kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৭ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৫ জমাদিউস সানি ১৪৪১

রাস্তায় পড়ে থাকা নাসিমাকে পরিবারে কাছে হস্তান্তর

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৭ জানুয়ারি, ২০২০ ২০:৩৭ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



রাস্তায় পড়ে থাকা নাসিমাকে পরিবারে কাছে হস্তান্তর

পাঁচ মাস আগে খট্রপাড়া গহলা ইউনিয়নের সাপাহার উপজেলার নওগাঁ জেলার বাবার বাড়ি থেকে নিরুদ্দেশ হন নাসিমা আক্তার (৫২)। অনেক খোঁজখবর করেও কোনো সন্ধান পাননি স্বজনেরা।

তবে উদ্ধারের পর নাসিমাকে নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ফেসবুকের কল্যাণে তাঁর পরিবারের খোঁজ মিলেছে। জানা গেছে, ওই বৃদ্ধা মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছিলেন এবং পাঁচ মাস পথে পথে দিন কেটেছে তাঁর।

নাসিমা আক্তারকে উদ্ধারে সহায়তা করেছে মানবতার ফেরিওলা মামুন বিশ্বাস ও স্থানীয় সংগঠন "বর্ণচ্ছটা"।

তিন মাস ধরে সিরাজগঞ্জ জেলার সলংগা বাজারে কনকনে ঠাণ্ডায় কিছু খড় ও পুরনো কম্বল মুড়িয়ে পড়েছিল নাসিমা আক্তার। ১৮ জানুয়ারি তাকে উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতাল ভর্তি করে দি বার্ড সেফটি হাউসের সভাপতি মামুন বিশ্বাস। 

নাসিমা আক্তারকে চিকিৎসা শেষে গত বুধবার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতাল থেকে তাকে ভালুকার সাড়া মানবিক বৃদ্ধাশ্রমের প্রতিনিধিদের কাছে হস্তান্তর করেন। 

গতকাল রবিবার নাসিমা আক্তারের বড় ভাই আব্দুস সাতার পরিবারের ৭ জন সদস্য নিয়ে সিরাজগঞ্জে যান। হাসপাতাল ও সাংবাদিকদের সহযোগিতায় নাসিমার ভাই মামুন বিশ্বাসের সাথে যোগাযোগ করেন। রাতেই তাদেরকে সাড়া মানবিক বৃদ্ধাশ্রমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুল মালেকের সাথে যোগাযোগ করে সেখানে পাঠিয়ে দেন। আজ সোমবার সকালে তাদের হাতে নাসিমাকে হস্তান্তর করা হয়।

সাড়া মানবিক বৃদ্ধাশ্রমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুল মালেক জানান, নাসিমার পরিবারকে পেয়ে সত্যি আনন্দিত, তাদের হাতে তুলে দিতে পেরে অনেক ভালো লাগছে। 

রবিবার সাড়া মানবিক বৃদ্ধাশ্রমে নাসিমা আক্তারে ভাই আব্দুল সাতার জানান, ১৬ বছর আগে স্বামীর সঙ্গে তাঁর বোনের বিচ্ছেদ হয়ে গিয়েছিল। তখন থেকে আমার বোন আমার কাছেই ছিলো। এক মেয়ের বিয়ে দেওয়া হয়েছে। মাঝে মাঝে তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়তেন। গত পাঁচ মাস আগে হঠাৎ বাড়ি থেকে উধাও হয়ে যান তিনি। এরপর অনেক খুঁজেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। 

ফেসবুক ব্যবহার করে অনেক ভালো কিছু করা যায় উল্লেখ করে মামুন বিশ্বাসকে কৃতজ্ঞতা জানান আব্দুল সাতার।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা