kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৭ চৈত্র ১৪২৬। ৩১ মার্চ ২০২০। ৫ শাবান ১৪৪১

মরদেহ সৎকারের একমাস পর বাড়ি ফিরলেন বৃদ্ধ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ১৪:০১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মরদেহ সৎকারের একমাস পর বাড়ি ফিরলেন বৃদ্ধ

‘মৃত’ ব‍্যক্তি হঠাৎ করেই বাড়ি ফিরে এলেন। পরিবারের লোকজন তাকে দেখে আঁতকে ওঠে। পুরো ঘটনায় প্রতিবেশীরাও রীতি মতো স্তম্ভিত। গতকাল শুক্রবার রাতে এমনই একটি ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায় ভারতের উত্তর ২৪ পরগনার নৈহাটির সাহেব কলোনি মোড় সংলগ্ন পূর্নানন্দপল্লিতে।

জানা গেছে, মাস খানেক আগেই মৃত বলে ঘোষিত ভূষণচন্দ্র পালের দাহ ও শ্রাদ্ধানুষ্ঠান করেন তার পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু তিনি যে মারা যাননি, তার প্রমাণ বাড়িতে ফিরে নিজেই দিলেন ভূষণচন্দ্র।

কয়েক মাস নিখোঁজ থাকার পর বাড়ি ফিরে নিজের ঘরে ঢুকে পড়েন মানসিক ভারসাম্যহীন ওই বৃদ্ধ। কোনো ভৌতিক ঘটনা ঘটেনি।

মাস তিনেক আগে পথ হারিয়ে ট্রেনে উঠে দিল্লি চলে গিয়েছিলেন নৈহাটির বাসিন্দা ভূষণচন্দ্র পাল। গত নভেম্বর মাসের ১০ তারিখ থেকে নিখোঁজ হন মানসিক ভারসাম্যহীন ভূষণচন্দ্র পাল। প্রায় মাস খানেক খোঁজাখুঁজির পর পাল পরিবারের সদস্যরা নৈহাটি থানায় প্রথমে একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেছিলেন। তারপর বেশ কিছুদিন কেটে যাওয়ার পর নৈহাটি থানার পুলিশ অজ্ঞাতপরিচয় একটি মরদেহ উদ্ধার করে। ওই দেহ নৈহাটি হাসপাতালেই রাখা হয়েছিল।

পাল পরিবারের সদস্যদের সেই দেহ শনাক্ত করতে ডাকে নৈহাটি থানার পুলিশ। নিখোঁজ ভূষণচন্দ্র পালের পরিবারের সদস্যরা অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির মরদেহ ভূষণের বলে পুলিশের সামনে শনাক্ত করেছিলেন। তারপর সেই দেহ পাল পরিবারের হাতে তুলে দেয় পুলিশ। মরদেহ দাহ করার পর হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী শ্রাদ্ধও হয় ভূষণচন্দ্র পালকে স্মরণ করে।
 
শুক্রবার রাতে হঠাৎ করেই বাড়িতে ফিরে আসেন ভূষণচন্দ্র পাল। প্রথমে হতচকিত হয়ে পড়েন পাল পরিবারের সদস্যরা। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই ফেরে সম্বিত। সব জেনে পাল পরিবারও আজ বেশ খুশি। দীর্ঘদিন পর ভূষণ বাড়ি ফেরায় খুশি তার প্রতিবেশীরাও। 

বহুদিন পর আবার নিজের বাড়িতে ফিরতে পেরে খুশি বৃদ্ধ ভূষণচন্দ্র পালও। ভূষণের বাড়ি ফেরা প্রসঙ্গে কাউন্সিলর সনৎ দে জানান, ভূষণচন্দ্র পাল মানসিক ভারসাম্যহীন। পাল পরিবারের সদস্যরা অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির মরদেহ ভুল করে শনাক্ত করেছিলেন। যার দেহ সৎকার করা হয়েছিল, তিনি ভূষণ ছিলেন না। নৈহাটির সাহেবকলোনি মোড় এলাকায় ভূষণচন্দ্র পাল তার ভাইয়ের বাড়িতে থাকতেন। তার নিজের পরিবার মেদিনীপুরে থাকে।

বাড়ি ফিরে ভূষণ জানান, ভুল করে ট্রেনে উঠে দিল্লি চলে গিয়েছিলেন। পথ হারিয়ে ফেলেছিলেন। পরে আবার খুঁজতে খুঁজতে নিজের বাড়ি চলে আসেন। জানা গেছে, গত জানুয়ারি মাসে ভূষণচন্দ্র পালের নাম করে নৈহাটির রামঘাটে দাহ করা হয় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির দেহ। এবার সেই ব্যক্তির প্রকৃত পরিচয় জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা