kalerkantho

শুক্রবার । ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৫ রবিউস সানি          

বিবিসির খবর নিয়ে ক্ষোভ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৫ নভেম্বর, ২০১৯ ১৬:৫৬ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিবিসির খবর নিয়ে ক্ষোভ

ইরাক ও সিরিয়া ভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের নেতা আবু বকর আল বাগদাদির মৃত্যুর পর সংগঠনটির অবস্থা ও বাংলাদেশে বর্তমানে জঙ্গিবাদের ঝুঁকি ইস্যু উল্লেখ করে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বাংলায় প্রকাশিত একটি অনুষ্ঠানের শিরোনাম নিয়ে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। ওয়েবসাইটে আপলোডের সময় ওই অনুষ্ঠানের শিরোনাম দেয় হয়, ‘ইসলামিক স্টেটের আনুগত্য স্বীকারকারী এই দশজন কি বাংলাদেশি’।

‘অপ্রতিষ্ঠিত’ ইস্যুতে বাংলাদেশের সঙ্গে ইসলামিক স্টেটকে জড়িয়ে প্রকাশিত এমন সংবাদকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিভ্রান্তিমূলক বলছেন সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীরা।

গত ১৩ নভেম্বর বিবিসি বাংলার অনলাইনে একটি আলোচনা অনুষ্ঠান প্রচার করা হয়। সাংবাদিক তাসনীম খলিলকে অতিথি রেখে অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন মোয়াজ্জেম হোসেন।

ওই অনুষ্ঠানটি উল্লেখিত শিরোনামে আপলোড করে বিবিসি। তবে শিরোনামে ইসলামিক স্টেট, বাংলাদেশ ও বাংলাদেশি; এই বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেয়ায় সোশ্যাল মিডিয়ায় নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

সংবাদমাধ্যমটির ফেসবুক পেজে শেয়ার করা সংবাদের নিচে মন্তব্যের ঘরে প্রতীক বিশ্বাস নামের এক ফেসবুক ব্যবহারকারী লেখেন, একটা জিনিস খুব গভীর ভাবে লক্ষ্য করছি গত কয়েকদিনের বিবিসি বাংলার খবরের আইটেমগুলো দেখে। অধিকাংশ খবর উস্কানিমূলক এবং সাম্প্রদায়িক বিভ্রান্তিমূলক বাংলাদেশের জনগণের জন্য। উদ্দেশ্য যদি খারাপ হয় এর ফল আমাদেরই ভোগ করতে হবে।

মোমিন নামের এক ফেসবুক ব্যবহারকারী লেখেন, বিবিসি নামক ষড়যন্ত্রকারী মিডিয়া বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করছে। তারা যদি সত্যি মিডিয়া হয় তাহলে নির্দিষ্ট করে বলুক যে এটা বাংলাদেশের ছবি। তা না বলে আন্দাজে বলে দেশকে অশান্তি করার পায়তারাকে তীব্র নিন্দা জানাই।

হালিম কবির নামের একজন লেখেন, আপনি কেমনে বুঝলেন এরা বাংলাদেশি। কোথাও তো বাংলাদেশ লেখা নেই। অনুমানের উপর নির্ভর করে সংবাদ করেন কীভাবে?

তবে শুধু সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীরা নন, দেশের নিরাপত্তা বিশ্লেষকরাও বিষয়টিকে উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন। নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আলী শিকদার এ বিষয়ে বলেন, ভূরাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য বৈশ্বিক জঙ্গিবাদ ইসলামিক স্টেটকে কব্যবহার করে একটি অংশ। বিবিসি তাদেরই প্রতিনিধিত্ব করে। যারা ইসলামিক স্টেটকে ব্যবহার করে ভূরাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলকারীদের জন্য, বিবিসির এমন শিরোনাম সহায়ক হিসেবে কাজ করতে পারে। তাই তাদের উদ্দেশ্য দেখে মনে হয় তারা বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিতে চাইছেন।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের মানুষ জঙ্গিবাদবিরোধী। সরকারও এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তাই তাদের ষড়যন্ত্র খুব একটা কাজে আসবে না।

বিবিসির এমন শিরোনামের সমালোচনা করে সাবেক প্রধান তথ্য কমিশনার ও গণমাধ্যম গবেষক মো. গোলাম রহমান বলেন, এমন শিরোনাম পাঠকদের মিসলিড করে। এটা বস্তুনিষ্ঠ হয়নি। স্পর্শকাতর ইস্যুতে এমন শিরোনাম দিয়ে বিবিসি তার দায়বদ্ধতা অস্বীকার করতে পারে না। এমন শিরোনামে দেশের সুনাম নষ্ট হয়।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার সাবেক এ চেয়ারম্যান বলেন, পাঠকদের বিভ্রান্ত করে এমন কোনো শিরোনামে বিবিসির সংবাদ প্রকাশ করা উচিত নয়। এর বিরুদ্ধে সরকারের উচিত কঠোর অবস্থান নেয়া এবং প্রতিবাদ জানানো।

বিষয়টি নিয়ে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক শেখ মোহাম্মদ শফিউল ইসলাম বলেন, প্রশ্নবোধক শিরোনাম করে সেখানে জঙ্গিবাদ, বাংলাদেশ ও বাংলাদেশি শব্দ রেখে তা প্রকাশ করা উচিত হয়নি বিবিসির। আন্তর্জাতিকভাবে স্পর্শকাতর একটি ইস্যুতে কোনো দেশ ও তার নাগরিকদের কথা উল্লেখ করে এমন সংবাদ উদ্দেশ্যমূলক।

তিনি বলেন, এমন শিরোনামের সংবাদ বহির্বিশ্বে দুর্নাম সৃষ্টি করে। এটা কোনো দেশের সম্মানহানী করার মতো ঘটনা।

বিষয়টি আমলে নিয়ে সরকারের প্রতিবাদ করা উচিত বলেও মত দেন তিনি।

এর আগে গত ৯ নভেম্বর ‘বাবরি মসজিদ ভাঙ্গার পর বাংলাদেশে উত্তেজনার দিনগুলো’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ করে বিবিসি বাংলা। ওই প্রতিবেদন নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা