kalerkantho

রবিবার । ২২ চৈত্র ১৪২৬। ৫ এপ্রিল ২০২০। ১০ শাবান ১৪৪১

করোনার প্রতিষেধক কি মিলবে? ভরসা সুপারকম্পিউটার!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২১ মার্চ, ২০২০ ১১:০৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনার প্রতিষেধক কি মিলবে? ভরসা সুপারকম্পিউটার!

নভেল করোনাভাইরাস মোকাবেলা করা এখন বিজ্ঞানীদের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদিও বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে প্রতিনিয়ত শোনা যাচ্ছে আশার বাণীও। এমনই আরেকটি আশার বাণী হয়ে উঠেছে বিশ্বের দ্রুততম সুপারকম্পিউটার।

‘ব্রেন অব এআই’ যুক্ত ‘সামিট’ নামের সুপারকম্পিউটারটি তৈরি করেছে আইবিএম। বলা হচ্ছে, করোনাভাইরাস ঠেকাতে পারে, এমন সম্ভাব্য হাজার হাজার রাসায়নিক উপাদান এই সুপারকম্পিউটার নিমেষেই বিশ্লেষণ করতে পারে। গবেষকরা বলছেন, এই কম্পিউটারই হতে পারে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন উদ্ভাবনের গুরুত্বপূর্ণ এক ধাপ। গবেষকরা বলছেন, এরই মধ্যে এই সুপারকম্পিউটারের মাধ্যমে সম্ভাব্য ৭৭ ধরনের যৌগ শনাক্ত করা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব এনার্জির উদ্যোগে ২০১৪ সালে এই কম্পিউটার তৈরি করা হয়। বৈশ্বিক সমস্যার সমাধান করার উদ্দেশ্যেই বানানো হয়েছে এটি।

এই সুপারকম্পিউটার ২০০ পেটাফ্লপস ক্ষমতাসম্পন্ন। অর্থাৎ সামিটের ‘কম্পিউটিং স্পিড’ প্রতি সেকেন্ডে ২০০ কুয়াড্রিলিয়ন। সহজ করে বললে, বিশ্বের এ মুহূর্তে সবচেয়ে দ্রুত গতিসম্পন্ন যে ল্যাপটপ রয়েছে, সেটির চেয়ে সামিটের গতি ১০ লাখ গুণ বেশি।

এই কম্পিউটার কিভাগে করোনাভাইরাস মোকাবেলায় ভূমিকা রাখবে। জবাবে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের গবেষক মিকোলাস স্মিথ বলেন, ভাইরাসটি তার জেনেটিক মেটেরিয়ালের এক ধরনের ‘স্পাইক’ দিয়ে আক্রান্ত ব্যক্তির কোষকে আক্রমণ করে। সামিটের কাজ হলো এটি সেই রাসায়নিক যৌগকে খুঁজে বের করবে, যেটি ওই স্পাইকে বাঁধতে পারে এবং ছড়িয়ে পড়া আটকাতে পারে।

গবেষকরা বলছেন, সম্ভাব্য যৌগ শনাক্ত করার প্রাথমিক কাজটি এই সুপারকম্পিউটার দিয়েই করা যাবে। কিন্তু এগুলোর মধ্যে কোনটি সবচেয়ে বেশি কার্যকর, তা নিশ্চিত হতে আরো পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাতে হবে।

এদিকে করোনার প্রতিষেধক উদ্ভাবনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বিশ্বের বড় বড় বিজ্ঞানীরা। রাশিয়ার বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন, তাঁদের গবেষকরা করোনাভাইরাসের পূর্ণাঙ্গ জিনোম আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছেন। এই আবিষ্কার ভ্যাকসিন তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে দাবি তাঁদের।

এরই মধ্যে চীনের বিজ্ঞানীরা এটা জেনে গেছেন যে ভাইরাসটি কিভাবে মানবদেহকে আক্রান্ত করে। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার বিজ্ঞানীরা কয়েক দিন আগে দাবি করেন, ভাইরাসটি প্রবেশের পর শরীরের কোন কোষগুলো সেটি মোকাবেলায় এগিয়ে আসে, তা তাঁরা জানতে পেরেছেন। এটিও প্রতিষেধক তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা বিজ্ঞানীদের। অস্ট্রেলিয়ার আরেক দল বিজ্ঞানী দাবি করেছেন, আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসায় ব্যবহার করা যাবে—এমন দুটি ওষুধ তৈরির অর্ধেক কাজ তারা সম্পন্ন করেছেন।

কানাডার বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন, ভ্যাকসিন তৈরিতে তাঁরা বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছেন। নিউ ইয়র্ক পোস্টে প্রকাশিত এক নিবন্ধে তাঁরা দাবি করেছেন, শিগগিরই এটা ব্যবহার করা যাবে।

চীন জানিয়েছে, তাদের হাতে এ মুহূর্তে পাঁচ ধরনের ভ্যাকসিন রয়েছে। এর মধ্যে একটি আগামী মাসেই পাওয়া যাবে বলে আশ্বাস দিয়েছে তারা। যুক্তরাষ্ট্রে মডারনার তৈরি করা একটি ভ্যাকসিন এরই মধ্যে পরীক্ষামূলক ব্যবহার শুরু হয়েছে। এটি মানবদেহের ওপর ক্ষতিকর কোনো প্রভাব ফেলছে না বলেও দাবি করেছেন মার্কিন গবেষকরা।

যুক্তরাষ্ট্রের মেট্রাহেলথ মেডিক্যাল সেন্টারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাস শনাক্তে তারা এমন পরীক্ষা উদ্ভাবন করেছে, যাতে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ফল জানা যাবে। ইসরায়েলের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক মন্ত্রী ওফির আকুনিস দাবি করেছেন, তাঁদের বিজ্ঞানীরা প্রতিষেধক তৈরির কাজ প্রায় সম্পন্ন করে ফেলেছেন। 
সূত্র : সিএনএন, সিয়াটলপাই।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা