kalerkantho

নিজের চুল কেটে ক্যান্সার আক্রান্তদের দান করলেন আরজে লাবণ্য

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১৯:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নিজের চুল কেটে ক্যান্সার আক্রান্তদের দান করলেন আরজে লাবণ্য

নিজের মাথার লম্বা চুল গোড়া থেকে কেটে ক্যান্সার আক্রান্তদের সহায়তায় দান করণে আরজে লাবণ্য। ক্যান্সার আক্রান্তদের কেমোথেরাপি চলাকালীন যে মাথার চুল ঝরতে শুরু করে, তাদের জন্যই এগিয়ে এলেন লাবণ্য দত্ত। এই সফরে অবশ্য লাবণ্যর সঙ্গী রোমিং পার্টনার ভ্লগ।

জানা গেছে, লাবণ্য পেশায় রেডিও জকি। পেশাগতভাবে গ্ল্যামার ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে জড়িত থাকলেও, ‘ন্যাড়া’ শব্দটা বিশেষভাবে ভাবায়নি তাকে। কারণ, তার কাছে শারীরিক সৌন্দর্য্যের চেয়েও বড় মনের সৌন্দর্য। একজন নারীর ক্ষেত্রে মাথা ন্যাড়া করাটা নিঃসন্দেহে সাহসী পদক্ষেপ। তবে, পিছিয়ে যাননি তিনি। দিন সাতেক আগেই একেবারে গোড়া থেকে চুল কেটে দান করেন তিনি।

লাবণ্য বলেন, আমি জানতামই না যে রিয়েল হেয়ার উইগ কী! যুত্তরাষ্ট্রে ক্যান্সার ট্রিটমেন্ট চলাকালীন সোনালি বেন্দ্রে একটা টুইট করেছিলেন তার হেয়ার স্টাইলিস্টকে নিয়ে। তখন জানতে পারি রিয়েল হেয়ার উইগ ঠিক কী!

তিনি আরো বলেন, ভারতে এরকম অনেক মন্দির রয়েছে, যেখানে মনের ইচ্ছা পূরণ হলে মানুষ চুল দান করেন। আর সেই চুলের গোছা সেসব মানুষগুলোর কাজেই লাগানো হয়, যাদের প্রয়োজন। বাণিজ্যিক স্বার্থেই সেই চুল চালান করে দেওয়া হয় অন্য দেশে। আন্তর্জাতিক বাজারে আবার ভারতীয় চুলের বেশ কদর। সেই থেকেই মাথায় এই ভাবনা আসা। কিন্তু চুল দান করা যায় কলকাতায় এরকম কোনো সংস্থা না থাকায়, মুম্বাইয়ের কোপ উইথ ক্যান্সার নামে এক সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করি। যারা সত্যিকারের চুল দিয়ে ক্যান্সার আক্রান্ত বাচ্চাদের জন্য উইগ তৈরি করে। 

তিনি আরো বলেন, সেটা এক বছর আগের কথা। কিন্তু তখন শর্তানুযায়ী চুল লম্বাই ছিল না দান করার মতো। তবে এই একবছরে চুল অনেক বেড়ে উঠেছিল। রিয়েল হেয়ার উইগের জন্য যখন কেশদান করার মনস্থির করি তখন ১২ ইঞ্চিরও কম লম্বা ছিল। একবছরে সাধের চুলগুলো বড় যত্নে বাড়িয়ে তুলি। হালকা কাটছাঁট, মানে বিউটিশিয়ানদের ভাষায় ‘ট্রিমিং’ ছাড়া আর কিছুই করাইনি। অবশেষে প্রায় মাসখানেক পর তা বেড়ে ১৮ ইঞ্চি হয়। অতঃপর, দিন সাতেক আগে সেই একঢাল চুল কেটে ফেলি।

লাবণ্যর এই উদ্যোগে উৎসাহ জুগিয়েছেন তার মা-বাবা, সমর্থন পেয়েছেন কাছের মানুষগুলোর কাছ থেকেও। তার কথায়, জীবদ্দশায় অন্তত এটা জেনেই খুশি যে আমার উদ্যোগে কারো মুখে হাসি ফুটতে পারে। লাবণ্যের জন্য উচ্ছ্বসিত রোমিং পার্টনার ভ্লগের দুই উদ্যোক্তা রানু ঘোষ এবং অর্পিতা দে। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা