kalerkantho

শুক্রবার । ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৫ জুন ২০২০। ১২ শাওয়াল ১৪৪১

সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি কি করোনার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে?

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৭ মার্চ, ২০২০ ২১:৫২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি কি করোনার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে?

করোনাভাইরাস সংক্রমণ তাপ, আর্দ্রতা ও জনসংখ্যার ঘনত্বের ওপর প্রভাব ফেলছে। সেই কারণে উত্তর গোলার্ধে বসন্ত এবং গ্রীষ্মের সময় গরম আবহাওয়ায় করোনাভাইরাসে আক্রান্তের হার হ্রাস পেতে পারে। যদিও এই বিষয়টি সম্পর্কে বিভিন্ন মতামত রয়েছে।

সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাব এমনকি তাপ ও আর্দ্রতার চেয়েও বড় ভূমিকা নিতে পারে। করোনা সংক্রমণের হার কমাতে জলবায়ু ও আবহাওয়ার ভূমিকা থাকতে পারে বলে সম্প্রতি এক গবেষণায় ওঠে এসেছে। আমেরিকায় গ্রীষ্মকালের সময় এই ভাইরাস কি ধরনের আচরণ করবে তা নিয়ে নতুন সূত্র পাওয়া গেছে। বিশেষত, আইসল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়ায় মাথাপিছু সংক্রমণের হারের ওপর নজর দেওয়া সম্ভবত বিশ্বজুড়ে কোভিড-১৯ এর প্রসারণে অতিবেগুনি রশ্মির সম্ভাব্য প্রভাবের ঝলক দিতে পারে। 

মঙ্গলবার পর্যন্ত আইসল্যান্ডে মাথাপিছু নিশ্চিত করোনাভাইরাস আক্রান্তের শীর্ষ হারের মধ্যে ০.‌১৭৭ শতাংশ, অর্থাত্‍ ৩৬৪,২৬০ জনসংখ্যার মধ্যে ৬৪৮ জন। অস্ট্রেলিয়ার নিশ্চিত সংক্রমণের হার মাত্র ০.০০৮৩ শতাংশ, ২৫.৪ মিলিয়ন লোকের জনসংখ্যার মধ্যে ২,০৪৪ জন আক্রান্ত। এর অর্থ হলো অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে আইসল্যান্ডে সংক্রমণের হার ২২ গুণ বেশি।

তাপ ও আর্দ্রতা বৈষম্যের ক্ষেত্রে ভূমিকা নিতে পারে, ইউভি রশ্মির প্রভাবের দিকে নজর দেওয়া থেকে জানা যায় যে এটি অন্য দুটি আবহাওয়ার কারণের তুলনায় আরো তাত্‍পর্যপূর্ণ হতে পারে। অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ১ জানুয়ারি ২০২০ সাল থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত গড় তাপমাত্রা ছিল ৭৪.‌৮ সেন্টিগ্রেড যা দক্ষিণ গোলার্ধে গ্রীষ্মের মৌসুম বলে পরিচিত। ওই একই সময়ে আইসল্যান্ডের রিকজাভিকে গড় তাপমাত্রা ৩২.‌১ সেন্টিগ্রেড, যা উত্তর গোলার্ধে শীতের মৌসুম।

আরো কাছ থেকে তুলনা করার জন্য অ্যাকুওয়েদার ওই সময়ের এক শীতের অভিজ্ঞতা রয়েছে এমন শহরের সঙ্গে তুলনা করে। আইসল্যান্ডের গড় তাপমাত্রা ওই সময় শিকাগো শহরের (‌৩২.‌৬ সেন্টিগ্রেড)‌ সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে। তবে শিকাগোর করোনাভাইরাস মাথাপিছু ক্ষেত্রে যথেষ্ট পরিমাণে হ্রাস পেয়েছিল (‌০.‌০১৭৮ শতাংশ, ২‌৪ মিলিয়ন জনসংখ্যার মধ্যে ৪৯০টি কেস)‌, আইসল্যান্ডের হার শিকাগোর হারের চেয়ে প্রায় ১০ গুণ বেশি বেড়েছে।

হংকংয়ের এক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জন নিকোলস জানান, করোনাভাইরাসের জীবাণু সূর্যের রশ্মিতে ধ্বংস হতে পারে। অ্যাকুওয়েদারের পক্ষ থেকে নিকোলসের দলের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা জানান যে সূর্যের রশ্মি ফ্লু-এর জীবাণুসহ অন্য জীবাণুর মতো কোভিড-১৯ ভাইরাসের ওপর প্রভাব ফেলে কি-না তা তারা অনুসন্ধান করে দেখছেন।

আইসল্যান্ডে কম সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি। কারণ আইসল্যান্ডটি এতটাই উত্তরে অবস্থিত, এর অক্ষাংশ ৬৪.১ এবং এর মূলভূমিটি আর্কটিক সার্কেল থেকে মাত্র কয়েক ডিগ্রি দক্ষিণে, তাই এই দেশটি অন্য দক্ষিণ শহরগুলোর তুলনায় সূর্য এবং সৌর তীব্রতা অনেক কম লাভ করে। আইসল্যান্ডে ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শিকাগোর তুলনায়, বিশেষ করে সিডনির থেকে কম অতিবেগুনি রশ্মি পেয়েছে।

শীতকালেও আইসল্যান্ডে অতিবেগুনি রশ্মি থাকে না বললেই চলে। শিকাগোতে শীতকালে অতিবেগুনি রশ্মি কিছুটা হলেও পাওয়া যায় এবং এই দুই শহরের থেকে সিডনিতে বেশি অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাব পাওয়া যায়। আইসল্যান্ডের জন্য সুসংবাদটি হলো বসন্তকাল গ্রীষ্ম পর্যন্ত অব্যাহত থাকায় এটি আরো বেশি পরিমাণে ইউভি অনুভব করতে থাকবে যা সম্ভবত এর করোনাভাইরাস কেসে প্রভাব ফেলতে পারে।

সূত্র: ওয়ানইন্ডিয়া।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা