kalerkantho

রিভেঞ্জ পর্ন যেভাবে দুর্বিষহ করে তুলছে জীবন

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১৯:২৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রিভেঞ্জ পর্ন যেভাবে দুর্বিষহ করে তুলছে জীবন

 

তথাকথিত রিভেঞ্জ বা প্রতিশোধমূলক পর্ন ভিডিও প্রকাশের জন্য ওয়েবসাইটগুলোকে দায়ী করার দাবি জানাচ্ছেন অনেকে।

রিভেঞ্জ পর্ন বলতে বোঝায়, যেখানে বিনা সম্মতিতে মানুষের ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দেয়া হয়- যার বেশিরভাগই ছড়ানো হয় অনলাইনে। আর এসবের উদ্দেশ্য থাকে ভুক্তভোগীদের চরম দুর্দশার মধ্যে ফেলা এবং বিব্রত করা।

এমন এক রিভেঞ্জ পর্ন ভিডিওর শিকার এক নারী সোফি (ছদ্মনাম)। তিনি বলেন, আমি আসলে ভাবতেই পারিনি যে এসব ছবি আমি কখনো ইন্টারনেট থেকে নামাবো। এবং আমি আমার স্বামীর কাছে দুঃখিত এবং আমার সন্তানের কাছেও দুঃখিত। তারা যখন বড় হবে দুঃখজনকভাবে তারা তাদের মায়ের ছবি দেখবে।

২০১৮ সালের মে মাসে যুক্তরাজ্যে সোফিকে তার বোন বলেন, যে সে ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়ে পড়েছেন। ২০১৮ সালের মে মাসে সোফি পর্নহাব ওয়েবসাইটে সব ভিডিও সরাতে বলেন কিন্তু ২০১৯ এর আগস্টেও ভিডিওগুলো ওয়েবসাইটে দেখা যাচ্ছিলো।

পরামর্শের জন্য সোফি কেটের সাথে যোগাযোগ করেন যিনি পর্নগ্রাফি ভিকটিমদের সহায়তার জন্য একটি ক্যাম্পেইন চালাচ্ছিলেন।

নটইয়রপর্ন এর প্রতিষ্ঠাতা কেট ইসাকস বলেন, আমার একজন বন্ধুর আইক্লাউড অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছিলো। সুতরাং ফোন থেকে তার ছবি ও ভিডিও চুরি হলো। এবং টুইটারে তার কিছু ম্যাসেজ ছিলো। যেখানে বলা হয়েছে যে সে পর্ন সাইটে আছে। সে জানতো না- এসব ভিডিও ছিলো অনেক আগের। এবং আমি ভাবছিলাম এখনকার পর্ন আইন নিয়ে যেটা ২০১৫ সালে যুক্তরাজ্যে হয়েছে। কীভাবে এই পর্ন ওয়েবসাইট অনুমতি ছাড়া এসব কনটেন্ট রাখার অনুমতি পায়।

এসবই তাকে সহায়তা চাইতে উদ্বুদ্ধ করে ভিনাস থেকে যিনি ২০১৫ সালে প্রতিশোধমূলক পর্ন আইনের সংস্কার প্রস্তাব করেছিলেন।

রিভেঞ্জ পর্নগ্রাফি ক্যাম্পেইনার ভিনাস আলী বলেন, প্রযুক্তি সব সময় পরিবর্তিত ও উন্নত হচ্ছ এবং আমি মনে করি প্রযুক্তি কোম্পানিকে নিশ্চিত করতে হবে যে তাদের প্লাটফর্মে ব্যবহৃত প্রযুক্তির এভাবে কোন অপব্যবহার হবে না।

আইন এখন এসব বিষয়ের জন্য ওয়েবসাইটকে দায়ী করতে পারে না।

পর্নহাব ভাইস প্রেসিডেন্ট কোরি প্রাইসের বিবৃতি, আমরা প্রতিশোধমূলক পর্নের নিন্দা জানাচ্ছি। আমাদের সাইটে এই রকম কোন ক্যাটাগরি নেই। আপলোডের আগে আমরা এসব স্ক্যান করে থাকি যাতে অনুমোদনহীন বিষয়গুলো ধরতে পারি।

যদিও এ ধরণের বিষয় চেয়ে পর্নহাব-এ কয়েকটি ক্যাটাগরি আছে। 'এক্স গার্লফ্রেন্ড রিভেঞ্জ', 'স্টোলেন প্রাইভেট ভিডিও'।

সোফির ক্ষেত্রেও সাইট থেকে ভিডিওটি প্রাথমিকভাবে সরিয়ে নেয়া হয় এবং পরে আবার সেই একই ভিডিও ওই সাইটে আপলোড করা হয়।

কেট ইসাকস আরও বলেন, তারা এগুলো ব্যবহার করে ও এ থেকে লাভ করে ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিদের অনুমতি ছাড়াই।

অধিকারকর্মীরা আইনের পরিবর্তন চান যাতে ওয়েবসাইটগুলোকে দায়ী করা যায়।

সোফি বলেন, আমার জন্য সেখানে এভাবে যৌনতা প্রকাশ করা আমার জন্য এক মিনিট ৩২ সেকেন্ডই জীবনকে পাল্টে দেয়ার মতো বিষয়।

বিবিসি বাংলার ভিডিও থেকে

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা