kalerkantho

বুধবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৩ রবিউস সানি     

গেম চেঞ্জার অ্যাওয়ার্ড পেলেন নাজমুন নাহার

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৮ নভেম্বর, ২০১৯ ১৮:৪৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গেম চেঞ্জার অ্যাওয়ার্ড পেলেন নাজমুন নাহার

যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক পিস টর্চ অ্যাওয়ার্ড ও ডটার অব দ্য আর্থ উপাধি অর্জনের পর নাজমুন নাহারের অর্জনের ঝুলিতে আবারো যুক্ত হলো আরেকটি নতুন রত্ন। বাংলাদেশের পতাকাবাহী প্রথম বিশ্বজয়ী নাজমুন নাহার এবার পেয়েছেন গেম চেঞ্জার অ্যাওয়ার্ড। 

জন্টা ইন্টারন্যাশনালের ১০০ বছর উদযাপন উপলক্ষে নাজমুনকে সম্মানিত করা হয়েছে গেম চেঞ্জার অ্যাওয়ার্ড এর মাধ্যমে। ৫ অক্টোবর শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে অনুষ্ঠিত জন্টা ইন্টারন্যাশনালের কনভেনশনের ১০০ বছর পূর্তিতে নাজমুন নাহারের বিশ্ব অভিযাত্রার ভিডিও চিত্র প্রদর্শিত হয়। তার বিশ্বভ্রমণের অনুপ্রেরণামূলক মেসেজের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী শিশু ও নারীদের উৎসাহিত করার জন্য নাজমুনকে 'গেম চেঞ্জার' হিসেবে অভিহিত করা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ব জন্টার বিভিন্ন দেশের গভর্নর, প্রেসিডেন্ট ও মেম্বাররা।

উপস্থিত সকল অতিথিদের সামনে নাজমুন নাহারের বিশ্বভ্রমণের উপর তথ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়‌ এবং আগত সকল অতিথিরা করতালির মাধ্যমে নাজমুন নাহারকে অভিনন্দন জানান। উপস্থিত ছিলেন পারসোনা হেয়ার অ্যান্ড বিউটি লিমিটেড-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক কানিজ আলমাস খান ও অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও জন্টা ইন্টারন্যাশনাল-এর মেম্বাররা।

জন্টা বাংলাদেশের বোর্ড মেম্বার দিলরুবা আহমেদের নেতৃত্বে ১৫ নভেম্বর চিটাগাং ক্লাবের গার্ডেন গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত জন্টার ১০০ বছর উদযাপন উপলক্ষে 'গেম চেঞ্জার অ্যাওয়ার্ডটি' নাজমুনের হাতে তুলে দেন চট্টগ্রাম জন্টার প্রেসিডেন্ট ইয়াসমিন খান এবং জন্টা বাংলাদেশের মেম্বাররা। সেখানে নাজমুনকে সম্মাননা স্বরূপ ১৫ হাজার টাকার সম্মাননা খাম তার হাতে তুলে দেন জন্টার বোর্ড মেম্বার দিলরুবা আহমেদ।

নাজমুন ইতিমধ্যে বিশ্ব ভ্রমণের ঐতিহাসিক রেকর্ড এর মাধ্যমে কোটি মানুষের হৃদয়ে সাড়া জাগিয়েছেন। গত ১৯ বছর ধরে তিনি একা একা সড়কপথে বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা হাতে বিশ্ব শান্তির বার্তা পৌঁছাতে এ পর্যন্ত পৃথিবীর ১৩৫টি দেশ অভিযাত্রা করেছেন। ২০২১ সালের মধ্যে তিনি বিশ্বের ২০০টি দেশে বাংলাদেশের লাল সবুজের পতাকা পৌঁছে দিতে  চান। 

নাজমুন নাহার সড়ক পথে একা একা পৃথিবীব্যাপী অভিযাত্রা করেছেন কখনও না খেয়ে, কখনও না ঘুমিয়ে‌। পৃথিবীর বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় তিনি গিয়েছেন। কখনো সু-উচ্চ পর্বত শৃঙ্গে, কখনো সমুদ্রের তলদেশে, কখনো অচেনা কোন দ্বীপে তার অভিযাত্রা ছিল। বিশ্বব্যাপী এই অভিযাত্রার সময় তিনি পাঁচবার মৃত্যু মুখে পতিত হয়ে বেঁচে এসেছেন।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বাচ্চাদেরকে অনুপ্রেরণা দেওয়ার পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশের শিশুদেরকেও তার বিশ্ব ভ্রমণের অভিযাত্রার লোমহর্ষক গল্পের মাধ্যমে অনুপ্রেরণা দেন এবং তিনি এক পৃথিবী এক পরিবারের শান্তির বার্তা পৌঁছে দিচ্ছেন পৃথিবীব্যাপী। ১২ নভেম্বর নিউইয়র্ক থেকে ঢাকায় ফিরেই জাতীয় শিশু একাডেমিতে শত শত বাচ্চাদের সামনে তিনি বিশ্ব- অভিযাত্রা অনুপ্রেরণামূলক গল্পগুলো তুলে ধরার মাধ্যমে তাদেরকে অনুপ্রাণিত করেন।

নাজমুন ইতিমধ্যেই পৃথিবীব্যাপী পেয়েছেন ব্যাপক পরিচিতি। বহু সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। তার অর্জনের ঝুলিতে যুক্ত হয়েছে এবার আরো অনেকগুলি অ্যাওয়ার্ড। এ বছর তিনি পেয়েছেন অনন্যা শীর্ষদশ অ্যাওয়ার্ড। নাসাউ কলোসিয়ামের ফোবানা সম্মেলনে নাজমুনকে সম্মানিত করা হয়েছিল ‘মিস আর্থ কুইন অ্যাওয়ার্ড’ ও ইয়ুথ কনফারেন্সে ‘গ্লোব অ্যাওয়ার্ড’ দিয়ে। তিনি আরো পেয়েছিলেন অতীশ দীপঙ্কর গোল্ড মেডেল অ্যাওয়ার্ড, জন্টা ইন্টারন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড, রেড ক্রিসেন্ট মোটিভেশনাল অ্যাওয়ার্ড। 

তিনি কেবল বাংলাদেশের পতাকা বুকে নিয়ে বিভোর নতুন নতুন সীমানা জয়ের স্বপ্ন পূরণে। তাঁর একটাই স্বপ্ন পৃথিবীর প্রতিটা দেশে তার এই লাল সবুজের পতাকা উড়ানোর মাধ্যমে বিশ্ব শান্তির বার্তা পৌঁছে দেবেন পৃথিবীর মানুষের মাঝে। নাজমুনর হাত ধরে বাংলাদেশ যাক সর্বোচ্চ উচ্চতায়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা