kalerkantho

প্রেমে ইতি টেনে ব্যক্তিগত জীবনে নারীরা কী পায়? নয়জনের অভিজ্ঞতা ...

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ২১:৫৮ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



প্রেমে ইতি টেনে ব্যক্তিগত জীবনে নারীরা কী পায়? নয়জনের অভিজ্ঞতা ...

শহরে বসবাসকারীরা বাইরে বের হলেই দেখতে পান, সমবয়সী অনেকেই তাদের পছন্দের মানুষের হাত ধরে হেঁটে যাচ্ছে। পার্কে গেলেও অনেক সময় মনে হয়, আহা! আমারও যদি এরকম সঙ্গী থাকতো। 

তবে আপনি যদি নারী হন এবং ভালোবাসার কাউকে খোঁজা বন্ধ করে দেন; তারপর নিজের প্রতি যত্নবান হয়ে ওঠেন, সে সময় কী ধরনের বিষয়াদি ঘটতে পারে কিংবা সেই জীবনে আপনি কী পাবেন? উত্তর পেতে হলে আপনাকে এ ধরনের জীবন পার করতে হবে না, পশ্চিমাবিশ্বের নয়জন নারী এ ব্যাপারে তাদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন।

এমনকি আপনি যদি কোনো ধরনের সম্পর্ক থেকে বেরিয়েও আসেন, তাহলে কী ধরনের বিষয় ঘটতে পারে সে ব্যাপারেও তারা কথা বলেছেন। ওই নারীরা বলছেন, ছেড়ে আসা সঙ্গীকে নিয়ে কিছু কৌতুক মনে হতে পারে এবং অবসর সময়ে তাদের সঙ্গে কাটানো মুহূর্ত মনে পড়তে পারে। এমনকি সঙ্গীর দেওয়া চুম্বনের দৃশ্যও মনে পড়তে পারে, তবে বাস্তবে অ্যালার্মের শব্দ শুনে শুরুতেই বিরক্ত হলে চলবে না। 

মোবাইল ব্যবহার করতে গিয়েও ডেটিংয়ের অনেক অ্যাপ আপনার চোখে পড়তে পারে। তবে সেগুলো এড়িয়ে যাওয়ার বিকল্প নেই। ওই নারীদের বলা কথাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় পয়েন্টগুলো এখানে তুলে ধরা হলো।

ওই নারীদের একজন জানান, কারো ভালো লাগানোর জন্য নিজেকে আকর্ষণীয় করে তোলার বিষয়টি ভালো লাগতো না। আগে মনে হতো, আকর্ষণীয় হিসেবে সঙ্গীর সামনে নিজেকে উপস্থাপন করতে না পারলে জীবন বৃথা। এজন্য এক ধরনের চাপ অনুভব করতাম। কিন্তু প্রেমের সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে এসে আর নিজেকে সাজানোর জন্য চাপ অনুভব করি না। যা আমার ভালো লাগে।

ওই নারীদের আরেকজন জানিয়েছেন, প্রেমের সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার পর তিনি মাস্টার্স পাস করেছেন। যা হয়তো সঙ্গীর হস্তক্ষেপে করা হতো না।

আরেকজন বলেন, হতাশা আর উদ্বেগ জীবন থেকে বিদায় নিয়েছে। আরেকজন দাবি করেন, প্রেমের সম্পর্ক  থেকে বেরিয়ে এসে আমি আমার প্রথম উপন্যাস লিখেছি। তারপর বেশ কয়েকটি লিখেছি। অল্প কিছু লোক আমার খোঁজ রাখে, তার পরেও আমি তাদের জন্য লিখি।

বিচ্ছেদের পর এক নারী তা উদযাপনের জন্য নিজের মাথার চুল কেটে ফেলেছেন। তারপর নিজের মনের যাবতীয় ইচ্ছা পূরণের চেষ্টা করেছেন। তার মতে, বিচ্ছেদের ব্যাপারে মন খারাপের কিছু নেই। বিচ্ছেদকে উপভোগ করাটাই তার কাছে মুখ্য।

সামাজের প্রত্যাশার বষেয়ে আপনি বিরক্ত হতে পারবেন না বলে মনে করেন আরেক নারী। ওই নারী সম্পর্ক  থেকে বেরিয়ে আসার পর অনুধাবন করেন, মানুষের তুলনায় প্রাণীরা বেশি ভালো সঙ্গী। তাই বলে বিভিন্ন জনের সঙ্গে যেসব সম্পর্ক, সেগুলো বিচ্ছিন্ন করার দরকার নেই।

আরেকজন নারী নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে গিয়ে বলেন, আমি ভুল করা বন্ধ করে দিয়েছি। যখনই আমি বড় আকারের লাল পতাকা দেখি, সেদিকে আর ভ্রুক্ষেপ করি না। এতে করে নিজের প্রতি বেশি ভালোবাসা তৈরি হয়। কখনো মনে হয় না যে, আমি যদি ওই লাল পতাকা ক্রস করি তাহলে কী ঘটবে। আমি এখন সবকিছু উপভোগ করতে শিখেছি।

তাদের মধ্যে আরেক নারী বলছেন, লন্ডনভিত্তিক একটি অফিসে আমাকে চাকরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আমি বেশ কয়েক মাসের জন্য লন্ডনে চলে যাচ্ছি। বিষয়টি নিয়ে আমি অত্যন্ত উত্তেজিত। তবে এটা ভেবে ভালো লাগছে যে, সেখানে যাওয়ার ব্যাপারে কারো কাছ থেকে অনুমতি নিতে হচ্ছে না। এখন আমি চাইলেই যেখানে সেখানে যেতে পারছি। অতচ আগে আমাকে সবকিছু করতে হতো সাবেক সঙ্গীর অনুমতিক্রমে। এখন আমি নিজের প্রতি আস্থাবান এবং একাকী ভালো আছি।

আরেকজন জানান, আপনি যখন কোনো জিনিস খোঁজ করা ছেড়ে দেবেন, তখন সেটা আপনার কাছে এসে ধরা দেবে। আমি এখন ভালোবাসা পাচ্ছি। এজন্য আমি নিজের কাজ গুরুত্ব সহকারে করা শুরু করি। এরপর দেখছি, আমার স্বামী আমাকে ভালোবাসতে চায়।

যারা আপনার যোগ্য নয়, তাদের কাছ থেকে সত্যিকারের ভালো কিছু আজকের দিনে আশা করা কঠিন। কিছুদিন একা থাকাটা প্রথমে ভীতিজনক মনে হতে পারে, তবে সেখানে অনেক ভালো কিছুও রয়েছে; যা আপনি নিজেই আবিষ্কার করতে পারবেন। নিজের দিকে মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করার জন্য কিছুটা সময় নেওয়া সেরা সিদ্ধান্ত হতে পারে।

সূত্র : এলিট ডেইলি

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা