kalerkantho

সোমবার। ২৭ জানুয়ারি ২০২০। ১৩ মাঘ ১৪২৬। ৩০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

‘সমকামী যুগল’ ও শ্রমিক পরিবারের সন্তান প্রধানমন্ত্রী সানা ম্যারিন

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১১ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১৭:৫৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘সমকামী যুগল’ ও শ্রমিক পরিবারের সন্তান প্রধানমন্ত্রী সানা ম্যারিন

তার বংশে তিনিই প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করার সুযোগ পেয়েছেন। কিন্তু কেউ ভাবতে পারেনি একদিন দেশের প্রধানমন্ত্রীও হবেন তিনি। সেই অসম্ভবকেই সম্ভব করে দেখালেন শ্রমিক পরিবারের মেয়েটি। ৩৪ বছর বয়সে দায়িত্ব নিয়েছেন ফিনল্যান্ডের। শুধু ওই দেশেরই নন, সানা ম্যারিন সারা বিশ্বের কনিষ্ঠতম প্রধানমন্ত্রী।

ফিনল্যান্ডের রাজধানী হেলসিঙ্কিতে সানার জন্ম ১৯৮৫ সালের ১৬ নভেম্বর। জন্মগত নাম সানা মিরেলা ম্যারিন। ১৯ বছর বয়সে ২০০৪ সালে তিনি হাই স্কুল উত্তীর্ণ হন। তিন বছর পরে স্নাতক হন ইউনিভার্সিটি অব ট্যাম্প্রে থেকে অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সায়েন্সেস বিষয়ে। রাজনীতিতে প্রবেশ ২৭ বছর বয়সে।

ম্যারিন সদ্য মা হয়েছেন। ম্যারিনের মেয়ে এমার বয়স এখনও দুই বছর হয়নি। এমার জন্ম ২০১৮-র জানুয়ারিতে। ম্যারিন অবশ্য এখনও বিয়ে করেননি। তিনি দীর্ঘদিন ধরে লিভ ইন করছেন পার্টনার মার্কাস রাইক্কোনেনের সঙ্গে। ভবিষ্যতে বিয়ের পরিকল্পনা আছে দু’জনের।

যে পরিবারে ম্যারিনের বড় হওয়া, সেটিও বেশ বৈচিত্রময়। ম্যারিন নিজে সমকামী দম্পতির সন্তান। তবে নিজের ব্যক্তিগত জীবন সংবাদমাধ্যম থেকে গোপন রাখতেই পছন্দ করেন সানা। নিজের সম্বন্ধে শুধু এ টুকু বলেন, তিনি রামধনু পরিবারের সন্তান।

সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ, ম্যারিনের শৈশব কেটেছে ভাড়াবাড়িতে। তাকে বড় করে তোলেন মা এবং মায়ের সঙ্গিনী। পারিবারিক পরিচয় দিতে শৈশবে বারবার হোঁচট খেয়েছেন তিনি। জানিয়েছেন ম্যারিন নিজেই। গুটিয়ে রাখতেন নিজেকে। কিন্তু তাকে বরাবর আত্মবিশ্বাস আর সাহস জুগিয়েছেন তার জন্মদাত্রী। এখন দেশবাসীর ভরসাকে অটুট রাখার দায়িত্ব চৌত্রিশটি বসন্ত পেরোনো সানা ম্যারিনের কাঁধে।

ট্যাম্প্রে সিটি কাউন্সিলের সদস্য হন সাতাশেই। এরপর চেয়ারপার্সনের দায়িত্ব। ২০১৪ সালে সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির দ্বিতীয় ডেপুটি চেয়ারপার্সন হন তিনি। ২০১৫ সালে ৩০ বছর বয়সে প্রথমবার ফিনল্যান্ড পার্লামেন্টের সাংসদ নির্বাচিত হন ম্যারিন। ২০১৯ সালের ৬ জুন দায়িত্ব নেন দেশের যোগাযোগ ও পরিবহনমন্ত্রী হিসেবে।

ডাক বিভাগে ধর্মঘট নিয়ে মতপার্থক্যের জেরে জোটসঙ্গী সেন্টার পার্টি সমর্থন তুলে নেওয়ায় সম্প্রতি সরকার ভাঙে ফিনল্যান্ডে। আস্থা ভোটে হেরে গত মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন অ্যান্টি রিনে। সেই শূন্য আসনেই ম্যারিনকে নির্বাচিত করেছেন সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটরা। খুবই অল্প ভোটে জিতে তিনি মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিচ্ছেন।

তরুণ তুর্কী ম্যারিন অবশ্য আত্মবিশ্বাসী। স্পষ্ট জানিয়েছেন, বয়স বা লিঙ্গ নিয়ে আমি কোনও দিন ভাবিনি। কেন আমি রাজনীতিতে এসেছি, সেটাই ভাবি। ভাবি, কেন আমি দলের আস্থাভাজন হলাম। যথাযথ ভাবে নিজের দায়িত্বপালনের চেষ্টা করব।

এর আগে বিশ্বের কনিষ্ঠতম প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ইউক্রেনের ওলেক্সি হোঞ্চারুক। সম্প্রতি ৩৫ বছর বয়সে তিনি প্রধানমন্ত্রিত্বের দায়িত্ব নেন। তাকে রেকর্ডের দৌড়ে টেক্কা দিয়েছেন সানা ম্যারিন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা