kalerkantho

শুক্রবার । ২২ নভেম্বর ২০১৯। ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

'অস্ত্রের মুখে জিম্মি হয়ে আমরা কুমারিত্ব হারিয়েছি'

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৫ নভেম্বর, ২০১৯ ১৮:১৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



'অস্ত্রের মুখে জিম্মি হয়ে আমরা কুমারিত্ব হারিয়েছি'

নাইজেরিয়ার লাগোস স্টেট ইউনিভার্সিটির (এলএএসইউ) দু'জন নারী শিক্ষার্থীকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। আদালতে নিজেদের জবানবন্দিতে ভুক্তভোগী ছাত্রীদ্বয় জানিয়েছেন, ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাই তাদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ধর্ষণ করেছেন।

স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হিজাব পরিহিত ওই দুই নারী শিক্ষার্থী সোমবার বিকেলে আদালতে উপস্থিত হয়ে জানিয়েছেন, ধর্ষণের ফলে তারা কুমারিত্ব হারিয়েছেন। এর বিচার চান তারা।

এ ঘটনায় নিজেদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আফিজ ওগুনবোয়েলেকে চিহ্নিত করেছেন তারা। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ওই দুই ছাত্রীকে ধর্ষণ করেছেন তিনি। সেই সঙ্গে আরো চারজনকে অভিযুক্ত করেছেন তারা।

ওই ছাত্রীদের অভিযোগ, ২০১৮ সালের ১৮ এপ্রিল অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিয়ে তাদের জিম্মি করে ধর্ষণ করা হয়। ওই সময় অভিযুক্তের সঙ্গে আরো চারজন ছিলেন। পাঁচজনই তাদের ধর্ষণ করেছেন।

ঘটনার দিন রাত ৩টার দিকে তাদের ভবনে ঢুকে পড়েন অভিযুক্তরা। এরপর একজন বলেন, আমি এই ছাত্রীদের সঙ্গেই সারারাত থাকতে চায়। অন্যরা যেন তাকে পাহারা দেন, সে কথাও জানিয়ে দেন তিনি।

একজন ছাত্রী জানান, আমি ঘরের মধ্যেই ছিলাম। তারা আমার ঘরে আসার পর ধর্ষণ করার চেষ্টা চালায়। কিন্তু আমি তাদের প্রতিহত করার চেষ্টা করি। ওই সময় একজন আমাকে অস্ত্র দেখিয়ে বলে, হয় তাদের কথা মানতে হবে, অন্যথায় মরতে হবে। এরপর তারা একের পর এক আমাকে ধর্ষণ করে। আর আমার রুমমেট ছিল টয়লেটে। সেখানে তাকেও ওরা ধর্ষণ করেছে।

আরেক ছাত্রী বলেন, আমি টয়লেটে ছিলাম। তাদের একজন এসে আমাকে টেনে বের করে চেয়ারে বসায়। প্রথমে আমাকে স্পর্শই করে অস্ত্র ঠেকিয়ে। এরপর তারা আমাকে প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করে। প্রথমে একজন ধর্ষণ করলেও আমার রুমমেটকে ধর্ষণ করে এসে একে একে তারা আমাকেও ধর্ষণ করে।

দুই ছাত্রীই বলেন, এরপর তারা পুলিশের কাছে অভিযোগ করলে শারীরিক পরীক্ষা করানো হয়। পরে দীর্ঘ সময় ধরে তাদের কাউন্সেলিংও দেওয়া হয়েছে।

প্রথম ছাত্রী বলেন, আমি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গেলেই আফিজকে দেখতে পাই। তাকে দেখলেই আমার ভীষণ খারাপ লাগে।

আরেকজন বলেন, ধর্ষণকারীদের একজন আমার সহপাঠী। সে আমাকে ফেসবুকে ফ্রেন্ড রিক্যুয়েস্ট পাঠিয়েছে। পরে তার বন্ধু তালিকায় ঢুকে দেখি আমাদের ধর্ষণকারীরা তার বন্ধু। এরপর পুলিশকে তাদের ছবি দেখাতে পারি।

আগামি ২৫ নভেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন টিক করা হয়েছে। 

সূত্র : ডেইলি পোস্ট

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা