kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জানুয়ারি ২০২০। ১৪ মাঘ ১৪২৬। ২ জমাদিউস সানি ১৪৪১     

বিশেষ ব্যবহার্য 'আইহর্ন' বছরে কেন এত বিক্রি হলো?

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১০ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১৭:১৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিশেষ ব্যবহার্য 'আইহর্ন' বছরে কেন এত বিক্রি হলো?

শারীরিক সম্পর্কে দু'জনের সম্পতির পর প্রথমেই যে বিষয় মাথায় রাখতে হয়, সেটা হলো- সন্তান নেওয়া কিংবা না-নেওয়ার ব্যাপারে। নব-বিবাহিতদেরও অনেকেই সন্তান নেওয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা সময় নিতে চান। এই সময়ে তারা বিভিন্নভাবে জন্ম নিয়ন্ত্রণ করেন।

পুরুষরা সচরাচর এই দায়িত্ব নারী সঙ্গীর ঘাড়ে চাপাতে চান। এজন্য ইনজেকশন থেকে শুরু করে প্রতিদিন পিল খাওয়ার কাজটি সারতে হয় অনেক নারীকে। আবার হঠাৎ করেই পিল খেতে চান না বহু নারী। অনিয়মিত শারীরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও দেখা দেয় আরেক রকমের বিপত্তি। হঠাৎ করে শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার পর গর্ভধারণ রোধে অনেকেই ইমার্জেন্সি পিল খান।

তবে মিলনের সময় কনডম ব্যবহার করলে অন্য কোনো ধরনের সমস্যা থাকে না। আবার এইচআভি আক্রান্তের ঝুঁকি থেকে বাঁচতেও কনডম সবচেয়ে উপযোগী। বলা চলে, কনডম হলো- মিলনের ক্ষেত্রে কিংবা জন্ম নিয়ন্ত্রণের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ ও ভরসার মাধ্যম। সে কারণে বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর বিশাল সংখ্যক এই পণ্য বিক্রি হচ্ছে।

জার্মানির আইহর্ন কনডম গত বছরে সাড় চার মিলিয়ন বিক্রি হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রত্যাশা, অচিরেই এটি বছরে ১৫ মিলিয়নের বেশি বিক্রি হবে। অথচ, আইহর্ন কনডম প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের যাত্রা শুরু মাত্র পাঁচ বছর আগে। সেটাও ক্রাউড ফান্ডিংয়ের মাধ্যমে জনগণের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে প্রতিষ্ঠানটি যাত্রা শুরু করে। মাত্র কয়েক বছরে বিশাল বড় বাজার দখল করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

জানা গেছে, ২০১৫ সালে ফিলিপ সিফার এবং ওয়াল্ডিমার জেইলার মিলে ক্রাউড ফান্ডিং শুরু করেন। তারা সবসময় চেষ্টা করেছেন, মানুষ ঠিক যে ধরনের কনডম চান, সেই মানের কনডম বাজারে নিয়ে আসতে। সে কারণে তারা, কনডমের আকার এবং এর পিচ্ছিল থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, জার্মানিতে পিলের পরে কনডম সবচেয়ে জনপ্রিয়। সেখানে বাৎসরিক আট বিলিয়ন পাউন্ড বিক্রি হয় এই কনডম। আর বিশ্বব্যাপী আইহর্ন কনডমের প্রসার হচ্ছে দিনের পর দিন। 

শুরুতে এক লাখ ১১ হাজার ডলার ক্রাউড ফান্ডিংয়ের মাধ্যমে ওঠে। সেই টাকা নিয়ে এবং সাধারণ জনগণের পরামর্শ ও চাহিদামাফিক কনডম বাজারে ছাড়া হয়। দিনের পর দিন পণ্যের চাহিদার কারণে উৎপাদনও বাড়াতে হয়েছে আইহর্নের।

আইহর্ন বলছে, তাদের বেশিরভাগ ক্রেতার বয়স ২০ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। জার্মানিতে আইহর্ন কনডমের ৬০ শতাংশ ক্রেতা নারী। সে কারণে প্রতিষ্ঠানটির ধারণা, নারীদের এই কনডম বেশি পছন্দ। সে কারণে নিজেরাই তারা পণ্যটি কিনে নিয়ে যায়। 

আবার অনেকেই কনডম কেনার সময় লজ্জা পান। সে কারণে ফার্মেসিতে কনডম ক্রেতার হাতে দেওয়ার আগে অন্য কাগজে কনডমের প্যাকেট ভালোভাবে মুড়িয়ে দেওয়া হয়। সেই দিকটি বিবেচনা করে আইহর্ন কনডমের প্যাকেটের ডিজাইন করা হয়েছে ভিন্ন ধরনের। যা দেখে সচরাচর কেউ মনে করতে পারবে না যে, এর ভেতরে কনডম রয়েছে। 

ক্রেতারা আইহর্ন পছন্দের পেছনের অন্যতম কারণ হলো- এটি ছিঁড়ে বা ফেটে যায় না। মিলনের সময় কনডমটি শুকিয়ে যায় না। এর পরিবর্তে এটি পুরোটা সময় পিচ্ছিল থাকে। এছাড়াও কনডমটির প্যাকেটে ভিন্ন ঘরানার ছবি থাকার কারণেও সহজেই সেটি কিনে নিয়ে যেতে পারেন ক্রেতারা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা