kalerkantho

শনিবার । ২১ চৈত্র ১৪২৬। ৪ এপ্রিল ২০২০। ৯ শাবান ১৪৪১

‘ব্যাটেল অব দ্য ওরেঞ্জ’ যুদ্ধ নয়, উৎসব!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ১৬:২৩ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



‘ব্যাটেল অব দ্য ওরেঞ্জ’ যুদ্ধ নয়, উৎসব!

প্রতি বছর ইতালির ইভরিয়া শহরে বেড়াতে যান বহু মানুষ। উদ্দেশ্য সবাই মিলে কমলা ফল দিয়ে মারামারি করা। সেই মধ্যযুগে শহরটিতে এই উৎসবের শুরু। শহরের মুল চত্বরে জড়ো হয়ে ঐতিহ্যবাহী গানবাজনার মধ্যে চলতে থাকে একে অপরকে কমলা আক্রমণ।

দিনটি 'শ্রোভ টিউজডে' নামে পরিচিত। সাধারণত উত্‍সবটি সব সময় ফেব্রুয়ারি অথবা মার্চ মাসের কোনো এক মঙ্গলবার শুরু হয়, 'লেন্ট' অথবা খ্রিষ্টানদের ৪০ দিনের একটি সংযমের রীতি শুরু হওয়ার আগের দিন। এই বছর সেটির দিনক্ষণ ঠিক হয়েছে ২৫ ফেব্রুয়ারি যাকে ঘিরে শহরে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে।

প্রচলিত তথ্য মতে,  মধ্যযুগে শহরে একজন চরম অত্যাচারী ডিউক স্থানীয়দের শোষণ করতেন। ডিউকের আবদার ছিল যে এলাকার সব নববধূদের বাসর রাতে তার সাথে রাত কাটাতে হবে। এই কথায় ক্রুদ্ধ হয়ে ভায়োলেটটা নামে এক নারী ডিউকের মুণ্ডু কেটে নেন। এমনিতেই শহরের মানুষ তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ ছিল। ডিউককে হত্যার পর শহরের অধিবাসীরা তার প্রাসাদ পুড়িয়ে দেয়। সেদিন ডিউক এবং ভায়োলেটটার সমর্থকদের মধ্যে যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছিল, কমলার মারামারি তার প্রতীকী এক রূপ।

বংশীবাদকেরা শহরের মূল চত্বরে শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেন। প্রতি বছর শহরের একজন বিবাহিত নারীকে ভায়োলেটটার চরিত্রে অভিনয়ের জন্য নির্বাচন করা হয়। কমলা যুদ্ধ চলে তিনদিন ধরে। প্রাচীন কালের ঘোড়ার গাড়িতে করে জড়ো হওয়া লোকজনের মাঝে কমলা বিলি করা হয়। 

কমলার আঘাত সহ্য করতে হয় সব পক্ষকেই। হেলমেট পরে মাথায় আঘাত ঠেকালেও এমন আঘাত এই উত্‍সবে বেশ ঘটে। রক্ত ঝরবে তবু পিছু হটবো না। গত বছরের কমলা যুদ্ধে সাতশ টনের মতো কমলা লেগেছিল।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা