kalerkantho

সোমবার । ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১১ রবিউস সানি ১৪৪১     

পুরো রিসোর্ট ধ্বংসস্তূপ, বুকিং বাতিল করে প্রাণে বাঁচল পর্যটক

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১২ নভেম্বর, ২০১৯ ১৮:১৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পুরো রিসোর্ট ধ্বংসস্তূপ, বুকিং বাতিল করে প্রাণে বাঁচল পর্যটক

রিসোর্টটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। গাছ ভেঙে পড়েছে কটেজের উপর। নষ্ট হয়ে গেছে জরুরি নথিপত্র। কম্পিউটার, শীততাপ নিয়ন্ত্রণের যন্ত্রও ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। গত শনিবার রাতে বুলবুলের তাণ্ডবে তছনছ হয়ে গেছে সুন্দরবনের ভারতের অংশের গোসাবা ব্লকের দয়াপুরের সুন্দরবন টাইগার ক্যাম্প রিসোর্ট।

ভরা পর্যটন মওসুম এখন। এ সময় সুন্দরবনে ভিড় জমান বহু দেশি-বিদেশি পর্যটক। বুলবুলের আগাম সতর্কবার্তায় রিসোর্টে বুকিং বাতিল করে ফিরে যান দেশি-বিদেশি পর্যটকরা। যার কারণে বড় বিপদের হাত থেকে রক্ষা পান পর্যটকরা। রিসোর্টের কর্মচারীরা প্রাণ বাঁচাতে ফাঁকা জায়গায় চলে গিয়েছিলেন।  

ওই রিসোর্টে ৮-১০ নভেম্বর পর্যন্ত ৪৯ জন দেশি-বিদেশি পর্যটকদের জন্য বুকিং ছিল। এর মধ্যে পাঁচজন ছিলেন বিদেশি পর্যটক। বুলবুলের আগাম সতর্কবার্তা হিসেবে বন দপ্তর রএসার্টগুলোকে বুকিং বাতিল করার নির্দেশ দেয়। সে অনুসারে দয়াপুরের ওই রিসোর্টটি সমস্ত বুকিং বাতিল করে পর্যটকদের ফিরিয়ে দেয়।

গোসাবার বিডিও সৌরভ মিত্র বলেন, ব্লক এলাকায় ঝড়ের তাণ্ডবে প্রায় ১২ হাজার বাড়িঘর ভেঙে গেছে। প্রচুর গাছপালা, বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়েছে। ওই রিসোর্টটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে খবর পেয়েছি। পুরো পরিস্থিতির ওপর আমরা নজর রাখছি। দুর্গত মানুষদের জন্য আমরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত ত্রাণের ব্যবস্থা করেছি।

সুন্দরবন টাইগার ক্যাম্প রিসোর্ট সূত্রে জানা গেছে, রিসোর্টটি ১৯টি কটেজে ভাগ করা আছে। তার মধ্যে ডাইনিং হল, কনফারেন্স রুম রয়েছে। শনিবার রাতে বুলবুল আছড়ে পড়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন এলাকায়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় রিসোর্টও। অধিকাংশ কটেজের উপর গাছ ভেঙে পড়ে। অধিকাংশ কটেজ ভেঙে পড়ে। 

জানা গেছে, বুলবুলের তাণ্ডবে রিসোর্টটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ঝড়ের তাণ্ডবে রিসোর্টে মজুদ করে রাখা খাবার নষ্ট হয়ে গেছে। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন ধরনের ফাইল, জরুরি, কাগজপত্র, কম্পিউটার, শীততাপ নিয়ন্ত্রণের যন্ত্র থেকে শুরু করে সব কিছু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গোসাবার দয়াপুরের ওই রিসোর্ট শুধু নয় বুলবুলের তাণ্ডবে গোসাবা ব্লকের সাতজেলিয়া, কুমিরমারি, ছোট মোল্লাখালি-সহ বিস্তীর্ণ এলাকায়  ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কোথাও মাটির বাড়ির চাল উড়ে গিয়ে দেয়াল ভেঙে পড়েছে। কোথাও বাড়ির চালে গাছ পড়ে বাড়ি ভেঙে গেছে। বহু জায়গায় বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়েছে। মঙ্গলবারও ব্লক এলাকার অধিকাংশ জায়গা বিদ্যুৎহীন। নেই ইন্টারনেট সংযোগ।

সজনেখালি রেঞ্জ অফিসের অপর পারে দয়াপুরে তৈরি হয় ওই রিসোর্টটি। গাছপালায় সুসজ্জিত মনোরম পরিবেশে তৈরি বহু পুরনো রিসর্টটি পর্যটকদের কাছে অন্যতম আকর্ষণ।

সুন্দরবন টাইগার ক্যাম্প রিসর্টের জেনারেল ম্যানেজার উদয়শঙ্কর রায় বলেন, বুলবুলের তাণ্ডবে আমাদের পুরো রিসোর্টটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। যা পরিস্থিতি তাতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় তিন কোটি টাকা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমাদের প্রতি সহানুভূতি জানানো হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা