kalerkantho

রবিবার । ২২ চৈত্র ১৪২৬। ৫ এপ্রিল ২০২০। ১০ শাবান ১৪৪১

হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনে করোনা নিরাময় হবে?

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৪ মার্চ, ২০২০ ১৫:৫৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনে করোনা নিরাময় হবে?

প্রতীকী ছবি

করোনাভাইরাস প্রতিরোধ বা নিরাময়ে এখনও কোনো কার্যকর ওষুধ বের হয়নি। কিন্তু এই ভাইরাস থেকে নিরাময়ে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের চাহিদা হঠাৎ তুঙ্গে উঠেছে। ভারতের আইসিএমআরের ঘোষণায়, নভেল করোনাভাইরাসের প্রতিষেধক হিসেবে এই ওষুধের কথা বলা হয়েছে। 

গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, হাইড্রোক্লোরোকুইন-অ্যাজিথ্রোমাইসিনের কম্বিনেশন কোভিড ১৯ সংক্রমণের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে।

কোভিড-১৯ রোগীদের ক্ষেত্রে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের কার্যকারিতা সম্পর্কে কী জানা গেছে?

একদম শুরুতে বলবার হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনকে ম্যালেরিয়া প্রতিষেধী ওষুধ ক্লোরোকুইনের সঙ্গে গুলিয়ে ফেললে চলবে না। হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন ব্যবহার করা হয় রিউম্যাটিড আর্থ্রাইটিসের মত স্বপ্রতিরোধী রোগের চিকিৎসায়। গত ১৯ মার্চ ল্যান্সেট গ্লোবাল হেলথে প্রকাশিত এক নিবন্ধে বলা হয়েছে এই ওষুধ করোনাভাইরাসের ক্ষেত্রে, বিশেষত সার্স কোভ- ২ এর ক্ষেত্রে কাজ করছে। সেখানে একইসঙ্গে বলা হয়েছে এ ওষুধ চিকিৎসার জন্য ব্যবহার করা যায় কিনা তা নিয়ে চীনে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চলছে।

চিকিৎসকদের জন্য এক নোটে কোভিড ১৯-এর সম্ভাব্য চিকিৎসার ব্যাপারে মার্কিন রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিষেধ কেন্দ্র (সিডিসি) সার্স কোভ ২ ভাইরাস সংক্রমণে এই ওষুধের প্রভাব নিয়ে গবেষণা চলছে। আমেরিকায় বেশ কিছু ক্ষেত্রে ক্লিনিকাল ট্রায়ালের পরিকল্পনা চলছে, কিছু জায়গায় তা দ্রুত কার্যকর করা হবে।

সিডিসি আরও বলেছে, চীনের এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, কোভিড ১৯ রোগীদের ক্লোরোকুইন চিকিৎসায় ক্লিনিকাল ও ভাইরোলজিক সুফল পাওয়া গিয়েছে। কোভিড ১৯ চিকিৎসার জন্য চিনে ক্লোরোকুইনকে অ্যান্টিভাইরাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

ভারত কী প্রস্তাব করেছে?

কোভিড ১৯ এর ন্যাশনাল টাস্ক ফোর্স হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনকে উপসর্গহীন যেসব স্বাস্থ্যকর্মীরা কোভিড ১৯ রোগীর সংস্রবে আসছেন, তাঁদের ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। কোভিড ১৯ রোগীর সংস্পর্শে আসা উপসর্গহীনদের ক্ষেত্রেও একই বিধি মানতে বলা হয়েছে। বলা হয়েছে, বেশি ঝুঁকির মধ্যে যাঁরা রয়েছেন, তাঁদের সুরক্ষার জন্য ব্যাতিক্রমী ক্ষেত্রে এই ওষুধ ব্যবহার করা যেতে পারে।

বেসরকারি ক্ষেত্রের চিকিৎসকরাও সাবধানী। ইন্দ্রপ্রস্থ অ্যাপোলো হাসপাতালের চিকিৎসক এস চ্যাটার্জি বলেন, আইসিএমআর নির্দেশিকা নির্দিষ্ট লোকজনের জন্য বিশেষভাবে নির্দিষ্ট। যে কেউ তা ব্যবহার করতে পারেন না।

তাহলে কি এ ওষুধ মজুত করা উচিত?

এক কথায়, না। যদি সংক্রমণের আশঙ্কা থেকে থাকে, ডাক্তার দেখান। নিজের চিকিৎসা নিজে করার চেষ্টা করবেন না। হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন নিয়ে সরকারি নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, রেজিস্টার্ড ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ছাড়া এ ওষুধ বিক্রি হবে না।

সূত্র : ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা