kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ নভেম্বর ২০১৯। ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ডয়চে ভেলের সংবাদভাষ্য

মেননের মন

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২১ অক্টোবর, ২০১৯ ২০:৪০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মেননের মন

ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন গত শনিবার বরিশাল শহরের অশ্বিনী কুমার টাউন হলে তার দলের বরিশাল জেলা কমিটির সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট কারচুপি নিয়ে বক্তব্য দিয়েছিলেন। কিন্তু সমালোচনার মুখে পরেরদিনই  তার এই ধরনের বক্তব্য দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি। এদিকে তার সেদিনকার বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়েছে। যাতে দেখা যাচ্ছে তিনি সত্যিই সেদিন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ইঙ্গিত করেই ভোট কারচুপি নিয়ে কথা বলেছিলেন।

মেননের এই ভোল পাল্টানোর বিষয়ে জার্মানি ভিত্তিক গণমাধ্যম ডয়চে ভেলের বাংলা সংস্করণে একটি সংবাদ ভাষ্য প্রকাশ করা হয়েছে। সংবাদ ভাষ্যটি এখানে তুলে ধরা হলো...

“বরিশালে রাশেদ খান মেনন বললেন, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণ ভোট দিতে পারেনি। সেই নির্বাচনে তিনি এমপি হয়েছেন, তাই পদত্যাগ প্রশ্নে তিনি বললেন, ‘আমি বলিনি জনগণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বা আমাকে ভোট দেয়নি।’

তিনি নাকি শুধু বলেছেন, ‘জনগণ ভোট দিতে পারেনি।’

মানে কী? পাঠক আসুন, একটু নিবিড় পর্যবেক্ষণ করি। মেননের কথা অনুসারে জনগণ ভোট দিতে পারে নাই। ধরে নেই, এই সিদ্ধান্ত সঠিক। তার দ্বিতীয় দাবি অনুসারে জনগণ শেখ হাসিনাকে এবং তাকে ভোটে নির্বাচিত করেছে। ধরে নেই, তার দ্বিতীয় সিদ্ধান্তও সঠিক। তাহলে কী যে জনগণ ভোট দিতে পারে নাই আর যে জনগণ ভোট দিতে পেরেছে তারা আলাদা জনগণ? একটি দেশের সাধারণ নাগরিকদের ‘জনগণ’ বলার একটি চল রয়েছে। তবে কী যে জনগণ ভোট দিতে পেরেছে আর যারা পারেননি তারা দুটি ভিন্ন দেশের জনগণ?

আধা শতাব্দী সক্রিয় রাজনীতি করা রাশেদ খান মেননের সঙ্গী ও সহযোদ্ধাদের অনেকেই এখন আর তার পাশে নেই। এমনিতেই তিনি অনেকটা একা। তার একাকীত্ব আরো বেশি বোঝা গেছে যখন আমরা দেখেছি, সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে তিনি নিজের স্ত্রীর নাম প্রস্তাব করলেন। অনেকে বলেন, স্ত্রীকে এমপি করার জন্য তার দৌড়াদৌড়ি ছিল দেখার মতো।

আমার খুব জানতে ইচ্ছে করে, বরিশালে মেনন সাহেব জনগণের ভোট দিতে না পারার কথা কেন বললেন? তার দাবি, তিনি সংসদেও একথা বলেছেন। জনাব মেনন, আপনি একটু শুনে দেখবেন সংসদে আপনি কী বলেছেন আর কী বললেন বরিশালে। আমার ধারণা, আপনার এখনো দুটো সক্রিয় কান রয়েছে। একটু মিলিয়ে দেখলে ক্ষতি কী?

যা বলছিলাম, জনাব মেনন কেন বরিশালে একথা বললেন? এই প্রশ্নের উত্তর নানাভাবে খোঁজা যায়। একটি পদ্ধতি শেক্সপিয়ার বাতলে দিয়েছেন, এই পৃথিবীতে এমন অনেক কিছু ঘটে যা জ্ঞান বা দর্শন দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। আরেকটি পদ্ধতি হলো পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করা। যেমন, এখন রাশেদ খান মেনন কে বা কী? তিনি এখন আর মন্ত্রী নন তবে ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ এলাকার এমপি। কিন্তু তার কথা সত্যি ধরে নিলে এই এলাকায় ক্যাসিনো চলুক বা অন্য কোনো ক্লাব কার্যক্রম, তার কিছুই তাকে জানিয়ে বা অনুমোদন নিয়ে হয় না। এমনকি তিনি সভাপতি হলেও না। তবে আর এমপি হয়েই কী মজা। স্কুল-কলেজও শুনেছি তার কথা আর তত শোনে না। আবার তার কথা যদি সত্য না হয়, তিনি যদি এসব কার্যক্রম অনুমোদনের অধিকারী বা ভাগিদারও হন তবে যারা রিমান্ডে গিয়েছেন তাদের মুখে খুব শিগগিরই তার নাম আসার কথা। তিনি সরকারের ঘরের ছেলে নন বলে, তাকে ঝুলিয়ে দিয়ে সরকার মুখরক্ষা করতে পারে। এতে করে সাপও মরলো লাঠিও ভাঙলো না।

মেনন সাহেব ঝানু রাজনীতিবিদ। এই সাপের নিজের লেজ খেতে শুরু করা জাতীয় ধাঁধাঁর জবাব নিশ্চয়ই তার কাছে রয়েছে, আমাদের আশা তিনি নিশ্চয়ই এর উত্তর আমাদের দেবেন।

অবশ্য এই ধাঁধাঁর উত্তরের সঙ্গে যদি মন্ত্রীত্ব না থাকা ক্যাসিনো ক্লাবের প্রধান হওয়ার কোনো সংযোগ থাকে তবে উত্তরের আশা বৃথা। আমি কিন্তু মনোযোগী ছাত্রের মতো রাশেদ খান মেননের মন বোঝার আশায় আছি।”

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা