kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৪ চৈত্র ১৪২৬। ৭ এপ্রিল ২০২০। ১২ শাবান ১৪৪১

মাছশূন্য হতে পারে বঙ্গোপসাগর!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ১০:০৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মাছশূন্য হতে পারে বঙ্গোপসাগর!

মিঠা পানির মাছ উৎপাদনে এবং ইলিশ রক্ষায় সফলতা থাকলেও বঙ্গোপসাগরে মাছের পরিমাণ কমছে এবং সামুদ্রিক মাছের কিছু প্রজাতি অনেকটা নিঃশেষ হতে চলেছে বলে সতর্ক করছেন গবেষকরা। নির্বিচারে সামুদ্রিক মাছ শিকার এবং অনিয়ন্ত্রিত ও অবৈধ মাছ ধরা বন্ধ না হলে ভবিষ্যতে বঙ্গোপসাগর মাছশূন্য হয়ে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা তাঁদের। সামুদ্রিক মৎস্য গবেষণা ও জরিপের মাধ্যমে এ মূল্যায়ন করছেন গবেষকরা।

বাংলাদেশের সাগরে মাছের মজুদের কোনো সঠিক হিসাব নেই, কী পরিমাণ মাছ ধরা যাবে তারও সীমা নির্ধারিত নেই। কারণ সাগরে মৎস্যসম্পদের জরিপ-গবেষণা বন্ধ ছিল প্রায় দুই দশক। ২০১৬ সালে নতুন জাহাজ আরভি মীন সন্ধানী কেনার পর জরিপ শুরু হয়েছে। সাগরে ১০ থেকে ২০০ মিটার গভীরতা পর্যন্ত মহীসোপান এলাকায় এই জরিপ কার্যক্রম চালানো হয়।

গত তিন বছরের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে সামুদ্রিক মাছ নিয়ে একটি প্রতিবেদন সরকারের উচ্চ পর্যায়ে পাঠানো হয়েছে। মৎস্য অধিদপ্তরের মেরিন ফিশারিজ সার্ভে ম্যানেজমেন্ট ইউনিটের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. শরিফ উদ্দীন বলেন, ‘২০০০ সালের পর থেকে আমাদের ভেসেল বেইসড যে গবেষণা সেটা পুরোপুরি বন্ধ ছিল। বাংলাদেশ মেরিন ফিশারিজ ক্যাপাসিটি বিল্ডিং প্রকল্পের মাধ্যমে এটা আবার শুরু করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘মূলত ২০১৬ সাল থেকে এটা আমরা শুরু করেছি। তিন বছরের প্রাথমিক তথ্যে আমরা দেখছি যে আমাদের সমুদ্রের সার্বিক মজুদ ঠিক থাকলেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে কিছু মাছের মনে হচ্ছে অতিরিক্ত আহরণ হয়েছে।’

সমুদ্রবিজ্ঞানী সাইদুর রহমান চৌধুরী আরভি মীন সন্ধানীর তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের সঙ্গেও যুক্ত। তিনি বলেন, ‘এটা আমাদের সায়েন্টিফিক কমিউনিটির জন্য খুবই উদ্বেগের। মাছের বংশবিস্তারের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ রেখে দেওয়া যেটা দরকার সেটা যদি আমরা না রাখি, তাহলে পরবর্তী সিজনে বংশবৃদ্ধি হবে না।’ তিনি বলেন, ‘পৃথিবীর অন্যান্য সমুদ্রের যেমন গালফ অব থাইল্যান্ড অনেকটা মৎস্যশূন্য হয়ে গেছে। আমরা চাই না, আমাদের বে অব বেঙ্গল সে রকম মৎস্যশূন্য হয়ে যাক।’

মাছের যেসব প্রজাতি হুমকিতে : সামুদ্রিক মাছের মধ্যে লাক্ষা, সার্ডিন, পোয়া, লটিয়া, ফলি চান্দা, হরিণা চিংড়ি ও কাটা প্রজাতির মাছের মজুদ ও পরিমাণ আশঙ্কাজনক হারে কমেছে। গবেষকরা বলছেন, এসব সামুদ্রিক মাছ অতিরিক্ত আহরণ করা হচ্ছে।

বিজ্ঞানীদের মতে, অতিরিক্ত আহরণের কারণে যেকোনো মাছ বাণিজ্যিকভাবে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার প্রবল ঝুঁকি থাকে এবং সুরক্ষার ব্যবস্থা করা না হলে সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়।

সমুদ্রবিজ্ঞানী সাইদুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘লাক্ষা, তাইল্যা, রূপচান্দা টাইপের বেশ কিছু মাছ, বস্তাপোয়া টাইপের বিশেষ করে দামি ও বড় আকৃতির মাছ এখন খুবই কম পাওয়া যাচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘বাজার পর্যবেক্ষণ থেকেই বেশ কিছু মাছের ধারাবাহিক বছরের পর বছর ঘাটতি আমরা স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি। এটা নির্দেশ করে যে সমুদ্রে তাদের পরিমাণ কমে গেছে বলেই বাজারে তাদের জোগান কমে গেছে।’ 

সূত্র : বিবিসি বাংলা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা