kalerkantho

রবিবার । ২২ চৈত্র ১৪২৬। ৫ এপ্রিল ২০২০। ১০ শাবান ১৪৪১

জাপানে দক্ষ কর্মীদের কাজের সুযোগ

আগে জাপানি ভাষা শিখুন, জাপানি ভাষায় দক্ষতা ও এসএসসি পাস হলে আবেদন করা যাবে

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২১ মার্চ, ২০২০ ০৯:১২ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



জাপানে দক্ষ কর্মীদের কাজের সুযোগ

বড়সংখ্যক দক্ষ কর্মী নেবে জাপান। জাপান যেতে আগ্রহী কর্মীদের অবশ্যই জাপানি ভাষা জানা থাকতে হবে। ভাষা শেখানোর পাশাপাশি বিভিন্ন কোর্সের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে জাপান-বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (জেবিআইটি)। কোর্স, খরচ, জাপানে যাওয়ার প্রক্রিয়া, কাজের সুযোগ ও আয়-রোজগার কেমন—এসব নিয়ে কথা বলেছেন জেবিআইটির চেয়ারম্যান শেখ এমদাদ

জাপানে প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী, কনস্ট্রাকশন ওয়ার্কার, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, মেশিন পার্টস অ্যান্ড টুলস ইন্ডাস্ট্রি, ইন্ডাস্ট্রিয়াল মার্চেন্টস ইন্ডাস্ট্রিজ, ইলেকট্রিক্যাল, ইলেকট্রনিকস, ইনফরমেশন ইন্ডাস্ট্রিজ (আইটি), শিপ মার্চেন্টস ইন্ডাস্ট্রি, অটোমোবাইল মেইনটেন্যান্স, অ্যাভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রি, অ্যাগ্রিকালচার, ফিশিং অ্যান্ড বেভারেজ, ফুড সার্ভিস ইন্ডাস্ট্রিতে কর্মী নিয়োগ করা হবে

► আপনাদের প্রতিষ্ঠান ও এর কার্যক্রম সম্পর্কে বলুন

—২০১৭ সালে জাপান-বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (জেবিআইটি) যাত্রা শুরু করে। প্রতিষ্ঠানটি মূলত আন্তর্জাতিক মানের জাপানিজ ভাষা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। জাপানে দক্ষ কর্মীদের কাজের অনেক সুযোগ রয়েছে। সে অনুযায়ী বাংলাদেশিদের ভাষা ও কাজে দক্ষ হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিশ্বের চাকরির বাজারে টিকে থাকতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ার লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। জেবিআইটি’র ঠিকানা—২৮/২, ইস্কাটন গার্ডেন রোড, ঢাকা। ওয়েবসাইট : www.jb-it.net

► জেবিআইটিতে কোন কোন কোর্স চালু আছে? কোন কোর্সের মেয়াদ ও খরচ কত করে?

—জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলো যেসব কাজে দক্ষ কর্মীদের সাধারণ নিয়োগ দেয়, আমরা সেসব বিষয়ের কোর্সে গুরুত্ব সহকারে প্রশিক্ষণ দিই। এ ক্ষেত্রে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর চাহিদা বা শর্ত অনুযায়ী সিলেবাস অনুসরণ করা হয়। কোনো কোনো কোর্সে স্বয়ং জাপানি প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ দেন। জাপানে যাওয়ার আগে একজন কর্মীকে আমরা ভাষা শেখানোর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কাজে প্রশিক্ষণ নিয়ে তাকে তৈরি করি। এ ছাড়া আমরা আইটি প্রফেশনালদের জাপানে চাকরি পেতে সহায়তা করি।

বাংলাদেশি ও জাপানি অভিজ্ঞ শিক্ষকদের মাধ্যমে জাপানি ভাষা শেখার কোর্স করানো হয়। ভাষা শিক্ষা দক্ষতার কিছু লেভেল আছে, যেমন—লেভেল এন-৫, এন-৪ ও এন-৩ ইত্যাদি। এসব লেভেল পর্যন্ত আমাদের এখানে শেখানো হয়। এ ছাড়া বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনেও বিভিন্ন ট্রেড কোর্স চালু আছে।

কোর্সগুলো হলো—ইলেকট্রিক্যাল হাউস ওয়্যারিং, কম্পিউটার অফিস অ্যাপ্লিকেশন, গ্রাফিকস ডিজাইন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া, গ্রাফিকস অ্যান্ড এনিমেশন, হার্ডওয়্যার অ্যান্ড নেটওয়ার্কিং, কম্পিউটার প্রগ্রামিং, ওয়েব ডিজাইন ইত্যাদি। এসব কোর্স দুই থেকে ছয় মাস মেয়াদি। বেশির ভাগ কোর্সে ৫০ শতাংশ ছাড়ে ভর্তির সুযোগ রয়েছে। এ ছাড়া গরিব ও মেধাবীদেরও বিশেষ ছাড় দেওয়া হচ্ছে। এসব কোর্স তিন হাজার ৫০০ থেকে ১৫ হাজার টাকার মধ্যে করা যায়। মেয়েদের ক্ষেত্রে শুধু রেজিস্ট্রেশন ফি নেওয়া হয়, কোর্স ফি একেবারে ফ্রি। ক্লাসগুলো সপ্তাহে তিন দিন দুই ঘণ্টা করে।

► এসব কোর্স করার পর প্রার্থীর করণীয় কী? কেউ যদি জাপানে চাকরি বা কাজের ভিসায় যেতে চায় তার কী কী করণীয়?

—প্রার্থীদের প্রথম কাজ হলো জাপানি ভাষায় দক্ষতা অর্জন করা। এর পাশাপাশি কারিগরি বিষয়গুলোর ওপর দক্ষতা অর্জন করা। তারপর জাপানি ভাষা দক্ষতা মূল্যায়নের পরীক্ষা—অর্থাৎ জেএলপিটি/এনএটি টেস্টের জন্য প্রস্তুতি নিয়ে সেগুলোতে অংশ নেওয়া। এসব টেস্টে প্রার্থীকে কাঙ্ক্ষিত লেভেল পেতে হবে।

► জাপানে কর্মী নেওয়ার ব্যাপারে গত বছর (২০১৯) বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে চুক্তি হয়েছে। কোন কোন খাতে কর্মী নেওয়া হতে পারে?

—কিছু কিছু টেকনিক্যাল বিষয়ে কর্মী নিয়োগের আবেদনপ্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। জাপান প্রধানত ১৪টি খাতে কর্মী নেবে বলে জানা গেছে। প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী, কনস্ট্রাকশন ওয়ার্কার, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, মেশিন পার্টস অ্যান্ড টুলস ইন্ডাস্ট্রি, ইন্ডাস্ট্রিয়াল মার্চেন্টস ইন্ডাস্ট্রিজ, ইলেকট্রিক্যাল, ইলেকট্রনিকস, ইনফরমেশন ইন্ডাস্ট্রিজ (আইটি), শিপ মার্চেন্টস ইন্ডাস্ট্রি, অটোমোবাইল মেইনটেন্যান্স, অ্যাভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রি, অ্যাগ্রিকালচার, ফিশিং অ্যান্ড বেভারেজ, ফুড সার্ভিস ইন্ডাস্ট্রিতে কর্মী নিয়োগ করা হবে।

জাপান এরই মধ্যে ১০টি দেশ থেকে ১৪টি খাতে আগামী তিন বছরের জন্য তিন লাখ ৪৫ হাজার জনবল নিয়োগ  দেবে বলে জানা গেছে। এর পরও যদি তাদের কর্মীর চাহিদা পূরণ না হয়, তবে জাপান আরো জনবল নেবে। প্রার্থীদের জাপান যেতে খরচের বিষয়টি নির্ভর করে কম্পানির ওপর। কম্পানি চাইলে সম্পূর্ণ খরচ দিয়ে নিতে পারে আবার আংশিক খরচও বহন করতে পারে।

► আপনি নিজেও জাপানে থাকেন। জাপানে কাজের সুযোগ-সুবিধা কেমন? একজন প্রফেশনাল বা স্কিলড ওয়ার্কার সেখানে গিয়ে বাংলাদেশি টাকায় কত টাকা উপার্জন করতে পারবে?

—জাপান সরকার মেডিক্যাল খরচ ৭০ শতাংশ বহন করে, জীবিকা নির্বাহের খরচ ও আয়ের মধ্যে সামঞ্জস্য রয়েছে। স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ, উন্নত জীবনব্যবস্থা, কাজের পরিবেশ সুরক্ষা নিশ্চিত। নন-প্রফেশনাল কর্মীর ক্ষেত্রে বেতন এক লাখ ৩০ হাজার টাকা (বাংলাদেশি টাকার সমমূল্যে) আর প্রফেশনাল কর্মীর ক্ষেত্রে বেতন প্রায় দুই লাখ টাকা।

 

► বাংলাদেশ থেকে জাপানে জনবল নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে আপনার ব্যক্তিগত অভিমত বা পরামর্শ কী?

—সরকারিভাবে বিনা খরচে বৈধ পথে জাপান যেতে চাইলে প্রথমেই জাপানি ভাষার ওপর ভালো দখল থাকতে হবে। তারপর জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) থেকে আবেদন ফরম সংগ্রহ করে ঠিকভাবে আবেদন করতে হবে। প্রাথমিক বাছাইয়ে নির্বাচিত হলে গণিত ও জাপানি ভাষার ওপর একটি সাধারণ টেস্ট হয়। এই টেস্টে উত্তীর্ণ হলে নির্ধারিত প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে বিনা খরচে ছয় মাস মেয়াদি প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এই প্রশিক্ষণের সব খরচ জাপানি যে প্রতিষ্ঠান কর্মী নেবে, তারা বহন করবে। শুধু পাসপোর্ট, মেডিক্যাল পরীক্ষা, বহির্গমন ছাড়পত্রসংক্রান্ত খরচ ওই কর্মীকে বহন করতে হবে। এ ছাড়া বৈধ পথে (কারো মাধ্যমে অর্থাৎ সরকারিভাবে না) জাপান যেতে সর্বোচ্চ খরচ হতে পারে চার লাখ টাকার মতো। আমাদের প্রতিষ্ঠান থেকে যারা জাপানি ভাষা ও অন্যান্য প্রশিক্ষণ নেয়, তাদের আমরা বৈধ পথে জাপান যাওয়ার বিভিন্ন পদ্ধতি দেখিয়ে দিই।

আমাদের মাধ্যমে সরাসরি নিয়োগের কোনো ব্যবস্থা নেই। সাধারণ কর্মী হিসেবে জাপান যেতে চাইলে কারো মাধ্যমে না গিয়ে সরকারি ব্যবস্থাপনায় যাওয়াই ভালো।

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন পাঠান সোহাগ

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা