kalerkantho

বুধবার । ১৬ অক্টোবর ২০১৯। ১ কাতির্ক ১৪২৬। ১৬ সফর ১৪৪১       

হলদিয়ায় ১৫ দিনে তিন ধর্ষণ, আতঙ্কে নারীরা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০৪:৪২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হলদিয়ায় ১৫ দিনে তিন ধর্ষণ, আতঙ্কে নারীরা

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়ায় গত ১৫ দিনে তিনজনকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। একজনকে গণধর্ষণেরও অভিযোগ রয়েছে। কলকারখানা আর বন্দরের শহর হলদিয়ায় এখন প্রশ্নের মুখে নারীদের নিরাপত্তার বিষয়টি। প্রশ্নের মুখে পুলিশ-প্রশাসনের ভূমিকাও। 

পরপর তিনটি ধর্ষণের ঘটনায় মানুষের মনে চেপে বসেছে ভয়। শহরে রয়েছে একাধিক বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, মেডিক্যাল কলেজ, বহু শিল্প সংস্থা এবং কর্পোরেট অফিস। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে পড়াশোনা বা কাজের সূত্রে রাত পর্যন্ত পথেঘাটে চলাফেরা করেন অনেকেই। প্রশ্ন উঠছে, তারা সবাই সুরক্ষিত তো! 

গত ১৫ দিনে তিনটি ধর্ষণের ঘটনা তোলপাড় করে দিয়েছে শিল্প-বন্দর শহরটিকে। গত ১ সেপ্টেম্বর দুর্গাচকের এক নারী চার যুবকের বিরুদ্ধে গণধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেন। 

অভিযোগ উঠেছে, কাজ সেরে রাতে বাড়ি ফেরার সময় ওই চার যুবক তাকে রাস্তা থেকে জোর করে তুলে নিয়ে গিয়ে পাশের পুকুরের পাশের ঝোপে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। পুলিশ অভিযুক্ত চার যুবককেই গ্রেপ্তার করেছে।

দ্বিতীয় অভিযোগটি দায়ের হয় গত ৬ সেপ্টেম্বর। সে ক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তি পুলিশের কর্মকর্তা। অভিযোগ উঠেছে, স্বামীর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা সম্পর্কে তথ্য জানতে এসে ভবানীপুর থানার এক পুলিশ কর্মকর্তার ‘কুনজরে’ পড়েন ওই নারী। প্রথমে তাকে প্রলোভন দেখানো হয়। পরে স্বামীকে প্রাণে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে ওই নারীকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়। অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়েছে। ব্যবস্থা বলতে ওইটুকুই। 

আর গত শুক্রবার রাতের ঘটনায় তো শিউরে উঠছে পুরো শহর। পুর এলাকার মধ্যেই এক কিশোরীকে প্রতিবেশী যুবক টিভি দেখার নাম করে ডেকে জোর করে মদ্যপান করিয়ে ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তারপর শ্বাসরোধ করে মেয়েটিকে হত্যা করে বস্তায় ভরে দেহ লোপাটের চেষ্টাও করে অভিযুক্ত ব্যক্তি। তবে হাতেনাতে ধরা পড়ে যান তিনি। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে। 

একের পর এক ধর্ষণের ঘটনায় আতঙ্কিত শহরের নারীরা। হলদিয়া টাউনশিপের বাসিন্দা সরকারি কর্মচারী মানসী বেরা জানান, সিটি সেন্টারে নাইট শো সিনেমা দেখে প্রায়ই বান্ধবীরা বাড়ি ফিরি। ফিরতে  ফিরতে রাত ১১টা বেজে যায়। এসব শোনার পর তো সত্যি ভয় লাগছে।

সদ্য কলেজ উত্তীর্ণ হলদিয়ার দুর্গাচকের বাসিন্দা স্বাগতা প্রামাণিকেরও বক্তব্য, প্রাইভেট পড়িয়ে রাত ১১টায় বাড়ি ফিরি। এ রকম ঘটনা ঘটতে থাকলে তো আর রাতে বাইরে বের হওয়া যাবে না।

পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। যদিও পুলিশ বলছে, ধর্ষণের প্রতিটি অভিযোগের ক্ষেত্রেই দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। শহরের নিরাপত্তাও যথাযথ রয়েছে। হলদিয়ার এসডিপিও তন্ময় মুখোপাধ্যায় বলেন, তিনটিই বিচ্ছিন্ন ঘটনা। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে অযথা আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ দেখছি না। হলদিয়ার রাস্তাঘাটে পুলিশ টহল দিচ্ছে। রাতেও আমরা গাড়ি নিয়ে টহলদারির ব্যবস্থা করেছি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা