kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

জানা-অজানা

চন্দ্রপুলি পিঠা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৬ অক্টোবর, ২০১৯ ১১:৪৮ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



চন্দ্রপুলি পিঠা

চন্দ্রপুলি আবহমান গ্রামবাংলার একটি ঐতিহ্যবাহী পিঠা। শুধু গ্রামেই নয়, শহরেও প্রায় সবাই এই পিঠা বানিয়ে থাকে। ভারতীয় উপমহাদেশে, বিশেষ করে বাংলাদেশ ও ভারতে এ পিঠা খুবই জনপ্রিয়। শুকনা কিংবা দুধ বা রসে ভেজানো সব ভাবেই এ পিঠা খেতে ভালো লাগে। চালের গুঁড়ায় তৈরি পিঠার কাইয়ের ভেতরে নারকেল, দুধ ও চিনি বা গুড়ের মিশ্রণের পুর থাকে। দেখতে অর্ধচন্দ্রাকৃতি এই পিঠা খুব সহজেই বাসায় প্রস্তুত করা যায়।

এ পিঠার পুর তৈরির সময় দুধের সঙ্গে এলাচি ও গুড় বা চিনি দিয়ে চুলায় জ্বাল দিতে হয়। এর পর নারকেল দিয়ে মাঝারি আঁচে অনবরত নাড়তে হয়। নারকেল শুকিয়ে ঘন আর আঠালো হয়ে এলে চুলা থেকে নামিয়ে ঠাণ্ডা করতে হয়। পুর তৈরি হয়ে গেলে চালের গুঁড়া, পানি ও লবণের মিশ্রণে তৈরি কাইকে ছোট ছোট করে রুটির মতো বানিয়ে ভেতরে নারকেলের পুর ভরে সাইডগুলো সিল করে দিতে হয়। এরপর তেলে ভেজে নিলে তৈরি হয়ে যায় চন্দ্রপুলি পিঠা। দুধ বা রসে ভেজানো পিঠা তৈরি করতে পিঠাগুলোকে চিনি বা গুড় মেশানো দুধে বা রসে ভিজিয়ে রাখতে হয়।

বাংলাদেশে হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ে এই পিঠার কদর ও প্রচলন আছে। ঈদ, পূজা-পার্বণ ও বিভিন্ন উৎসব-অনুষ্ঠানে এই পিঠা তৈরির রেওয়াজ আছে। পৌষ পার্বণে এই পিঠা বেশি প্রস্তুত করা হয়। নারায়ণ দেবের পদ্মপুরাণে বেহুলার বিয়ে উপলক্ষে পরিবেশিত মিষ্টান্নের মধ্যে চন্দ্রপুলি পিঠার কথা উল্লেখ আছে। এ পিঠা আকারে অর্ধচন্দ্রাকৃতি; তাই এর নাম চন্দ্রপুলি রাখা হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। 

[পঞ্চম শ্রেণির আমার বাংলা বইয়ের কাঞ্চনমালা আর কাঁকনমালা গল্পে ‘চন্দ্রপুলি পিঠা’র কথা উল্লেখ আছে] 

ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা