kalerkantho

রবিবার । ২২ চৈত্র ১৪২৬। ৫ এপ্রিল ২০২০। ১০ শাবান ১৪৪১

করোনা আতঙ্কে 'কোটিপতি' কাঠমিস্ত্রি!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২২ মার্চ, ২০২০ ২০:১৫ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



করোনা আতঙ্কে 'কোটিপতি' কাঠমিস্ত্রি!

একেই বলে কপাল! ভয়াবহ করোনার প্রভাবে কর্মহীন হয়ে হতাশা নিয়ে বাড়ি ফিরলেও সৃষ্টিকর্তা তার দিকে মুখ তুলে তাকিয়েছেন বলে মনে করছেন ইজারুল। করোনার আতঙ্কে কেরালা থেকে বেকার হয়ে বাড়ি ফিরে লটারি কেটে কোটিপতি হয়ে গেলেন কাঠমিস্ত্রী! ভারতীয় গণমাধ্যম সংবাদ প্রতিদিন এ খবর দিয়েছে।

ভারতে যখন প্রথম করোনাভাইরাস সনাক্ত হয় তখন থেকেই সতর্কতা অবলম্বন করেছে দেশটির কেন্দ্র ও প্রতিটি রাজ্যের সরকার। মহারাষ্ট্র, কেরালা, দিল্লি, উত্তরপ্রদেশে দিনে দিনে আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও পশ্চিমবঙ্গে তখনও করোনায় আক্রান্ত রোগীর সন্ধান মেলেনি। সেই সময়ে কেরালায় কাঠের কাজ করে পরিবারের জন্য অর্থ রোজগারে ব্যস্ত ছিলেন বাংলার কাঠমিস্ত্রী ইজারুল। মির্জাপুরের বাড়িতে তখন ইজারুলের আশার পথ চেয়ে বসে তার তিন সন্তান, স্ত্রী ও বৃদ্ধ বাবা-মা। অন্যদিকে কেরালায় তখন একে একে বন্ধ হচ্ছে দোকান-পাট, অঘোষিত লকডাউন চলছে। তাই পরিবারের কাছে ফেরার আশায় কোনও কিছু না ভেবে ট্রেনে চেপে বসলেন ইজারুল। টাকার অভাবে পাননি কোনও এসি কোচের টিকিটও।

তবে সৃষ্টিকর্তা যার সহায় তার আর চিন্তা কিসের? বাড়ি ফিরে কর্মহীন হয়ে ভাগ্যের পরীক্ষা করতে একদিন কেটেই ফেললেন লটারির টিকিট। আর তাতেই কেল্লাফতে। কোটিপতি হয়ে গেলেন বেকার ইজারুল। প্রায় এক সপ্তাহ আগে শনিবার কেরালা থেকে বাড়ি ফিরে আসেন তিনি।

বাড়ি ছেড়ে কেরালার পথে ইজারুল পা বাড়িয়েছিলেন শুধুমাত্র টাকা রোজগারের আশায়। বাংলায় কাঠের কাজ করে ইজারুল প্রতিদিন ৫০০-৬০০ টাকা পান। অন্যদিকে কেরালায় কাঠের কাজে প্রতিদিন পাওয়া যায় হাজার থেকে বারোশো টাকা। তবে ইজারুল বাড়ি ফিরে আশায় মোটেই হতাশ নন তার পরিজনেরা। টাকার অভাব ভুলে একসঙ্গে কাজ করে দিন গুজরানের কথা ভাবছেন তারা।

ইজারুল বাড়ি ফেরায় তার পরিজনেরা খুশি হলেও হতাশায় ডুবে ছিলেন ইজারুল। পরে একটা লটারি তার জীবনের দিশারি হয়ে ওঠে। বদলে দেয় তার জীবনের চিন্তা। একসময় তিনি চিন্তা করছিলেন কী তুলে দেবেন সন্তানদের মুখে, কিন্তু আজ সেই মুখেই দেখা দিয়েছে এক গাল চওড়া হাসি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা