kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

দ্বিতীয়বারও যমের বাড়ি থেকে বেঁচে ফিরলেন তিনি

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৮ নভেম্বর, ২০১৯ ২২:২৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দ্বিতীয়বারও যমের বাড়ি থেকে বেঁচে ফিরলেন তিনি

হুইলচেয়ারে বসে বাইবেল পড়ছিলেন ২৮ বছর বয়সী নিক উইলিয়ামস। ওই সময় তার ওপর বজ্রপাত হয়। এ ঘটনায় কোমায় চলে যান নিক। দীর্ঘ তিন মাস মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে দ্বিতীয় দফায় জীবন ফিরে পেলেন তিনি। 

এর আগে ২০০৮ সালে গাড়ি দুর্ঘটনায় মেরুদণ্ড ভেঙে গেছে তার। ওই ঘটনার পর থেকে কোমরের নিচ থেকেও অচল হয়ে গেছে। সে কারণে হুইল চেয়ারেই সময় কাটে নিকের।

চলতি বছরের ৪ আগস্ট বজ্রপাতের শিকার হয়ে কোমায় চলে যাওয়ার পর গতকাল বৃহস্পতিবার জ্ঞান ফেরে তার। এ সময় তার পরিবারের সদস্যরা খুশিতে আত্মহারা হয়ে ওঠেন।

নিক বলেন, বেঁচে আছি জেনে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আবারো ঘুরে দাঁড়াতে চাই। সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার জ্যাকসন মেমোরিয়াল হসপিটালের সেই ঘরে বসে এসব কথা বলেন তিনি, যেখানে তার স্বজনরা নিকের পরিস্থিতি জানার জন্য দিনের পর দিন অপেক্ষা করেছে।

নিক বলেন, আমি মুক্ত বাতাসের আশায় সেদিন খোলা জায়গায় বসি। এরপর মোবাইলে বাইবেল পড়ছিলাম। তারপর তীর্যক আলো এসে পড়লো আমার ওপর। এরপর আর কিছু জানি না। ওই সময় আমি অবশ্য প্রার্থনা করছিলাম।

চিকিৎসকরা জানান, নিক ওই ঘটনার পর কোনো ধরনের সাড়া দেয়নি। তার নিথর দেহে কেবল শ্বাস-প্রশ্বাস চলছিল। দ্রুত তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। সপ্তাহখানেক কোমায় ছিল। কোমায় থাকার পর তার ফিরে আসাটা সহজ ছিল না। ধীরে ধীরে তার অবস্থার উন্নতি হয়েছে।

তবে চিকিৎসক এও জানান, তার মস্তিষ্কে এক ধরনের সমস্যা রয়ে গেছে। সে ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠা তার পক্ষে সম্ভব নয়।

জানা গেছে, ১১ বছর আগে গাড়ি দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম হয়েছিলেন তিনি। ওই সময় তার মেরুদণ্ড ভেঙে যায়। তখন থেকেই কোমরের নিচের অংশ অচল হয়ে রয়েছে। ফলে হুইলচেয়ারে সময় কাটতো নিকের। সে কারণে এবার এতবড় ধাক্কা সামলে স্বাভাবিক জীবনে ফেরা তার পক্ষে কঠিন হবে।

নিকের মা বলেন, জীবনে দুইবার আমার ছেলের ব্যাপারে ডাক্তারের মুখে শুনেছি তার অবস্থা ভালো নয়। আমি জানি যে এখানে অনেক দক্ষ ডাক্তার আছে। তবে সৃষ্টিকর্তা ওর ওপর একটু বেশি সহায়।

চিকিৎসকরাও বলছেন, নিকের ফিরে আসাটা একেবারেই মিরাকল। নিকের পরিবারের অন্যরাও বিশ্বাস করছেন, তার বেঁচে ফেরার পেছনে অদৃষ্টের হাত রয়েছে। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা