kalerkantho

রবিবার । ২২ চৈত্র ১৪২৬। ৫ এপ্রিল ২০২০। ১০ শাবান ১৪৪১

অষ্টম-দশম

ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২১ মার্চ, ২০২০ ১০:২২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া

করোনাভাইরাস নিয়ে ঘুম হারাম বিজ্ঞানীদের। একটি অকোষীয় আণুবীক্ষণিক জৈব কণা কী করে পুরো বিশ্বকে আতঙ্কিত করছে? প্রশ্ন জাগাই স্বাভাবিক

শুরুতেই জেনে নেওয়া যাক, ভাইরাস কী? ভাইরাস শব্দের অর্থ বিষ। এটি লাতিন শব্দ। আদিমকালে রোগ সৃষ্টিকারী সব বিষাক্ত পদার্থকেই ভাইরাস বলা হতো। ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপ দিয়ে দেখা যায় একে। তাই বুঝতেই পারছ ভাইরাস ধূলিকণার চেয়েও কতটা ছোট। তোমার সামনে কোটি কোটি ভাইরাস ভেসে বেড়ালেও দেখার সুযোগ নেই।

এবার আসি ভাইরাসের দেহ নিয়ে। ভাইরাসের দেহের বাইরে একটি প্রোটিন আবরণ থাকে। ভেতরে নিউক্লিক এসিড বা আরএনএ থাকে। এটি অকোষীয় বস্তু। কোষের বাইরে অর্থাৎ প্রাণী কিংবা উদ্ভিদের শরীরে প্রবেশের আগে এর কোনো বাহাদুরি নেই। কোষের ভেতর ঢুকলেই এটি গা ঝাড়া দিয়ে ওঠে। অর্থাৎ যে মুহূর্তে কোনো সজীব কোষকে আক্রমণ করে, তখনই প্রাণ ফিরে পায় ভাইরাস।

এরপর এরা ওই জীবিত কোষের মধ্যেই বংশবৃদ্ধি করতে পারে। আবার নিষ্ক্রিয় অবস্থায় জড় পরিবেশেও থাকতে পারে। ভাইরাস নিয়ে বিজ্ঞানের যে শাখায় আলোচনা করা হয় তাকে ভাইরোলজি বলে। বিজ্ঞানী ডাব্লিউ এম স্ট্যানলিকে ভাইরোলজির জনক বলা হয়।

ভাইরাস সাধারণত ১২-৩০০ ন্যানোমিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। গবাদি পশুর পুট অ্যান্ড মাউথ রোগ সৃষ্টিকারী ভাইরাস সবচেয়ে ক্ষুদ্র। এরা সাধারণত দণ্ডাকার, গোলাকার, সূত্রাকার, পাউরুটির আকার ও ডিম্বাকার হয়ে থাকে।

ভাইরাসের কারণে মানুষের যে রোগগুলো হয়—ইনফ্লুয়েঞ্জা, সার্স, করোনা, সাধারণ ঠাণ্ডা, হাম-রুবেলা, জলাতঙ্ক ইত্যাদি। পাখিদের বার্ড ফ্লু রোগটিও ভাইরাসজনিত। এবার ব্যাকটেরিয়া সম্পর্কে জানি। ভাইরাস অকোষীয় হলেও ব্যাকটেরিয়া এককোষীয় অণুজীব। বিজ্ঞানী লিউয়েন হুক প্রথম ব্যাকটেরিয়া দেখতে পান। বিজ্ঞানের যে শাখায় ব্যাকটেরিয়া নিয়ে আলোচনা করা হয় তাকে ব্যাকটেরিওলজি বলে। ব্যাকটেরিয়া আদিকোষী জীব। ফলে সুগঠিত নিউক্লিয়াস নেই। এদের কোষে মাইটোকন্ড্রিয়া, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম, ক্লোরোপ্লাস্ট, লাইসোজোম অর্থাৎ ঝিল্লিবস্তু অঙ্গাণু নেই। শুধু রাইবোজোম থাকে। ব্যাকটেরিয়ার কোষে জড় কোষপ্রাচীর থাকে। ফলে উদ্ভিদের সঙ্গে এদের মিল আছে। আমাদের মুখেও অনেক ব্যাকটেরিয়া ঘুরঘুর করছে। অথচ আমরা দেখতে পাচ্ছি না। ব্যাকটেরিয়া দেখতেও অণুবীক্ষণ যন্ত্র লাগে। তবে যখন অনেক ব্যাকটেরিয়া একসঙ্গে কলনি করে থাকে তখন খালি চোখে কলনিটা দেখা যায়। মানুষের অন্ত্র ও ত্বকে সবচেয়ে বেশি ব্যাকটেরিয়া থাকে। এদের বেশির ভাগই আমাদের কোনো ক্ষতি করে না। ব্যাকটেরিয়ার কোষপ্রাচীর আছে। এদের কোষপ্রাচীরের প্রধান উপাদান পেপটিডোগ্লাইকান। ব্যাকটেরিয়ার বংশবৃদ্ধির প্রধান প্রক্রিয়া দ্বি-বিভাজন। ব্যাকটেরিয়া দণ্ডাকার, কমাকৃতি, গোলাকার ও সর্পিলাকার হয়।

ব্যাকটেরিয়ার কারণে অনেক রোগ হলেও এদের ব্যবহার করেও প্রাণ রক্ষাকারী অ্যান্টিবায়োটিকও বানানো হয়। ভিটামিন তৈরিতেও ব্যাকটেরিয়ার ব্যবহার আছে। গ্রাম স্টেন (ব্যাকটেরিয়ার ধরন শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া) দ্বারা দুই ধরনের ব্যাকটেরিয়া আলাদা করা যায়, গ্রাম পজেটিভ (ক্ষতিকর) এবং গ্রাম নেগেটিভ (নিরাপদ)।

গ্রন্থনা : জুবায়ের আহম্মেদ

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা