kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

প্রতিমা বিসর্জনের পর ওদের আনন্দের শুরু

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৬ অক্টোবর, ২০১৯ ১৭:৪১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রতিমা বিসর্জনের পর ওদের আনন্দের শুরু

হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পার হলো। উৎসব ঘিরে কয়েকদিন ধরে ব্যাপক আনন্দ করার পর দেবী দুর্গাকে বিসর্জন দিয়ে সবাই অনেকটাই ভারাক্রান্তভাবে সময় পার করেন।

ভারাক্রান্ত হিন্দুরা যখন আস্তে আস্তে পূজার আমেজ কাটিয়ে উঠছে, তখন কারো কারো মুখে হাসি ফুটছে। শুনতে হয়ত অবাক লাগছে, কিন্তু এটাই সত্য।

ভারতের মালদহ জেলার রামকৃষ্ণ মিশন সংলগ্ন মহানন্দার ঘাটে দশমীর পর জেলার বিভিন্ন পূজা মণ্ডপগুলোর প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। আর এই প্রতিমা পানিতে ভাসানোর পরই সঞ্জয় রজক, বিমল ওদের সবার মুখে ফুটে ওঠে হাসির ছাপ। কারণ একটাই, এবার দুর্গার অস্ত্র নিয়ে যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা আর তার কাঠামো বিক্রি করে কিছু অর্থ উপার্জন করতে পারবে তারা।

মালদহ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দূর্গা প্রতিমা বিসর্জনের পরই সঞ্জয়, বিমলরা দুর্গার অস্ত্র নিয়ে যুদ্ধ যুদ্ধ খেলায় মেতে ওঠে। শুধু তাই নয়, জানা গেছে, প্রতিমা বিসর্জনের পর তারা সারাদিন পানির মধ্যে দুর্গার কাঠামো খোলা থেকে শুরু করে নিজেদের মধ্যে জলকেলিতে মেতে ওঠে। আর ওদের থেকে যারা একটু বয়সে ছোটো তারা তুলে নিয়ে এসেছে প্রতিমার কাঠামো।

জানা গেছে, পানি থেকে তুলে আনা ওই কাঠামো তারা আবার বিক্রি করে দেয় জেলার কোনো মৃৎ শিল্পীদের কাছে। আর কাঠামো বিক্রি করে যে টাকা পােবে তা দিয়ে নতুন জামা কিনবে। হয়তো এবার তাদের বাড়িতে একদিন পোলাও মাংস রান্না করে খাওয়া হবে। সে কারণে বিসর্জন হলেই ওদের খুশি।

রাতেরবেলা অন্ধকারে প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা তাদেরকে নদীতে নামতে দেয় না। কিন্তু সকাল হতেই তারা দল বেঁধে নেমে পড়েন নদীতে। পানি থেকে তুলে নিয়ে আসেন ত্রিশূল, ঢাল, তলোয়ার, দুর্গার মুখ। আর পানিতে নেমে উৎসবে মাতে বিল্টু, ছোটনরা

তারা বাঁশ কাঠের তৈরি কাঠামো সংগ্রহ করে তুলে দিয়েছে বাবা-মায়ের হাতে। বিল্টু, ছোটন কিংবা অন্যান্যরা পানিতে নেমেছিল বটে। কিন্তু সঞ্জয়, বিমলদের মত দুগ্গা দুগ্গা খেলা খেলেনি কেউই। কারণ, ওরা ব্যস্ত ছিল পানি থেকে কাঠামো তুলে নিয়ে আসার কাজে। আর সেই কাঠামো জড়ো করে রাখছিল তারা বাড়ির এক কোণে। 

তাদেরই মধ্যে একজন জানিয়েছে, এই কাঠামো সংগ্রহ করে তাদের পরিবারের হাতে তুলে দেবে তারা। আর পরে এই কাঠামোগুলো ২০০ থেকে ৪০০ টাকা দরে বিক্রি করবে মৃৎশিল্পীদের কাছে। আর সেই টাকা তাদের পরিবারের কাজে আসবে। তাইতো মালদহ জেলার ওইসব খুদেদের কাছে পূজা নয়, প্রতিমা বির্সজনেই আনন্দ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা