kalerkantho

বুধবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৩ রবিউস সানি     

পুরুষদের নির্বীজকরণ ইনজেকশন বাজারে আসছে

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৯ নভেম্বর, ২০১৯ ২২:৩২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পুরুষদের নির্বীজকরণ ইনজেকশন বাজারে আসছে

অস্ত্রোপচার ছাড়াই নির্বীজকরণ সম্ভব হবে। এবার সার্জারির মাধ্যমে পুরুষের নির্বীজকরণের বিকল্প এক ইনজেকশনের সন্ধান পেলেন ভারতের বিজ্ঞানীরা। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও এর ভূমিকা অপরিসীম হবে বলেই তারা আশাবাদী।

এক সময় মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারে জন্মনিয়ন্ত্রণের দায় পড়তো শুধু নারীর ওপর। সময় পাল্টানোর সঙ্গে সঙ্গে বদলে গেছে জীবন দেখার দৃষ্টিভঙ্গিও। সেই বদলের হাত ধরেই কনডম, পিল ঢুকে পড়েছে নিম্নবিত্তের বিছানায়। ভ্যাসেকটমিও বেশ পরিচিত হয়ে উঠেছে সমাজের নানা স্তরেই। 

এবার সেই ঝক্কিও কমিয়ে দিতে এক ইনজেকশনের খোঁজ দিলেন ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর)-এর গবেষকরা। তাদের পরীক্ষিত এই ইনজেকশনটি বাজারীকরণ থেকে মাত্র এক ধাপ দূরে। এরই মধ্যে ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল অব ইন্ডিয়া (ডিসিজিআই)-র সীলমোহরের অপেক্ষায় রয়েছে এই ইনজেকশন।

আইসিএমআর-এর গবেষক আর এস শর্মা বলেন, ইনজেকশনটি বাজারে আনার জন্য দিন গুনছি আমরা। এরই মধ্যে তিনটি ধাপে এর নানা পরীক্ষা সারা হয়েছে। তিনটি ট্রায়ালও দেওয়া হয়েছে। ৩০৩ জন পুরুষের ওপর এই ইনজেকশন প্রয়োগ করে দেখা গেছে, ৯৭.৩ শতাংশ ক্ষেত্রেই ফলাফল আমাদের অনুকূলে এসেছে। বাজারীকরণ হলে এটিই হবে পুরুষদের জন্য তৈরি বিশ্বের প্রথম কন্ট্রাসেপটিভ ইনজেকশন।

ভারতসহ নানা দেশেই এই বিষয় নিয়ে গবেষণা চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য বিষয়ক এক ওয়েবসাইটে সম্প্রতি এ বিষয়ে সেই দেশের গবেষণা নিয়ে একটি প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়। সেখানে দাবি করা হয়েছে, ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র এই বিষয়ে অনেকটা এগিয়ে গেলেও তাদের তৈরি ইনজেকশনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকায় তা বাজারীকরণ করা সম্ভব হয়নি।

এই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার দিকটি নিয়েই ভারতীয় বিজ্ঞানীরা সচেতন ছিলেন। অধ্যাপক আর এস শর্মা বলেন, ১৯৭০ সালে আইআইটি-র অধ্যাপক এস কে গুহ একটি পলিমারের সন্ধান দেন। সেই পলিমার নিয়েই ১৯৮৪ সাল থেকে গবেষণা করছে আইসিএমআর। বার বার পরীক্ষা, ইঁদুরের ওপর প্রয়োগ, মানুষের ওপর প্রয়োগ, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সব দিক নজরে রেখেই এই গবেষণা আমরা চালিয়েছি।

ভারত সরকারের সাবেক পরিবারকল্যাণ সম্পাদক এ আর নন্দ বলেন, সরকারের উচিত জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে এই বিষয়গুলো নিয়ে আরো বেশি করে প্রচারে জোর দেওয়া। মানুষের মধ্যেও সচেতনতা বাড়ানো। পুরুষরাও যে গর্ভনিরোধে এগিয়ে আসতে পারেন, তাতে কোনো অসুবিধা নেই— এই প্রচার এখনো প্রয়োজন। তবেই এই ইনজেকশনের গুরুত্ব মানুষ বুঝবেন।

এই ইনজেকশন প্রয়োগ সার্জারির চেয়ে অনেক সহজ ও কম কষ্টসাধ্য। লোকাল অ্যানাস্থেশিয়া করে এই পলিমারটি টেস্টিক্যালসের কাছে শুক্রাণু বহনকারী টিউবে প্রয়োগ করা হবে। শুক্রাণু নির্গমনকে বাধা দেবে এই ইনজেকশন। একবার গ্রহণ করলে প্রায় ১৩ বছর পর্যন্ত কার্যকরী থাকবে এটি।

কনডম, পিলসহ নানা গর্ভনিরোধকের চেয়ে এই ইনজেকশনের ক্ষমতা অনেক বেশি। সেটা বহুলভাবে জনপ্রিয় হবে বলেই আশা বিজ্ঞানীদের।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা