kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

পাবজির নেশায় আহার-নিদ্রা-স্নান বন্ধ, ছেলেকে বাঁচাতে সংশোধন কেন্দ্রে প্রেরণ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৮ অক্টোবর, ২০১৯ ১৯:৫৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পাবজির নেশায় আহার-নিদ্রা-স্নান বন্ধ, ছেলেকে বাঁচাতে সংশোধন কেন্দ্রে প্রেরণ

ছেলে এতটাই জীর্ণশীর্ণ হয়ে গেছে যে, চেনা দায় হয়ে পড়েছিল। ছেলে খাবার খেত পাঁচ-ছয়দিন পরপর। ১৬ বছরের ছেলেকে নিয়ে চরম বেকায়দায় পড়ে যান মা-বাবা।

জানা গেছে, ওই ছেলে গোসলও করতো না। বন্ধ ঘরেই থাকতে ভালবাসত সে। ছেলে মোবাইল গেম পাবজিতে আসক্ত হয়ে পড়েছিল। আর তাতেই ছেলের এই দশা দেখে আতঙ্কিত মা-বাবা কিশোরকে পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠালেন। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের আলিপুরদুয়ার মহকুমার।

পাবজি আসক্ত ছেলের হাতে খুন হয়েছিলেন বাবা। সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে ভারতের কর্নাটকের সেই ঘটনায় তোলপাড় হয়েছিল। এবার পাবজি আসক্ত এমন কিশোরের সন্ধান মিলল।

আলিপুরদুয়ারের ওই কিশোর পাবজি খেলায় আসক্ত হয়ে পড়েছে। মোবাইল গেমের আসক্তি থেকে ছেলেকে সারিয়ে তুলতে গত বুধবার তাকে পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠিয়েছে আলিপুরদুয়ার জংশনের এক দম্পতি। 

জানা গেছে, বর্তমানে কোচবিহার জেলার খাগরাবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের ডোডেয়ারহাট এলাকায় কোচবিহার ফেইথ ফাউন্ডেশনের পুনর্বাসন কেন্দ্রে রয়েছে ১৬ বছরের ওই কিশোর। 

ফাউন্ডেশনের সম্পাদক বিশ্বজিৎ দে বলেন, হাড় জিরজিরে চেহারা হয়ে গেছে ছেলেটির। শুনেছি পাঁচ ছয়দিন পরপর খেত ছেলেটি। শুধু ঘরে শুয়ে মোবাইলে পাবজি গেম খেলত। ছেলেটির খাওয়া দাওয়া শুরু করাই আমাদের কাছে প্রধান চ্যালেঞ্জ। বুধবার রাতে সে সামান্য খেয়েছে। আশা করছি সমাজের মুল স্রোতে ফিরবে সে।

আলিপুরদুয়ার শহরের পার্শ্ববর্তী লিচুতলা এলাকার একটি ফ্ল্যাটের বাসিন্দা ওই কিশোরের বাবা রেলের অবসরপ্রাপ্ত কর্মী। আর মা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী। একমাত্র ছেলের এই দশায় দিশেহারা দু'জন। 

ওই কিশোরের বাবা বলেন, কর্নাটকে পাবজি আসক্ত ছেলের হাতে বাবা খুন হওয়ার ঘটনার পর আমরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। আমাদের তেমন লোকবল নেই। আমরা এলাকার সমাজ সেবার কাজের সঙ্গে যুক্ত একজনের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তার সহায়তায় ছেলেকে অবশেষে পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠিয়েছি। ছেলে কোনো চিকিৎসকের কাছে যেতে চাইত না। একবার চিকিৎসকের কাছে নিয়েও গিয়েছিলাম, কিন্তু ওষুধ খায় না। শুধু অন্ধকার ঘরে মোবাইলে গেম খেলে। ভয়ে সবসময় মোবাইল রিচার্জের টাকা দিয়ে দিতাম।

জানা গেছে, ছেলেটি অন্ধকার ঘরে থাকতে ভালোবাসত। দিনের আলো দেখতে পছন্দ করত না। খাওয়া দাওয়ার কোনো সময় ছিল না। চার পাঁচ দিন পরপর কখনো খুব ভোরে আবার রাতে সামান্য খাবার খেত। অনেকদিন ধরে গোসল করেনি।

প্রায় এক বছরের বেশি সময় থেকে পাবজি খেলায় আসক্ত হয়ে পড়ে ১৬ বছরের ওই কিশোর। ছেলেকে ভালোবেসে মোবাইল কিনে দিয়েছিলেন দম্পতি। কিন্তু ছেলে আসক্ত হয়ে পড়বে তা ভাবতেও পারেননি তারা। কোচবিহারের একটি বেসরকারি স্কুল থেকে ৯০ শতাংশ নম্বর নিয়ে মাধ্যমিক পাসও করে। কিন্তু তার পরই মোবাইল গেমে আসক্ত হয়ে সব লাটে ওঠে। 

মাধ্যমিকে ৯০ শতাংশ নম্বর পাওয়া ছেলে একাদশ শ্রেণিতে অঙ্কে ফেল করে। কলকাতাসহ জেলার একাধিক স্কুলে ভর্তি করেও ছেলেকে স্কুলে পাঠাতে পারেননি বাবা-মা। আলিপুরদুয়ার জংশনের সমাজকর্মী বিকাশ ভৌমিক বলেন, আমরা খবর পাওয়ার পর ছেলেটিকে দেখতে যাই। অনেক চেষ্টা করি ছেলেটিকে এই খেলা থেকে বের করার। কিন্তু পারিনি। সম্প্রতি বাড়িতে মোবাইল নেটওয়ার্কের ওয়াই ফাই কানেকশন সেট করার জেদ করছিল। সম্ভবত বাইরে আর মোবাইল রিচার্জ করতে যেতে চাইছিল না সে। অবশেষে বুধবার রাতে কোচবিহারের রিহ্যাব সেন্টারে পাঠানো হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা