kalerkantho

রবিবার । ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯। ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৭ রবিউস সানি                    

বাবরির জায়গায় রামমন্দির চান, চা-কলা খেয়ে অনশনে ২৭ বছর

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১২ নভেম্বর, ২০১৯ ১৮:৫৯ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বাবরির জায়গায় রামমন্দির চান, চা-কলা খেয়ে অনশনে ২৭ বছর

শুধু কলা আর চা খেয়ে গত ২৭ বছর ধরে বেঁচে আছেন ভারতের মধ্যপ্রদেশের এক নারী। বাবরি মসজিদ ভেঙে ফেলার পর সেই জায়গায় রামমন্দির নির্মাণের ব্রত হিসেবে এই খাদ্যাভ্যাসই বেছে নিয়েছিলেন রাজধানি ভোপাল থেকে আড়াইশ কিলোমিটার দূরে জবলপুরের বিজয় নগরের ঊর্মিলা চতুর্বেদী। বাবরি মসজিদ মামলায় ভারতের সুপ্রিম কোর্টের রায়ে হাসি ফুটেছে তার মুখে।

১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদ ভেঙে ফেলাকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় রক্তাক্ত হয় সারা ভারত। বাদ যায়নি ঊর্মিলা দেবীর নিজের শহর জবলপুরও। সে দিনের ঘটনা প্রসঙ্গে অশীতিপর বৃদ্ধা বলেন, আমি দেখেছিলাম হিন্দু আর মুসলিমরা একে অন্যকে খুন করছে। এই দৃশ্যগুলো দেখার পর থেকে আমি খাওয়া ছেড়ে দিয়েছিলাম। তারপর ২৭ বছর কেটে গেছে।

গত ৯ নভেম্বর ভারতের সুপ্রিম কোর্ট যখন বাবরি মসজিদ মামলার রায় দিচ্ছে তখন টেলিভিশনে চোখ আটকে ছিল ঊর্মিলা দেবীর। রায় শেষে স্বভাবতই খুশি হয়েছেন এই বৃদ্ধা। এত বছর ধরে তার এই খাদাভ্যাসকে নিয়ে মশকরা করেন অনেকে। অনেকে আবার বলেছেন, এই ব্রত থেকে সরে আসতে।
 
কিন্তু নিজের অবস্থান থেকে এতটুকুও সরে আসেননি ঊর্মিলা দেবী। মামলার রায় শেষে এখন বৃদ্ধা অপেক্ষায় আছেন রামমন্দির নির্মাণের পর রামের মূর্তির সামনে প্রণাম করে এই ব্রত ভাঙার।

বাবরি মসজিদ মামলার রায় বের হওয়ার পর ঊর্মিলাদেবীকে জোর করে খাওয়ানোর চেষ্টা করেন তার স্বজনরা। কিন্তু খেতে অস্বীকার করে তিনি জানান, যতদিন না পর্যন্ত সেখানে গিয়ে রামের আশীর্বাদ পাচ্ছেন, ততদিন পর্যন্ত তিনি খাবার গ্রহণ করবেন না।

ঊর্মিলার শরীরে বয়স থাবা বসালেও মনের একগুঁয়েমি যে এতটুকুও কমেনি, সে কথা মনে করিয়ে দেন তার পরিবারের লোকজন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা