kalerkantho

রবিবার। ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৭ জুন ২০২০। ১৪ শাওয়াল ১৪৪১

সীমান্ত পেরিয়ে ভালোবাসা, দুই বৃদ্ধের কাছে করোনার হার!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১ এপ্রিল, ২০২০ ২১:২৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সীমান্ত পেরিয়ে ভালোবাসা, দুই বৃদ্ধের কাছে করোনার হার!

করোনার ভয়াল থাবায় বিশ্বজুড়ে চলেছে সুদীর্ঘ এক মৃত্যুমিছিল। মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় অর্ধলক্ষ ছুঁতে চলেছে। আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৯ লাখ। দেশের পর দেশ লকডাউন। বাড়ি থেকে বেরোনো বারণ, বারণ মানুষের সঙ্গে মানুষের সময় কাটানো। কত মানুষ এই সামাজিক দূরত্বে বিরহ-ব্যথায় কষ্ট পাচ্ছেন, কত মানুষ আরও দূরে সরে যাচ্ছেন প্রিয়জনের থেকেও। গোটা বিশ্ব যেন এক বিষণ্ণতায় ডুবে যাচ্ছে ক্রমশ।

কিন্তু ভালবাসা নাকি সর্বজয়ী! সে নাকি কোনও প্রতিকূলতা মানে না! ভয়াবহ করোনা পরিস্থিতিতেও দুই বয়স্ক মানুষকে দেখে এই কথা ফের একবার প্রমাণ করা যেতে পারে এই দূরত্বের দুঃসময়ে। তাদের এক জন থাকেন ডেনমার্কে, অন্য জন জার্মানিতে। পরস্পরকে ভালবাসেন তারা। আর সেই ভালবাসা দু'জনের মাঝের সীমান্তের বাধা ভেঙে দিয়েছে অনায়াসে। জয় করেছে করোনার ভয়কেও।

ডেনমার্কের বাসিন্দা ৮৫ বছরের ইনগা রাসমুসেন ও জার্মান নাগরিক ৮৯ বছর বয়সি কার্স্টেন টুচসেন হ্যানসেন একাই থাকতেন দীর্ঘ দিন। বছর দুয়েক আগে পরিচয় হয় তাঁদের, তার পরে গড়ে ওঠে বন্ধুত্বেক সম্পর্ক। একলা থাকা এই দু'জনের বন্ধুত্বের বন্ধন কখন যেন পরিণত হয় ভালবাসায়। তাই প্রায়ই তারা দেখা করতে শুরু করেন। তাঁরা গল্প করতেন, ঘুরে বেড়াতেন, ভাগ করে নিতেন পরস্পরের সুখ-দুঃখ। বয়সকালে এক অনাবিল সম্পর্কের স্বাদ পেয়েছিলেন তাঁরা। তবে সব ওলোটপালোট হয়ে গেল করোনার দাপটে।

জার্মানিতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ৬৩ হাজার। ডেনমার্কে এই সংখ্যা ২ হাজার ৫০০। দু'টি দেশই লকডাউন। সীমান্তও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে দু'সপ্তাহের বেশি সময় হয়ে গেল, একসঙ্গে দেখা করা, ঘোরা-ফেরা সব বন্ধ হয়ে গেছে এই প্রবীণ যুগলের। ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে এমনিতে ভিসা ছাড়াই যাওয়া আসার ব্যবস্থা রয়েছে। তাই জার্মানি ও ডেনমার্ক– এই দুই প্রতিবেশী দেশের সীমান্ত তাদের প্রেমে বাধা হয়নি কখনও। তবে করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে সেই সীমান্তই বাধা হয়েছে এখন।

তার উপরে চলছে লকডাউন। এতে বিপাকে পড়েন এই প্রবীণ যুগল। কীভাবে দেখা করা যায়, সে উপায় খুঁজতে থাকেন তারা। আর অল্প সময়ের মধ্যেই একটা উপায় বের করে ফেলেন। ডেনমার্কের শহর গেলেহাসের বাসিন্দা রাসমুসেন এবং জার্মান শহর সাডারলাগামের বাসিন্দা হ্যানসেন রোজই খানিকটা করে পথ পেরিয়ে চলে আসেন সীমান্ত শহর আভেনটফটে। জার্মানি থেকে ই-বাইক চালিয়ে আসেন হ্যানসেন। রাসমুসেন আসেন গাড়ি চালিয়ে।

এসে পৌঁছনোর পরে একজন থাকেন নিজের দেশের সীমান্তের পারে, অপরজন থাকেন অন্য পারে। চেয়ার পেতে বসেন তারা, দূরত্ব মেনে, নিয়ম মেনে। জড়িয়ে ধরা, চুমু খাওয়া, নিদেনপক্ষে একটু হাত মেলানো– কিছুই সম্ভব হয় না। তাতে কী! দেখা তো হয়। কয়েক ঘণ্টা গল্প করেন দুজন।

প্রতিদিনই কিছু না কিছু থাকে হ্যানসেনের হাতে। কখনো এক বোতল লেমনেড, টুকটাক খাবার। অবশ্য রাসমুসেন কফিতেই আসক্ত বেশি। কারণ, তাঁকে গাড়ি চালিয়ে সেখানে আসতে হয়। এভাবে কফি-লেমোনেড পান করতে করতে চলে তাদের আড্ডা। নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখেও, নিজের নিজের দেশের সীমান্তের মধ্যে থেকেও দু'জন দু'জনের মুখোমুখি সময় কাটান রোজ। তারা আগে একসঙ্গে বেড়াতেও গেছেন। পরিস্থিতি যখন স্বাভাবিক হবে, তখন তাঁরা আবার একসঙ্গে বেড়াতে যাবেন বলে পরিকল্পনা করছেন।

সূত্র- ইন্ডিয়া টাইমস।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা