর্যোগে তাঁকে নানা ভূমিকায় মানুষের পাশে দেখা যাচ্ছে। তাই তো মাউন্ট সিনাই হাসপাতালের এই কৃতি মেডিসিন বিশেষজ্ঞ খবরের শিনোনাম হচ্ছেন আমেরিকার মূলধারার গণমাধ্যমেও। হাজার মাইল দূরে থেকেও জায়গা পেয়েছেন বাংলাদেশের মানুষের হূদয়ে। এরপর প্রবাসী বাংলাদেশিদের অনেকে যাঁর যাঁর অবস্থান থেকে কাজ করতে শুরু করেন।  

আমেরিকার সেনাবাহিনী, পুলিশ, জরুরি সেবাদানকারী মানুষগুলো জীবনকে সংশয়ে ফেলে দিনরাত কাজ করছেন। তাদের দেশপ্রেম আমার ভেতরে অন্য এক ভালোবাসা জাগায়। যে মানুষগুলোর প্রতিদিনের আবর্জনা নিয়ে যাওয়ার কথা, দায়িত্ব ভুলছেন না তারাও। ধনী মানুষ, করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো হাত গুটিয়ে বসে নেই। যে কারণে মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস ঘোষণা দেন করোনার প্রতিষেধক টিকা আবিষ্কারের জন্য যত অর্থ প্রয়োজন তিনি দেবেন।  

বিজ্ঞানীরা প্রতিষেধক ও ওষুধ তৈরির প্রাণান্ত চেষ্টায় আছেন। হয়তো কিছু ‘ভুল’ ছিল, তবুও করোনার বিরুদ্ধে এই যুদ্ধে দেশপ্রেমিক আমেরিকানরা যেভাবে নিজেদের আত্মোত্সর্গ করেছেন, তাতে এতটুকু ‘ভুল’ নেই।  আর লড়াইটা যার যার জায়গা থেকে। যিনি ঘরে নিজেকে বন্দি করে রেখেছেন, সেই লড়াইটাও তো কম কিছু নয়।

নিউ ইয়র্কের বাস্তবতায় বিপুলসংখ্যক কিশোর-তরুণকে ঘরে রাখা বিরাট একটি চ্যালেঞ্জ। তার জন্য নানা ব্যবস্থা করা হচ্ছে। করোনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। এমনকি স্কুল ইয়ারের বাকিটা সময় এখানে আর খুলবে না। ফলে শিক্ষাক্ষেত্রে মারাত্মক বিপর্যয় নেমে এসেছে। উন্নত দেশের সুবিধা নিয়ে যদিও এখানে বাড়ি থেকেই সবাইকে পড়াশোনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। অনলাইনে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা যার যার অবস্থান থেকে যুক্ত হয়ে চলছে পড়াশোনা। কিন্তু অনেক শিক্ষার্থীরই বাড়িতে বসে ক্লাস করার মতো প্রয়োজনীয় ল্যাপটপ কিংবা আইপ্যাড নেই। শুধু নিউ ইয়র্ক সিটিতে প্রায় তিন লাখ শিশুর বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে ল্যাপটপ। শুধু তা-ই নয় ৩৫ হাজার বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন বা প্রতিবন্ধী শিশুকে দেওয়া হয়েছে আইপ্যাড। আর সিটির বাইরে গোটা স্টেটে এই সংখ্যা অনেক বেশি। শুধু নিয়মিত স্কুল কার্যক্রম নয়; নাচ, গান, এমনকি মার্শাল আর্টের মতো সহশিক্ষা কার্যক্রমও চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে অনলাইনের মাধ্যমে। এসব কর্মকাণ্ড দিয়ে স্কুলের মতো করে সব কিছু হচ্ছে না; এটা ঠিক। কিন্তু চেষ্টার কোনো ত্রুটি করা হচ্ছে না; আমি শুধু সে কথাই বলতে চেয়েছি।   
করোনার এপিসেন্টার হিসেবে নিউ ইয়র্ক ধুঁকছে ঠিকই; কিন্তু অসংখ্য মানুষের প্রার্থনাও আছে এই শহরের জন্য। এই শহরেই জাতিসংঘের সদর দপ্তর। আছে গুরুত্বপূর্ণ নানা প্রতিষ্ঠান। প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে, কত কারণে পৃথিবীর প্রতিটি দেশের মানুষকে আসতে হয় এই শহরে। এই শহরে মশাল হাতে দাঁড়িয়ে থাকা স্ট্যাচু অব লিবার্টি সাম্যের কথা বলে। এলিস আইল্যান্ড দিয়ে শত শত অভিবাসন প্রত্যাশী ঢুকেছিল এই দেশে; সেটা নিশ্চয়ই কেউ ভুলে যায়নি। গোটা আমেরিকাকে যে বলা হয় অভিবাসীদের দেশ, সেই সম্মান ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করেছে এই নিউ ইয়র্ক। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় এই শহরের মেডিসন স্কয়ার গার্ডেনে হয়েছিল ঐতিহাসিক ‘দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’। এতে নেমেছিল মানুষের ঢল। বিদেশি বন্ধুদের সেই অকৃত্রিম ভালোবাসার কথা আমরা তো ভুলে যাইনি। 

হাডসন নদীর পারে দাঁড়িয়ে থাকা শহরটি আপন উজ্জ্বলতায় আবারও ঘুরে দাঁড়াবে। নিউ ইয়র্ক তার মূল্যবোধ আর আভিজাত্য নিয়েই এগিয়ে যাবে। এই শহরে থাকে অসংখ্য মানুষ। এই শহরে থাকি আমিও। করোনায় প্রচণ্ড ধুঁকতে থাকা নিউ ইয়র্কের প্রতি ভালোবাসা জানাতে কয়েক দিন আগে একটি হ্যাশট্যাগ চালুর প্রস্তাব দিয়েছিলাম আমি এবং আমার স্ত্রী আশরাফুন নাহার লিউজা। এতে সাড়া দিয়ে অন্তত বাংলাদেশি কমিউনিটির অসংখ্য মানুষ তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে #LoveYou NewYork লিখেছিলেন; এখনো লিখছেন। নিউ ইয়র্কের জন্য আমাদের অতল ভালোবাসা।  
 
লেখক : কালের কণ্ঠ’র উত্তর আমেরিকার বিশেষ প্রতিনিধি

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা