kalerkantho

শনিবার । ২৫ জানুয়ারি ২০২০। ১১ মাঘ ১৪২৬। ২৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

২৭ বছরে ৩৮ সন্তানের জন্ম

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১৬:১০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



২৭ বছরে ৩৮ সন্তানের জন্ম

অবাক করা হলেও সত্যি ঘটনা এটি। মাত্র ২৭ বছরে ৩৮ সন্তানের জন্ম দিয়েছেন উগান্ডার এক নারী। বিশাল এই পরিবারের ভার একাই সামলান এই নারী।

কী করে সম্ভব!
মরিয়ম নাবাতানজির বিয়ে হয়েছিল ১২ বছর বয়সে। এক বছর পরই জমজ সন্তানের জন্ম দেন তিনি। এরপর দুটি করে সন্তানের জন্ম দিয়েছেন আরো পাঁচবার। তিনটি করে সন্তান হয়েছে চারবার। আর চারটি করে সন্তান প্রসব করেছেন পাঁচবার। তিন বছর আগে স্বামী ছেড়ে যায় তাঁকে। ৩৯ বছরের মরিয়ম এখন জীবিত ৩৮ সন্তানের জননী।

যে কারণে এত সন্তান
সন্তানদের নিয়ে পূর্ব কাম্পালার মুকোনো জেলার কাসায়ো নামের একটি গ্রামে বসবাস করেন নাবাতানজি। প্রথম জমজের জন্মের পর তিনি সেখানকার এক ডাক্তারের কাছে যান। ডিম্বাশয়ের আকার বড় হওয়ার কারণে স্বাস্থ্য সমস্যা হতে পারে– এমন তথ্য জানিয়ে ডাক্তার তাঁকে জন্মবিরতিকরণ পিল খেতে নিষেধ করেন। এরপর একের পর এক সন্তান আসতে থাকে নাবাতানজির কোলজুড়ে।

প্রতি নারীর ৫ দশমিক ৬ সন্তান
শুধু নাবাতানজির নন, গোটা আফ্রিকায় পরিবারগুলোর আকারই তুলনামূলকভাবে বড়। উগান্ডা তার মধ্যে অন্যতম। সেখানে প্রতিজন নারীর সন্তান জন্মের হার ৫ দশমিক ৬ জন, বৈশ্বিক গড় সেই তুলনায় অনেক কম– ২ দশমিক ৪।

নাবাতানজির কষ্ট
নাবাতানজি সবশেষ সন্তানের জন্ম দিয়েছেন আড়াই বছর আগে। ষষ্ঠ এই জমজের একটি শিশু মারা যায় জন্মের সময়ই। এ পর্যন্ত সব মিলিয়ে ছয়টি সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। সবশেষ সন্তানের জন্মের পরই স্বামী নাবাতানজিকে ছেড়ে যায়। পরিবারটিতে এখন তাঁর নামটিও যেন এক অভিশাপ। ‘‘আমি চোখের জল ফেলেই জীবন কাটিয়েছি। আর আমার পুরুষ এই বিপর্যয়ের মধ্যে আমাকে ছেড়ে গেছে,’’ বলেন নাবাতানজি।

বিশাল পরিবারের ভরণপোষণ
সন্তানদের দেখাশোনা আর তাদের ভরণপোষণের জন্য আয়রোজগারেই দিন পার করেন নাবাতানজি। এজন্য একাধিক কাজ করতে হয় তাঁকে। চুল সজ্জা, মানুষের ঘর সাজানো, ফেলনা জিনিপত্র সংগ্রহ ও সেগুলো বিক্রি, হার্বাল ঔষধ বিক্রি– একা সবই করেন তিনি। আর দিনশেষে যা আয় হয়, সবই চলে যায় সন্তানদের খাবার, চিকিৎসা, কাপড় আর স্কুল ফি-র পেছনে।

এক ঘরে দিনযাপন
নাবাতানজির সন্তানদের একজন সাত বছর বয়সের ইসাক মুবিরো। একটি কক্ষে এমন লোহার খাটে পাতলা ম্যাট্রেসের উপর ঘুমায় বারো সন্তান। বাকিরা ময়লা মেঝেতেই রাত পার করে।

২৫ কেজি ভুট্টা
নাবাতানজি জানান, দৈনিক ২৫ কিলোগ্রাম ভুট্টার আটা লাগে পুরো পরিবারের খাওয়ার জন্য। এই একটি খাবারই সারাদিন চলে। মাছ আর মাংস খাওয়ার ঘটনা ঘটে খুবই কম।

দায়িত্ব বণ্টন
নাবাতানজির সন্তানদের প্রত্যেকেই ঘরের কাজ ভাগ করে নেয়। বড়রা ছোটদের দেখাশোনার দায়িত্ব পালন করে। প্রত্যেকেই রান্নাসহ ঘরের সব কাজ করে। দেয়ালের একটি কাঠের বোর্ডে দৈনিক কাজের তালিকা ভাগ করে দেয়া থাকে।

- ডিডাব্লিউ

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা