kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৬ চৈত্র ১৪২৬। ৯ এপ্রিল ২০২০। ১৪ শাবান ১৪৪১

সব বদলে দিয়েছে করোনা; জানুন কোথায় কী হচ্ছে?

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৬ মার্চ, ২০২০ ২০:০৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সব বদলে দিয়েছে করোনা; জানুন কোথায় কী হচ্ছে?

সারা বিশ্বের এক আতঙ্কের নাম করোনাভাইরাস। এই মারণ ভাইরাসটি গোটা বিশ্বে অভূতপূর্ব সঙ্কট সৃষ্টি করছে৷ পৃথিবী জুড়েই রাতারাতি সব হিসেব বদলে দিয়েছে করোনা। ফলে মানুষের জীবনযাত্রাও বদলে যাচ্ছে৷ প্রকৃতিও অনেক ক্ষেত্রে ভিন্ন আচরণ করছে৷ লকডাউন হয়ে যাচ্ছে একের পর এক শহর। এমনই কিছু দৃষ্টান্তের দিকে নজর দেওয়া যাক।

অতিথি ছাড়াই বিয়ে

আগামী কয়েক সপ্তাহে যারা বিয়ের অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করেছিলেন, দুঃখজনক হলেও তারা বড় আকারের অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে পারবেন না৷ জার্মানির এক হবু দম্পতিও হাল ছেড়ে দিয়ে সপ্তাহান্তে রেজিস্ট্রি সেরে নিয়েছেন৷ সঙ্গে কেউই ছিল না বললেই চলে৷ কারণ, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রকাশ্যে দুইয়ের বেশি মানুষের জমায়েত নিষিদ্ধ৷

গোলাপের করুণ দশা

গোলাপফুল আবেগ ও বন্ধুত্বের প্রতীক৷ কিন্তু কেনিয়ার ‘ব্লিস ফ্লোরা’ ফার্মের সাদা গোলাপ বিক্রির আগেই জঞ্জালের স্তূপে চলে যেতে পারে৷ কারণ, করোনা সংকটের ফলে ইউরোপের বাজার ধসে পড়েছে৷ সেখানে ফুল পাঠানোর কাজও অসম্ভব হয়ে পড়েছে৷ শুধু এই একটি ফার্ম থেকেই প্রতিদিন প্রায় এক লাখ বিশ হাজার ফুল রপ্তানি করা হয়৷

করোনার বিরুদ্ধে সংগীত

ইতালির এক নারী বাসনের ঢাকনা নিয়ে পাড়ার বারান্দা কনসার্টে অংশ নিয়েছেন৷ গোটা দেশে এভাবে মানুষ বারান্দা বা জানালার পাশে দাঁড়িয়ে ভয়ভীতি, একাকীত্ব ও একঘেয়েমি কাটানোর চেষ্টা করছেন৷ দৈনন্দিন কেনাকাটার মতো অত্যন্ত জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাসা থেকে বের হবার উপায় নেই৷

উৎসব ছাড়াই নববর্ষ

ইরানে ‘নওরোজ’ বা পারস্যদেশীয় নববর্ষ উপলক্ষ্যে আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব মিলিত হন৷ বসন্ত ঋতুকে স্বাগত জানাতে রাজপথেও উৎসব পালিত হয়৷ কিন্তু করোনা সংকটের কারণে দেশের অনেক মানুষ বাসার মধ্যে পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্যদের সঙ্গেই নববর্ষ উৎসব পালন করছেন৷ কেউ একজন তেহরানের মেলাত পার্কে বসন্তের ছবি তুলেছেন।

বসন্তের ফুল

জার্মানিতে বসন্তের ছোঁয়া লেগেছে৷ দেশের প্রায় সব প্রান্তেই চেরি ফুল বসন্তের বার্তা বয়ে আনছে৷ বাগানে গোলাপি ও সাদা রঙ ছেয়ে গেছে৷ সেখানে গেলে জাপানের এই ফুলের সুগন্ধও উপভোগ করা সম্ভব৷ জার্মানিতে স্কুল ও কিন্ডারগার্টেন আপাতত বন্ধ রয়েছে৷ সীমান্তও কার্যত বন্ধ৷ করোনাভাইরাসের কারণে নাগরিকদের বাধ্য হয়ে অনেক বাধানিষেধ মেনে চলতে হচ্ছে৷ সংক্রমণের গতি কমাতে সরকার, প্রশাসন ও বিশেষজ্ঞরা সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে যতটা সম্ভব বাসায় থাকার আবেদন জানাচ্ছে৷

করোনা সত্ত্বেও রঙ খেলা

ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশে হোলি উৎসব পালিত হয়েছে৷ এভাবে অশুভ শক্তির বিনাশের মাধ্যমে বসন্তের সূচনাকেও স্বাগত জানানো হয়৷ তবে এ বছর করোনাভাইরাসকে ঘিরে আতঙ্কের কারণে অনেকেই রঙ নিয়ে খেলেননি৷ তবে বিচ্ছিন্নভাবে অবশ্যই রঙয়ের উৎসবে মেতে উঠেছে৷

হাসপাতালে রঙের ছোঁয়া

প্রশাসনের নির্দেশ অনুযায়ী চীনের উহান শহরে অস্থায়ী হাসপাতালে ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা পদ অনুযায়ী ভিন্ন রঙয়ের ইউনিফর্ম পরে কাজ করছেন৷ আপাতত চীনের করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও বিশেষজ্ঞদের মতে, বিপদ এখনো পুরোপুরি কেটে যায়নি৷

সূত্র: ডয়েচে ভেলে বাংলা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা