kalerkantho

সোমবার । ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ১  জুন ২০২০। ৮ শাওয়াল ১৪৪১

করোনায় সন্তান দূরে, এবার টর্নেডোয় ঘর উড়ে গেল চিকিৎসকের

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৩০ মার্চ, ২০২০ ১৭:২৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনায় সন্তান দূরে, এবার টর্নেডোয় ঘর উড়ে গেল চিকিৎসকের

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আরকানসাসের জোন্সবারো নামক এলাকার বাসিন্দা ড. জ্যারেড বার্কস। পেশায় তিনি একজন চিকিৎসক। স্থানীয় এক হাসপাতালে কাজ করেন। করোনার মহামারির এই সময়ে তিনি সেবা করে যাচ্ছেন রোগীদের। একদিন কাজের ফাঁকে বাড়িতে আসেন তিনি। করোনার ভয়ে বাড়িতে ঢুকেননি। তবে কাচের দেয়ালের ওপার থেকে নিজের শিশু সন্তানের হাতে হাত রাখেন। আর সেই ছবিটিই এখন ভাইরাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

গত দুই সপ্তাহ ধরে ড. জ্যারেড বার্কস নিজের পরিবার থেকে নিজেকে আলাদা করে রেখেছেন। তিনি করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছেন। তাই তিনি পরিবারের সদস্যদের নিরাপদে রাখার জন্যই আলাদা থাকছেন। অ্যালিসা বার্কস বলেন, একদিন জ্যারেড বাসায় আসে। তারপর জেকে দেখতে পায় যে তার বাবা দরজার কাছে পৌঁছে গেছে। পরে দরজার কাছে গিয়ে কাচে ধরে। এমন সময় তার বাবাও হাতে হাত রাখে।  আমার মনে হয় সে তার বাবাকে ধরতে চেয়েছিল। এটা খুব কঠিন সময় ছিল। কিন্তু আবার অনেক সুন্দর দূশ্য ছিল।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, ভাইরাল হলেও এখন শুধুই স্মৃতি এই ছবিটি। কারণ গত শনিবার টর্নেডো আঘাত হানে জোন্সবারোতে। টর্নেডো যখন আঘাত হানে জ্যারেডের স্ত্রী অ্যালিসা বার্কস মায়ের বাসায় ছিলেন। তার সঙ্গে ছিল এক বছর বয়সী শিশু সন্তান জেকেও। তবে বাসায় ছিলেন জ্যারেড বার্কস। 

টর্নেডোর আঘাতে ভেঙে চুরমার হয়ে যায় তাদের বাড়িটি। কিন্তু বেঁচে যান জ্যারেড। এক ফেসবুক পোস্টে জ্যারেডের স্ত্রী অ্যালিসা বার্কস জানানা, তারা সবাই নিরাপদে আছেন। সুস্থ রয়েছেন জ্যারেডও। তিনি বলেন, আমাদের বাড়ি ভেঙে গেছে। জ্যারেড ভেতরে ছিল, কিন্তু ঈশ্বরের কৃপায় বেঁচে গেছে। জেকে ও আমি আমার মায়ের বাড়িতে ছিলাম।

টর্নেডোর আঘাতে আরকানসাসের বেশ ক্ষতি হয়েছে। অঙ্গরাজ্যটির ২২ জন মানুষ আহত হয়েছেন। তাদের বাড়িটি ভেঙে যাওয়ার পর অ্যালিসা বন্ধু ইভান ক্লোয়ার একটি তহবিল খুলে মানুষকে সাহায্যের জন্য আহ্বান জানান। তাদের বাড়িটি নির্মাণ করার জন্যই এই তহবিল খোলা হয়। সেখানে এখন পর্যন্ত ৫০ হাজার ডলার জমা পড়েছে।

করোনায় কাঁপছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। করোনার বিস্তার রুখতে দেশটির স্বাস্থ্যকর্মীরা দিনের পর দিন কাজ করে চলেছেন। কিন্তু আক্রান্তের সংখ্যা সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছেই। দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এক লাখ ৪২ হাজার সাতশ ৩৭ জন। আর এই মারণ রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন দুই হাজার চারশ ৮৯ জন।

সূত্র: সিএনএন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা