kalerkantho

সোমবার  । ১৬ চৈত্র ১৪২৬। ৩০ মার্চ ২০২০। ৪ শাবান ১৪৪১

এক টুকরো আদার জন্য ...

রফিকুল ইসলাম   

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ১৯:৪৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এক টুকরো আদার জন্য ...

করোনাভাইরাসের কারণে চীন থেকে আদা আমদানি হ্রাস পেয়েছে। আর এই আমদানি কমে যাওয়ায় আদার দাম বাড়ছে। বিকল্প দেশ থেকে আদা আমদানি করে বাজার সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলছে। কারওয়ান বাজারে প্রতি কেজি আমদানি করা আদার দাম পড়ছে ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা। খুচরা পর্যায়ে এই দাম আরও কিছুটা বাড়তি।

টিসিবির হিসাব অনুযায়ী, গত এক মাসের তুলনায় প্রতি কেজি আদার দাম বেড়েছে ১৭ শতাংশ। আমদানি করা আদার চেয়ে দেশি আদার দাম কমই। মাসে হিসাবে দেশি আদার দাম কমেছে ১২ শতাংশ।

রবিবার বিকালে কারওয়ানবাজার কাঁচাবাজারের সামনের রাস্তায় চোখে পড়লো এক দৃশ্য, যাতে একদল কিশোর ও দুই-তিনজন নারী আদা ভর্তি পিক-আপ ঘিরে দাঁড়িয়ে আছেন। কারো হাতে পলিথিনের ব্যাগ, কেউবা ব্যাগ পাশে রেখে দাঁড়িয়ে আছেন। 

কাছে গিয়ে দেখা গেল, তারা বস্তা থেকে পড়ে যাওয়া এক টুকরো আদার জন্য অপেক্ষা করছেন। ট্রাক থেকে বস্তা মাথায় তুলতে গিয়ে আদা পড়লে সেটা কুড়াচ্ছেন তারা। একটি একটি করে আদা কুড়িয়ে রাখছেন ব্যাগে। সংগৃহীত আদা বিক্রি করে খাবার জোগাড় করবেন তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেলো, এক টুকরো আদার জন্য অপেক্ষারত কিশোর ও নারীরা ছিন্নমূল। কারওয়ান বাজার এলাকায় বসবাস করেন। কখনো মাল উঠানামার কাজ করেন আবার কখনো উঠানামায় গাড়ি থেকে পড়ে যাওয়া সবজি কুড়িয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন তারা। কিশোররা ভারি কাজ করতে না পারলেও সবজি কুড়িয়ে সেগুলো জমা করেন, তাদের মা সেগুলো বিক্রি করে আয় করেন। সেটা দিয়েই চলে তাদের সংসার। 

আদা ভর্তি দুই পিক-আপের মালামাল নামানোয় আধা ঘণ্টা অপেক্ষা করে প্রায় আধা কেজি আদা কেজি আদা কুড়িয়েছেন সজিব। ছেড়া বস্তা থেকে একটি একটি করে পড়া টুকরো কুড়িয়ে সেটি পলিথিন ব্যাগে পুরেছেন। কাছে ডেকে জানতে চাইলে সজিব বলেন, ‘আদার দাম এখন অনেক বেশি। কুড়িয়ে পাওয়া আদা কম দামে বিক্রি করবো। আর বিক্রির টাকা দিয়ে রাতের খাবার খাব।’

মা-বাবা ও এক ভাইয়ের সঙ্গে কারওয়ান বাজারে থাকেন সজিব। পড়াশুনার সুযোগ পাননি। রাতের বেলা হালকা মালামাল উঠানামায় কাজ করেন। সেখান থেকে দেড়শ থেকে ২০০ টাকা আয় হয় তার। দিনের বেলা বাড়তি আয়ের আশা ঘুরতে থাকেন। আদার দাম বেশি থাকায় পড়ে যাওয়া আদা সংগ্রহ করছেন তিনি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা