kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ২ জুন ২০২০। ৯ শাওয়াল ১৪৪১

মৃত্যুপুরীতে যেন স্বর্গরাজ্য! যে জাদুবলে এই শহরকে ছুঁতে পারেনি করোনা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৪ এপ্রিল, ২০২০ ১৫:১৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মৃত্যুপুরীতে যেন স্বর্গরাজ্য! যে জাদুবলে এই শহরকে ছুঁতে পারেনি করোনা

মৃত্যুপুরীতে এ যেন একটুকরো স্বর্গরাজ্য। কোনো আতঙ্ক নেই, দুশ্চিন্তা নেই। সবাই এখানে নিরাপদ। জীবন যে পথে চলছিল, সে পথেই চলছে আজও। মহামারি করোনাভাইরাস গোটা দেশকে ছারখার করে দিলেও স্পেনের এই শহরকে ছুঁতে পর্যন্ত পারেনি। পাহাড়ঘেরা ছবির মতো সুন্দর স্পেনের সেই জাহারা দে লা সিয়েরা নামের শহরটি দুর্যোগের মাঝেও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে যেন বলতে চাইছে, আমি অমর।

স্পেনের দক্ষিণাংশের জাহারা দে লা সিয়েরা শহরটি প্রায় দুর্গের মতো। এর ভৌগলিক অবস্থান নিজেকের বিচ্ছিন্ন করে রাখার পক্ষে প্রাকৃতিকভাবেই সুবিধাজনক। পাহাড়ের কোলে ছোট ছোট বাড়ির মাঝে নির্দিষ্ট দূরত্ব। নিচে নামলেই নীলচে হ্রদ। বাসিন্দার সংখ্যা মাত্র ১৪০০। এই শহর নিজেই যেন একটা পৃথিবী! বহির্জগতের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য পাঁচটি প্রবেশদ্বার রয়েছে জাহারা শহরে।

গত ১৪ মার্চ স্পেনে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে সতর্কবার্তা পেয়েই শহরটির মেয়র সান্তিয়োগো গ্যালভান পাঁচটি প্রবেশদ্বারের চারটিতেই কার্যত তালা লাগিয়ে দেন। প্রায় বিচ্ছিন্ন করে দেন নিজের শহর জাহারা দে লা সিয়েরাকে। আর শহরবাসীকে নামিয়ে দেন সাফাইকাজে। প্রত্যেকটি গাড়ি, গাড়ির টায়ার থেকে শুরু করে রাস্তা, বাড়ি সব প্রতিদিন নিয়মিত পরিষ্কার করা হয়। 

একটি প্রবেশদ্বারের চেকপয়েন্টে মাত্র একজন নিরাপত্তারক্ষী। তার পরনে সুরক্ষা পোশাক। কোনো সংক্রমণ ধারেকাছে ঘেঁষার উপায় নেই। মেয়রের কথায়, চেকপয়েন্ট দিয়ে এমন কোনো গাড়ি শহরের ভেতরে আসছে না, যা ঠিকমতো ডিসইনফেক্ট করা নেই। আমরা নিজেদের এবং প্রতিবেশী শহরগুলোকে নিরাপদে রাখতে এই পদক্ষেপ নিয়েছি।

আর যে বাসিন্দারা দায়িত্ব নিয়ে নিজেরাই নিজেদের নিরাপদে রাখার কাজে নেমেছেন, তাদের সকলের কাছেই রয়েছে সুরক্ষার সরঞ্জাম। নিজেদের কাজ থেকে সময় বের করেই তারা বাড়ি আর রাস্তা পরিষ্কার করছেন। তারও আবার রুটিন বেঁধে দিয়েছেন মেয়র। প্রতি সোম আর বৃহস্পতিবার ১০জন করে বাসিন্দা শহরের সমস্ত মল, বিল্ডিং, রাস্তা পরিষ্কার করবেন। পেশায় কৃষক, আন্তোনিও আতিয়েঞ্জা নিজের ট্রাক্টর নিয়ে স্প্রে করেন শহরের রাস্তায়। দুই নারীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, শহরের প্রবীণদের বাড়ি বাড়ি প্রয়োজনীয় খাবার আর ওষুধ পৌঁছে দেওয়ার। দিনের মধ্যে ১১ ঘণ্টা তারা সেই কাজই করছেন। বয়স্কদের যাতে বাড়ি থেকে না বেরতে হয়, তার জন্যই এই পদক্ষেপ। 

অক্সি রাসকন নামে এক বাসিন্দা বলছেন, আমরা খুব খুশি, চিন্তা নেই। জানি, এখানে সবাই মিলে নিরাপদে থাকব। আসলে আমাদের মেয়র ঠিক সময়ে ঠিক সিদ্ধান্তটাই নিয়েছেন।

শহরটিকে নিরাপদে রাখতে ছোট্ট পদক্ষেপ, শুধু বাইরের সঙ্গে যোগাযোগের সিংহভাগ পথ বন্ধ করে দেওয়া। আর তার প্রভূত সাফল্য পেল জাহারা দে লা সিয়েরা। গোটা দেশে করোনা ভাইরাসের ছোবলে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি, আক্রান্ত আরো কতো বেশি। চিকিত্‍সকরা পর্যন্ত জানিয়ে দিচ্ছেন, সবাইকে সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। সেখানে জাহারায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা শূন্য।

সময়মতো উচিত সিদ্ধান্ত নিয়েই এই ছোট্ট শহর বড়দের শিখিয়ে দিল। চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, সঠিক সময়ে কাজ করলে শত্রু যতই শক্তিশালী হোক, রুখে দেওয়া সম্ভব।

সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা