kalerkantho

বুধবার । ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৩ জুন ২০২০। ১০ শাওয়াল ১৪৪১

বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন

করোনাভাইরাস কি মৃত্যুর একমাত্র কারণ?

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২ এপ্রিল, ২০২০ ১৬:৪৭ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



করোনাভাইরাস কি মৃত্যুর একমাত্র কারণ?

প্রতিদিন করোনাভাইরাসে মৃত্যুর নতুন সংখ্যা সম্পর্কিত খবর মানুষজনের মনে আতঙ্ক যেন আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। করোনাভাইরাসে পুরো বিশ্বের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা যেন কার্যত থমকে গেছে।

মৃত্যুর হার সম্পর্কে যে পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে তাতে বিভিন্ন দেশে লকডাউনের সময়সীমা বাড়ছে। কিন্তু শুধু করোনাভাইরাসে মৃত্যু আসলে কত?

করোনাভাইরাসই কী আসলে মৃত্যুর মুল কারণ?

কোন রোগীর মৃত্যুর সময় শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি থাকলে হাসপাতালগুলো তা আলাদা করে হিসেব রাখছে। এভাবেই জানা যাচ্ছে করোনাভাইরাসে মৃত্যুর সংখ্যা।

একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হল, করোনাভাইরাস সংক্রমিত অবস্থায় যারা মারা যাচ্ছেন, তাদের বেশিরভাগেরই শরীরে আগে থেকেই অন্য কোন ধরনের শারীরিক সমস্যা উপস্থিত ছিল। যেমন ডায়াবেটিস বা হৃদযন্ত্রের সমস্যা।

মৃত্যুর হার সম্পর্কে যে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে তা দেখে বোঝা যাচ্ছে না শুধু করোনাভাইরাসেই কজন মারা যাচ্ছে, নাকি জটিল শারীরিক সমস্যার সাথে করোনাভাইরাস একটি প্রভাবক হিসেবে যুক্ত হয়ে মৃত্যুর গতি তরান্বিত করছে।

কভেন্ট্রিতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ার পরদিন মারা যান ১৮ বছর বয়সী একজন কিশোর। তার মৃত্যুর পরদিন হাসপাতাল থেকে এক বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে তার শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থাকলেও তার মৃত্যুর কারণ শরীরে উপস্থিত অন্য একটি জটিল সমস্যা।

কিন্তু অন্য অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে করোনাভাইরাসে সংক্রমণের পর মৃত্যু হয়েছে কিন্তু তাদের অন্য কোন ধরনের জটিল শারীরিক কোন সমস্যা ছিল না।

ব্রিটেনের জাতীয় পরিসংখ্যান সংক্রান্ত দপ্তর এখন নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করছে শুধু করোনাভাইরাসে মৃত্যুর হার আসলে কত।

মৃত্যুর হার কত দাঁড়াতে পারে?

ইমপেরিয়াল কলেজ একটি পূর্বাভাসে বলা হয়েছিল, মৃত্যু ঠেকাতে যদি কিছুই করা না হয় তাহলে যুক্তরাজ্যে পাঁচ লাখের বেশি মৃত্যু হতে পারে।

তাদের হিসেব অনুযায়ী ভাইরাসের সংক্রমণ কমে এলে, সংক্রমিত ব্যক্তি ও দুর্বল ব্যক্তিদের আলাদা করে রাখার বিষয়টি চালিয়ে গেলে মৃত্যু হবে আড়াই লাখ পর্যন্ত।

আর ভাইরাসটি কঠোরভাবে দমন করা, স্কুল বন্ধ রাখা, লকডাউন করে মানুষজনকে সফলভাবে সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন রাখা, সংক্রমিত ব্যক্তি ও দুর্বল ব্যক্তিদের আলাদা রাখতে পারলে যুক্তরাজ্যে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াবে কুড়ি হাজার।

এমনিতেই যুক্তরাজ্যে প্রতি বছর ছয় লাখের মতো মানুষের মৃত্যু হয় যাদের মধ্যে রয়েছেন বয়স্ক ব্যক্তিরা।

কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক স্যার ডেভিড স্পিজেলহল্টার বলছেন, ৮০ বছরের উপরে বয়স এমন ব্যক্তিদের ১০ শতাংশ সাধারণভাবেই মারা যান।

করোনাভাইরাস হোক আর না হোক। এসব শারীরিকভাবে দুর্বল বয়স্ক ব্যক্তিরা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে সেটিকে ঠিক কিসে মৃত্যু বলে বিবেচনা করা হবে এমন প্রশ্ন উঠছে।

তবে স্বাভাবিক সময়ের মৃত্যু সারা বছর জুড়েই ধীরে ধীরে হতে থাকে। কিন্তু করোনাভাইরাস আক্রান্ত হওয়ার পর খুব অল্প সময়ের মধ্যে অনেক বেশি মৃত্যু হতে পারে।

লকডাউন কতটা কাজে লাগে?

আগামী কয়েক সপ্তাহে করোনাভাইরাস সংক্রমণ স্বাস্থ্যসেবা খাত কতটা সামাল দিতে পারে তাতে বোঝা যাবে ভাইরাসটি দমনে নেয়া নানা পদ্ধতি কতটা কাজে এলো।

প্রতি বছরের গড় মৃত্যুর সাথে বাড়তি মৃত্যুর হিসেব আগামী দিনে আরও বিস্তারিত জানা যাবে। তবে ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন একটি মডেল তৈরির চেষ্টা করছে।

করোনাভাইরাস যদি অতটা মারাত্মক প্রাণঘাতী আচরণ না করে তাহলে লকডাউনের কারণে যুক্তরাজ্যে বাড়তি মৃত্যুর সংখ্যা ১৪শ'র মতো হতে পারে।

লকডাউন ঘোষণার আগে সংক্রমণ ধীর করার যে পদ্ধতি ঘোষণা করা হয়েছিল তাতে আরও ১২ হাজার লোক মারা যেত। তবে লকডাউন পদ্ধতিও অন্য ধরনের মৃত্যু বাড়িয়ে দিতে পারে।

যেমন: একা থাকার কারণে আত্মহত্যা, ঘরে বসে থাকার কারণে হৃদযন্ত্রের সমস্যাজনিত মৃত্যু। লকডাউনের কারণে বেকারত্ব বৃদ্ধি এবং এর ফলে এটি সুস্থ জীবনযাপনের ক্ষমতা অনেকের কমে যাবে সেটিও কোন শারীরিক সমস্যা ত্বরান্বিত করতে পারে।

লকডাউনের কারণে অন্য অনেক অসুখের নিয়মিত পরীক্ষা কম হচ্ছে, যেমন: ক্যান্সার। এতে অনেক রোগ সময়মত শনাক্ত হবে না।

অনেক অস্ত্রোপচার বিলম্বিত হচ্ছে এসব কারণেও অনেক মৃত্যু তরান্বিত হতে পারে।

লকডাউন করোনাভাইরাসের সংক্রমণ কমিয়ে আনলেও অর্থনৈতিক মন্দার কারণে সৃষ্ট নিম্নমানের জীবনযাপন মানুষের গড় আয়ু কমিয়ে দিতে পারে।

নিম্নমানের জীবনযাপন গড়ে তিন মাসের মতো মানুষের আয়ু কমিয়ে দিতে পারে। স্বাস্থ্যসেবা খাতেও অর্থনৈতিক মন্দা প্রভাব ফেলতে পারে। এখন করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রশমিত করাই মুল উদ্দেশ্য।

প্রাদুর্ভাব কমে এলে দ্রুতই সিদ্ধান্ত নিতে এর পরবর্তী করনীয়। করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন বাজারে আসতে এখনো বছরখানেক লাগবে।

তারমানে করোনাভাইরাস সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা গেলেও একেবারে গায়েব হয়ে যাবে না।

সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল দ্বিতীয় দফায় সংক্রমণ প্রতিরোধ এবং একই সাথে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্বাভাবিক পর্যায়ে নিয়ে আসা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা