kalerkantho

শুক্রবার । ২২ নভেম্বর ২০১৯। ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

বাঁচাতে গিয়ে সেই চন্দ্রবোড়ার কামড়ে মৃত্যু সাপপ্রেমীর

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৫ নভেম্বর, ২০১৯ ২২:৪৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাঁচাতে গিয়ে সেই চন্দ্রবোড়ার কামড়ে মৃত্যু সাপপ্রেমীর

সাপুড়েদের সঙ্গে মাঠেঘাটে ঘুরে সাপ ধরার কৌশল শিখেছিলেন যৌবনে। সেই কৌশলে অনেক সাপ উদ্ধার করেছেন। সেই কাজ করতে গিয়ে এবার চন্দ্রবোড়ার কামড়ে মৃত্যু হলো ভারতের ব্যারাকপুরের অনুপ ঘোষের (৬৩)।

জানা গেছে, নৈহাটিতে একটি চন্দ্রবোড়া সাপ উদ্ধার করে ব্যাগে পোরার সময় সেটি তাকে ছোবল মারে। সঙ্গে সঙ্গেই অ্যান্টিভেনম দেওয়ার পরেও তাকে বাঁচানো যায়নি। দুই দিন পর তার মৃত্যু হয়। 

অনুপ পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞানমঞ্চের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার সদস্য ছিলেন। শুধু সাপ নয়, অজস্র পশু-পাখি উদ্ধার করে তুলে দিয়েছেন বন দপ্তরের হাতে। সাপের কামড়ে তার মৃত্যুতে অবাক হচ্ছেন অনেকেই।

অনুপের বাড়ি ব্যারাকপুরের চন্দনপুকুরে। টিটাগড়ের একটি ইঞ্জিনিয়ারিং সংস্থা থেকে অবসর নেওয়ার পর পরিবেশ, পশু-পাখি এবং সরীসৃপ বাঁচানোর কাজেই জড়িয়েছিলেন। তার স্ত্রী শিখা ঘোষ জানান, অনেক সময় বন দপ্তর ছুটি থাকলে সরীসৃপ তিনি বাড়িতে এনে রাখতেন। অন্যেরা ভয় পেলেও তিনি হাসিমুখে তাদের খাওয়াতেন, পরিচর্যা করতেন। ওই কাজে অন্যদেরও উৎসাহিত করতেন।

সাপ ঢুকেছে বলে খবর পেয়ে নৈহাটির হাজিনগরের একটি বাড়িতে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে তিনি পৌঁছান। রান্নাঘরের টালির চালের মধ্যে প্রায় পাঁচ ফুটের চন্দ্রবোড়াটি লুকিয়ে ছিল। সেটিকে ওই জায়গা থেকে টেনে বের করে ব্যাগে পোরার সময়ে সাপটি তার আঙুলে কামড় দেয়। 

তার পরেও সাপটিকে ব্যাগে পুরে তিনি ফোন করেন বন দপ্তরের একজন কর্মকর্তাকে। কিছু ক্ষণের মধ্যে তাকে নৈহাটি স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়। তার পর কল্যাণী জেএনএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময়ে দেওয়া হয় আরেকটি অ্যান্টিভেনম ইনজেকশন।

ওই হাসপাতালে তাকে আরেকটি অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়, সঙ্গে দেওয়া হয় চার ইউনিট প্লাজমা। তা সত্ত্বেও শুক্রবার রাতে তার অবস্থার অবনতি হয়। শনিবার তার অঙ্গপ্রতঙ্গ বিকল হতে শুরু করে। তাকে কলকাতার একটি হাসপাতালে রেফার করা হয়। সেখানে নিয়ে যাওয়ার পথে মারা যান তিনি।

তার স্বজনরা জানান, প্রায় ৩০-৩২ বছর ধরে তিনি ওই কাজ করেন। চাকরি করার সময়ও তিনি নিয়মিত ওই কাজ করতেন। সাপ ধরার তালিম নিতে সাপুড়েদের সঙ্গেও মেলামেশা করতেন। তাদের বাড়িতে তাদের সঙ্গে থেকে সাপের পরিচর্যা, জখম সাপের চিকিৎসা সব কিছু শিখে নেন।

সাধারণ লোকদের মধ্যে সচেতনতার প্রচার করতেন। সাপ দেখলে তাদের না মেরে তাকে খবর দিতে বলতেন সর্বত্র। ধীরে ধীরে তার কাজকর্মের খবর ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে ব্যারাকপুরের বাইরেও। অনুপ শুধু সাপ ধরতেন না। সাপ উদ্ধার করে এলাকার লোকজনকে তার সম্বন্ধে বোঝাতেন। তার মৃত্যুতে জনবিজ্ঞান আন্দোলনে বড় ক্ষতি হলো।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা