kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ২৯  মে ২০২০। ৫ শাওয়াল ১৪৪১

বিশেষায়িত কমিটির মাধ্যমে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকানোর কার্যক্রম চালানো প্রয়োজন

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৭ মার্চ, ২০২০ ২০:২৭ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিশেষায়িত কমিটির মাধ্যমে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকানোর কার্যক্রম চালানো প্রয়োজন

ডাঃ জাহেদ মোহাম্মদ মালেকুর রহমান। কাতার সরকারের পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ হিসেবে কর্মরত বাংলাদেশী চিকিৎসক। এখন তো আছেন কাতারের COVID-19 পরিস্থিতিতে CDC unit এর সঙ্গে। 

কাতার সরকার শুরু থেকে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। সংক্রমণ ঠেকাতে নানাবিধ পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করেছে। এসব বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত আছেন এই চিকিৎসক। 

তিনি কাতারে বসে বাংলাদেশের করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকারের পদক্ষেপ এবং জনগণের দিকে নজর রাখছেন। 

বাংলাদেশ সরকার এবং জনগণের করণীয় সম্পর্কে তিনি তাঁর মতামত তুলে ধরেছেন। যা কালের কণ্ঠ পাঠকের জন্য তুলে ধরা হলো :

বাংলাদেশ কেন বেশি ঝুঁকিতে পড়ল?
যা ঘটে গেল তার ক্ষতি কোনভাবেই পোষানো সম্ভব নয়। তারপরও  কারণগুলো খতিয়ে দেখতে হবে। না হলে আরো ক্ষতির মুখে পড়তে হবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না।

প্রথমত - স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে আরো দক্ষতা এবং যোগ্যতার প্রমাণ দিতে হবে। মন্ত্রী স্বয়ং ডাক্তার না হলে ছাড় দেওয়া যেত, যে তিনি বোঝতে সক্ষম হন নি। 
যেকোন জরুরী পরিস্থিতি মোকাবেলায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কতখানি প্রস্তুত?  কারণ এটি সাধারণ মন্ত্রণালয় না। মৌলিক এবং ইমার্জেন্সি।

দ্বিতীয়ত- ইতালিসহ বিদেশ ফেরতদের শতভাগ কোয়ারান্টাইন করতে ব্যর্থ হওয়া।

তৃতীয়ত- যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু রেখে ছুটি ঘোষণা করা। বলা উচিত ছিল- যে যে অবস্থানে আছে তাঁর অবস্থান বদল না ঘটানো। সেটা সম্ভব হতো যদি আগেই যোগাযোগ বন্ধ ঘোষনা করতো। অনেকে হয়তো বলবেন, ঢাকা ক্লিয়ার করা দরকার ছিল। ঝুঁকি যেহেতু ঢাকায় বেশি। কিন্তু ঢাকায় কন্ট্রোল করা যত সহজ, গ্রামে তত সহজ না। তাছাড়া টেস্ট সুবিধা বা কেইস ট্রেসিং ঢাকায় সহজ হতো এবং তা টেস্ট করাও সহজ হতো। এখন অবস্থা হবে অসহায়ের মত চেয়ে থাকা। 

এখন যা দরকার :

১. স্বাস্থ্য মন্ত্রী ও মন্ত্রণালয়ের যোগ্যতা ও দক্ষতার বাস্তব প্রতিফলন দেখানো।

২. স্বাস্থ্যঅধিদপ্তরের নিয়মিত তথ্য পরিবেশন স্বচ্ছতার সাথে চালিয়ে যাওয়া। তথ্য গোপন কোনোভাবেই ভালো ফল তো দেবে না। বরং আরো খারাপ হবে।

৩. সঠিক ও প্রকৃত অবস্থা জানলে স্বেচ্ছাসেবক সংগঠনগুলো ও তাঁদের করণীয় নির্ধারণ করতে পারবে এবং situational analysis করে সবাই সহযোগিতা করতে আগ্রহী হবে।

৪. গরীব ও মেহনতি মানুষের খাদ্য ও ঔষধ 
সরবরাহ সরাসরি রাষ্ট্র কর্তৃক পালন করা। সরকারের পাশাপাশি বিত্তবানদের এগিয়ে আসা।

৫. উপরের সব কাজ সুচারুভাবে সম্পন্ন করতে সর্বদলীয় ব্যক্তিবর্গ ও অবসরপ্রাপ্ত অভিজ্ঞ লোকদের সম্পৃক্ত করা।  ঐক্যবদ্ধ্ ভাবেই দূর্যোগ মোকাবেলায় সরকারকে দৃশ্যমান উদ্যোগ নিতে হবে। 

৬. বেসামরিক ও সামরিক বাহিনীর সদস্যের ঐ কমিটির তত্বাবধানে রাখতে হবে।

৭. পর্যাপ্ত পরিমাণে diagnostic kits, and test এর জন্য মানসম্মত laboratory সংখ্যা বাড়াতে হবে। সারাদেশে PPE সহ test kits পর্যাপ্ত পরিমাণে সারাদেশে দ্রুত সরবরাহ করতে হবে। 

জেলা উপজেলা পর্যায়ে বিদেশ/বহিরাগত/ এদের সংস্পর্শে আসা/COVID-19 এর প্রাথমিক উপসর্গ আছে এমন প্রত্যেক ব্যক্তিকে বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিন এবং এদের প্রত্যেককে test এর মাধ্যমে COVID-19 তে‌ আক্রান্ত রোগী চিহ্নিত করে দ্রুত isolation ও উপযুক্ত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।

হাসপাতালগুলোতে‌ পর্যাপ্ত isolation room, number of bed, ICU facilities নিশ্চিত করতে হবে।

এছাড়াও নিম্নে বর্ণিত বিষয় গুলো বিবেচনা করা যেতে পারে।

১. জরুরী পরিস্থিতি ঘোষণা করে একটি বিশেষভাবে ক্ষমতায়িত কমিটি করা যেতে পারে। তাঁরা রাষ্ট্রীয়ভাবে সারাদেশে করোনাভাইরাস প্রতিরোধ, প্রতিকার ও চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, IEDCR প্রতিনিধি, সেনাবাহিনী, পুলিশ, NGO প্রতিনিধি, প্রাক্তন সৎ ও যোগ্য এ বিষয়ে অভিজ্ঞ চিকিৎসক ও কর্মকর্তাদের নিয়ে কমিটি গঠন করা যেতে পারে। তাঁরা এই বৈশ্বিক সংকট মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় সকল ধরনের সিদ্ধান্ত নিবেন ও তা বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবেন।

২. যে সকল দেশ সবচেয়ে বেশি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে ও সফলভাবে নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে, সে সকল দেশের সাথে রাষ্ট্রীয় ও কূটনৈতিকভাবে যোগাযোগ করে, COVID-19 এর চিকিৎসা ও প্রতিরোধ সম্মন্ধে তাদের অভিজ্ঞতা জানতে হবে। আক্রান্ত রোগী সনাক্ত হ‌ওয়ার প্রথম দিন থেকে শুরু করে রোগের ‌প্রতিটা stage চিকিৎসা ও করণীয় বিষয় গুলো নিয়ে একটি guideline/protocol তৈরি করে তা সারাদেশের হাসপাতালে পাঠাতে হবে এবং তার বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। সেজন্য পর্যাপ্ত প্রয়োজনীয় ঔষধ ও সরঞ্জাম সকল হাসপাতালে নিশ্চিত করতে হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা