kalerkantho

মশায় ব্যাকটেরিয়া ঢুকিয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সাফল্য দেখছে ভিয়েতনাম

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১৮:৩৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মশায় ব্যাকটেরিয়া ঢুকিয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সাফল্য দেখছে ভিয়েতনাম

সারা বিশ্বে ডেঙ্গুর প্রভাব ছড়িয়ে পড়ছে অতি দ্রুত। এর প্রভাবে ফিলিপাইনে কয়েকশ মানুষ মারা গেছেন। ভিয়েতনামে আগের বছরের তুলনায় ডেঙ্গু তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। মালয়েশিয়া, মায়ানমার এবং কম্বোডিয়ার হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা অন্যান্য বছরের তুলানায় দিগুণ পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এবং দক্ষিণ এশিয়ায়ও ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে আগের তুলনায় অনেক বেশি। বাংলাদেশে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়েছে সারা দেশে।

তবে একদল বিজ্ঞানী ডেঙ্গু মোকাবিলার জন্য ডেঙ্গু প্রতিরোধী একটি ব্যাকটেরিয়া আবিষ্কার করেছেন। এটি দিয়ে শেষ পর্যন্ত ডেঙ্গু ভাইরাসের মোকাবিলা করা যাবে। ডেঙ্গু ভাইরাসকে ধ্বংস করা যাবে অতি সহজে। ওয়ার্ল্ড মস্কোইট প্রোগ্রাম (ডাব্লুএমপি) একটি পদ্ধতির সূচনা করেছে। এর মাধ্যমে পুরুষ ও মহিলা এডিস এজিপ্টি মশা শরীরে ওলবাচিয়া নামের একটি ব্যাকটেরিয়া ঢুকিয়ে দেওয়া হবে। এর পর কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বাচ্চা মশা জন্মগ্রহণ করে ওলবাচিয়া ব্যাকটেরিয়া নিয়ে। যা ডেঙ্গু ভাইরাসের বাফার হিসাবে কাজ করবে। ওলবাচিয়া যদি এডিস মশার শরীরে ঢুকিয়ে দেওয়া যায়, তাহলে ভাইরাসের বিরুদ্ধে মশার শরীরে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। ভাইরাসের বৃদ্ধিও ব্যহত হয়। এটি কেবল ডেঙ্গু নয়, জিকা, চিকুনগুনিয়া এবং হলুদ জ্বর প্রতিরোধে কাজ করবে।

এই পদ্ধতিতে, এডিস মশাকে ওলবাচিয়া ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সংক্রমিত করা হয়। ওলবাচিয়া সংক্রমিত পুরুষ মশাটি স্ত্রী মশার সঙ্গে মিলিত হলে মশা জন্মাতে পারে না এমন ডিম তৈরি হয়। অপরদিকে স্ত্রী মশা ওলবাচিয়া সংক্রমিত হলে তার থেকে জন্ম নেওয়া অন্য মশাও ওলবাচিয়া সংক্রমিত হয়েই জন্মাবে। এভাবে স্বাভাবিক এডিস মশার জায়গা দখল করে নেয় ওলবাচিয়া সংক্রমিত এডিস মশা।

পদ্ধতিটি আবিষ্কার করা পর এটি নিয়ে চলছে গবেষেণা। প্রথমে এই পদ্ধতিটি নিয়ে গবেষণা করা হয় উত্তর অস্ট্রেলিয়ায়। এরপরেই আরো দশটি দেশে গবেষণা চালানো হয়। গবেষণা চালানোর পর প্রথম ফলাফল আসে ভিয়েতনাম থেকে। বলা হচ্ছে, ভিয়েতনামে গবেষণার ফল অনেকটাই ভালো। সেখানে বিজ্ঞানীরা প্রাথমিক সফলতা পেয়েছেন।

ভিয়েতনামের ওয়ার্ল্ড মস্কোইট প্রোগ্রামের (ডাব্লুএমপি) সমন্বয়কারী নুগেইন বিন নুগেইন বলেন, এই পদ্ধতিটি চালু করার পর আমরা অনেক ভালো ফল পেয়েছি। আমরা দেখছি যে দেশটিতে ডেঙ্গুর পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমছে।

দক্ষিণ ভিয়েতনামের জনাকীর্ণ জেলা বিনহ লুংয়েতে প্রায় পাঁচ লাখ ওলবাচিয়া ব্যাকটেরিয়া আক্রান্ত মাশা ছাড়া হয়। নুগেইনের দল বিনামূল্যে এবং নিজেদের পরীক্ষার জন্য মশাগুলো ছেড়েছিল গত বছর। পরীক্ষায় তারা অনেকটাই সফল হয়েছিলেন। পরীক্ষা শুরুর পর থেকেই বিনহ লুংয়েতে নাহা ট্রাংয়ের তুলনায় ৮৬ শতাংশ ডেঙ্গু মশা কমে যায়।

ওলবাচিয়া নামের ব্যাকটেরিয়াটি প্রথম আবিষ্কার করা হয় ১৯২০ সালের দিকে। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল অব পাবলিক হেলথের ড্রেনগুলোতে প্রচুর পরিমাণে মশা জন্ম গ্রহণ করতো। ওইগুলো ধ্বংস করতেই আবিষ্কার করা হয়েছিল ওই ব্যাকটেরিয়াটি। বর্তমানে ওয়ার্ল্ড মস্কোইট প্রোগ্রামের ফলাফল যতেষ্ট ভালো। উত্তর অস্ট্রেলিয়া ও ভিয়েতনামের ট্রাই নুগুইনের পরীক্ষা সফলভবে শেষ হয়েছে। অন্যদিকে আগামী বছরের শুরুতেই ইন্দোনেশিয়া চালানো পরীক্ষার ফলাফল পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এদিকে বিশেজ্ঞরা বলছেন, ওলবাচিয়া নামের ব্যাকটেরিয়াটি নিয়ে দীর্ঘমেয়াদী পরীক্ষা এবং আরো বড় ধরনের গবেষণা করা প্রয়োজন। ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের সমন্বয়কারী রমন ভেলাউধন বলেন, আমাদের সর্বশেষ গবেষণা হবে এটা দেখা যে, এই ব্যাকটেরিয়াটি ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করবে।

সূত্র: এএফপি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা