kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

বাড়তি রুমের জন্য লাইব্রেরি বিক্রির সিদ্ধান্ত

'আমার স্ত্রীর ক্যান্সার হয়নি, মিথ্যে ছড়ানো হচ্ছে'

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৪ অক্টোবর, ২০১৯ ১৫:২৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



'আমার স্ত্রীর ক্যান্সার হয়নি, মিথ্যে ছড়ানো হচ্ছে'

"গত কয়েকদিন একটা বিজ্ঞাপন মাঝেমধ্যেই ফেসবুকে চোখে ভাসছিল। এক ভদ্রলোক তাঁর লাইব্রেরিখানা বেচে দিতে চান। পড়ি পড়ি করতে গিয়েও আর পড়া হয়ে ওঠেনি। আজকে পড়লাম। ব্যাপারটা একটু ইন্টারেস্টিং। ভদ্রলোক ৪৭ বছরের তিলে তিলে জমানো সংবাদপত্র, বিভিন্ন বাংলা থিসিস পেপার, আড়াইশোর মতো বাংলা অভিধান সবকিছু ক্যাটাগরাইজ করেছেন। ১৪টা আলমারি ভরা বই সব তিনি বেচে দিতে চান!
এই ধরনের বিক্রির অফার আমি সাত জনমে দেখিনি। যে মমতা নিয়ে উনি লাইব্রেরির জিনিসপত্রের বর্ণনা দিলেন, তাতে নিশ্চিত যে এগুলো তার কলিজার টুকরা। খুব বিপদে না পড়লে এই কলিজার টুকরা তিনি বিক্রির আহবান জানাতেন না। এরপর চোখে পড়লো ভদ্রলোকের নাম। মানুষের মন কী এক বিচিত্র জিনিস! বোল্ড করে লেখা তাঁর নাম, তাঁর ছবি- এতোক্ষণ চোখেই পড়েনি! ভদ্রলোক আমার বাংলার শিক্ষক! স্কুলে তাঁর বেতের বাড়ি খাবার সৌভাগ্য হয়েছে প্রচুর। বাংলা যট্টুকই পারি, তার ব্যকরণগত ব্যুতপত্তিতে এই ভদ্রলোকের বিশেষ অবদান আছে বলে আমি মনে করি। স্যার তাঁর লাইব্রেরি বেচে দেবেন কেন? খোঁজ নিয়ে জানলাম, স্যারের স্ত্রীর ক্যানসার। এইজন্য পঞ্চাশ বছরের বিন্দু বিন্দু করে জমানো এই অমূল্য সম্পদ তিনি বাজারে উঠিয়েছেন।
স্যার বিক্রি করতে চাইছেন, সাহায্য না। তাই চিকিৎসার জন্য ফান্ড যোগাড় করার কথা বলে স্যারকে কোনভাবে ছোট করার ধৃষ্টতা আমার নেই। এইসব মুহূর্তে নিজের অক্ষমতা খুব বেশি বড় মনে হয়। কবে আমার একটা লাইব্রেরি কেনার ক্ষমতা হবে? কবে খোদা? কেউ কি আছেন, যিনি লাইব্রেরি কিনতে চান?"

এই আবেগীয় কথাগুলো বিজ্ঞাপনটির সাথে নিশ্চই আপনার মনে বাষ্প জমা হবে। স্যারের পাশে দাঁড়ানোর ইচ্ছে তীব্র হবে। আর আপনি যদি গোকুল স্যারের প্রাক্তন ছাত্র হন তাহলে তো কথাই নেই। আপনি সোশ্যাল ছড়ানো এই লেখার সঙ্গে যদি ঠিকানা পেয়ে যান কিংবা প্রথমে যে পেইজ থেকে এই লেখা পোস্ট করা হয়েছে তার সঙ্গে যোগাযোগ করে মোটা অংকের সহায়তা করেই ফেলবেন। কিন্তু তখন বড় একটা ভুল হয়ে যাবে। 

গোকুল স্যারের স্ত্রীর ক্যান্সার হয়েছে বিষয়টি নিশ্চিত হলেন কী করে? সোমবার দুপুরে গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি স্কুলের প্রাক্তন বাংলা শিক্ষক গোকুল চন্দ্র দাশ কালের কণ্ঠকে বলেন, 'আমি লাইব্রেরি বিক্রি করতে চাই কিন্তু আমার স্ত্রীর ক্যান্সার এ কথা সত্য নয়। কেন কী উদ্দেশ্যে এসব ছড়ানো হচ্ছে আমি ঠিক বুঝতে পারছি না।' 

তিনি বলেন, 'শুনেছি আমার প্রাক্তন ছাত্র নামে একটি দল ফান্ড খুলেছে আমার স্ত্রীর চিকিৎসার নামে। কিন্তু আমার সাথে তো কেউ যোগাযোগ করছে না। কারণ এসব ষড়যন্ত্র। একটি প্রতারক চক্র সম্ভবত আমার নামে টাকা উঠিয়ে আমার প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সাথে প্রতারণা করার চেষ্টা করছে।'

কেন লাইব্রেরি বিক্রি করতে চাইছেন? এই প্রশ্নের জবাবে গোকুল চন্দ্র দাশ বলেন, 'আমি একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। এখন অবসরযাপন করছি। লাইব্রেরি রাখলে একটা রুম বেশি লাগে। সেটার ভাড়া দেওয়া আমার জন্য বাড়তি খরচ। এই খরচ বহন করা কঠিন এজন্যই লাইব্রেরি বিক্রি করতে চাইছি।'

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা