kalerkantho

রবিবার । ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯। ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৭ রবিউস সানি                    

শুভ জন্মদিন হুমায়ূন আহমেদ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৩ নভেম্বর, ২০১৯ ১৫:৪৭ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



শুভ জন্মদিন হুমায়ূন আহমেদ

কার্তিকের চাঁদ ছিল হুমায়ূন আহমেদের ভীষণ প্রিয়। চাঁদের অনাঘ্রাত সৌন্দর্য উপভোগ করতে মাঝেমধ্যেই তিনি ছুটে যেতেন নুহাশপল্লীতে। বসতেন লিচুগাছতলায়। পাশেই বেশ কয়েকটি জাম, জলপাই আর তেঁতুলগাছ। বৃক্ষরাজির মাঝখানে একচিলতে ফাঁকা জায়গা সবুজ ঘাসে আচ্ছাদিত। দক্ষিণে শেফালি, কামিনী ফুলসহ আরো কত গাছ। তিনটি লিচুগাছের গোড়া বাঁধানো। সাহিত্যের রাজপুত্র আজ নেই। জন্মদিনে আজ তিনি আছেন তাঁর সেই প্রিয় লিচুগাছতলায়। সেখানে শ্যামল ছায়ায় আজও গাছপালা-লতাপাতা চুইয়ে ঝরে পড়ে শিশিরকণা। আজও পাখিরা গান গায়, ফুল ফোটে। কার্তিকের মেঠো চাঁদ, তাঁর প্রিয় গাছগাছালি, মাটির গন্ধ তাঁকে আজ জানাচ্ছে জন্মদিনের শুভেচ্ছা, ভালোবাসা।

শুভ জন্মদিন বাংলা সাহিত্যের রাজপুত্র হুমায়ূন আহমেদ। জন্মদিনের আড়ম্বরতা পছন্দ ছিল না তাঁর। তবু রাত ঠিক ১২টা ১ মিনিটে প্রিয়জন, বন্ধুবান্ধব, সুহূদদের নিয়ে কাটতেন কেক। রাত গড়িয়ে সকাল হলে ভক্তরা ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাত প্রিয় লেখককে। এ ছাড়া দিনভর নানা আয়োজন তো থাকতই। বছর ঘুরে আজ এসেছে সেই শুভক্ষণ। আজ ১৩ নভেম্বর বাংলা সাহিত্যের এই জননন্দিত লেখক, নাট্যকার ও চলচ্চিত্রকারের ৭২তম জন্মদিন ও ৭১তম জন্মবার্ষিকী। ১৯৪৮ সালের এই দিনে তিনি নেত্রকোনার মোহনগঞ্জের দৌলতপুর গ্রামে নানাবাড়িতে জন্ম নেন। 

১৯৭২ সালে প্রকাশিত হুমায়ূন আহমেদের প্রথম উপন্যাস ‘নন্দিত নরকে’ পাঠকমহলে এতটাই নন্দিত হয়েছিল যে এরপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি তাকে। ২০১২ সালের ১৯ জুলাই মারণব্যাধি ক্যান্সারের কাছে হার মানার আগে ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, গীতিকার, নাট্যকার, চলচ্চিত্র পরিচালক- প্রতিটি ক্ষেত্রেই জনপ্রিয়তার শীর্ষে ছিলেন তিনি।

রসবোধ আর অলৌকিকতার মিশেলে বাংলা কথাসাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন হুমায়ূন আহমেদ। তাঁর সৃষ্টি হিমু, মিছির আলী, বাকের ভাই চরিত্রগুলো পেয়েছে ‘অমরত্ব'। তাঁর লেখা গানগুলো এখনও মানুষের মুখে মুখে।

১৯৮০-১৯৯০ এর দশকে বাংলাদেশ টেলিভিশনের জন্য ধারাবাহিক এবং স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র রচনা শুরু করেন তিনি। ১৯৮৩ সালে তার প্রথম টিভি কাহিনীচিত্র ‘প্রথম প্রহর’ বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচার শুরু হলে বেশ জনপ্রিয়তা পায়।

নব্বই দশকের মাঝামাঝি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করে লেখালেখিতে পুরো মনোযোগ দেন হুমায়ূন আহমেদ।

তাঁর টেলিভিশন ধারাবাহিকগুলোর মধ্যে ‘এইসব দিনরাত্রি’, ‘বহুব্রীহি’, ‘কোথাও কেউ নেই’, ‘নক্ষত্রের রাত’, ‘অয়োময়’, ‘আজ রবিবার’, ‘নিমফুল’, ‘তারা তিনজন’ ‘মন্ত্রী মহোদয়ের আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম', ‘সবুজ সাথী’, ‘উড়ে যায় বকপঙ্খী’, ‘এই মেঘ এই রৌদ্র’ এখনও ইউটিউবে খুঁবে বেড়ান অনেকেই।

হুমায়ূন আহমেদের চিত্রনাট্য ও পরিচালনার ছবিগুলোর মধ্যে ‘আগুনের পরশমণী’, ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’, ‘দুই দুয়ারী’, ‘চন্দ্রকথা’, ‘শ্যামল ছায়া’, ‘নয় নম্বর বিপদ সংকেত’, ‘ঘেটুপুত্র কমলা’ দর্শক ও সমালোচকদের মন জয় করেছে৷ ‘খেলা’, ‘অচিন বৃক্ষ’, ‘খাদক’, ‘একি কাণ্ড’, ‘একদিন হঠাৎ’, ‘অন্যভূবন’ এর মত নাটকগুলোর আলোচিত ডায়লগ এখনও অনেকের মুখেই শোনা যায়।

বাংলা সাহিত্যে অবদানের জন্য ১৯৯৪ সালে একুশে পদক লাভ করেন তিনি৷ এছাড়া বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৮১), হুমায়ূন কাদিও স্মৃতি পুরস্কার (১৯৯০), লেখক শিবির পুরস্কার (১৯৭৩), জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (১৯৯৩ ও ১৯৯৪), বাচসাস পুরস্কারসহ (১৯৮৮) অসংখ্য সম্মাননা পেয়েছেন নন্দিত এই কথাসাহিত্যিক।

জাপান টেলিভিশন ‘এনএইচকে’ হুমায়ূন আহমদকে নিয়ে নির্মাণ করে ১৫ মিনিটের তথ্যচিত্র ‘হু ইজ হু ইন এশিয়া’।

জন্মদিনের আয়োজন : বিভিন্ন সাংস্কৃতিক-সামাজিক সংগঠন হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন উদযাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বরাবরের মতো এবারও হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন ঘিরে চ্যানেল আই দিনব্যাপী ‘হুমায়ূন মেলা’র আয়োজন করেছে। এছাড়া হুমায়ূন আহমেদের প্রকাশকদের আয়োজনে পাবলিক লাইব্রেরি চত্বরে আয়োজন করা হবে সপ্তাহব্যাপী হুমায়ূন আহমেদ বইমেলার।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা