kalerkantho

আর্যরা কি সত্যিই ভারতে এসেছিল? হরপ্পা আমলের কঙ্কালের জিন যা বলছে

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১৭:৫১ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



আর্যরা কি সত্যিই ভারতে এসেছিল? হরপ্পা আমলের কঙ্কালের জিন যা বলছে

ভারতের হরিয়ানার হিসার জেলায় রাখিগড়ি অঞ্চলে হরপ্পা আমলের নগরীর সন্ধান পাওয়া গেছে কয়েক বছর আগে। হরপ্পার সভ্যতা যখন উন্নতির শীর্ষে, তখন রাখিগড়িতে গড়ে ওঠে প্রাচীন নগর। তার একদিকে ঘাগার ও অন্যদিকে হাকরা নদী। 

দুই নদীর মাঝখানে ২৭ কিলোমিটার জায়গা জুড়ে ছড়িয়ে আছে সাতটি স্তূপ। তাতে প্রাচীন সভ্যতার যে নিদর্শন পাওয়া গেছে, তাতে বোঝা যায়, সাড়ে ছয় হাজার বছর আগে সেখানে জনবসতি ছিল।

এছাড়া ধ্বংসস্তূপে পাওয়া গেছে কয়েকটি কঙ্কাল। সেগুলো সাড়ে চার হাজার বছর আগের মানুষের। কোন জাতির লোক ছিল তারা? যাদের আর্য বলা হয়, তারাই কি বসতি তৈরি করেছিল সেখানে? এই প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার জন্য একটি কঙ্কালের ডিএনএ টেস্ট করা হয়।

ইতিহাসবিদরা মনে করেন, সুদূর অতীতে মধ্য এশিয়ার স্তেপভূমি থেকে পশুপালকের দল ছড়িয়ে পড়েছিল এশিয়া ও ইউরোপের নানা অঞ্চলে। ওই পশুপালক জনগোষ্ঠীকেই বলা হয় আর্য। কিন্তু রাখিগড়িতে পাওয়া কঙ্কালগুলোর জিনে এমন কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি যাতে বলা যায়, তারা স্তেপের পশুপালক গোষ্ঠীর লোক ছিল।

অনেকের ধারণা, আর্যরা প্রথমে বসতি স্থাপন করেছিল ইরানে। ইরানে তারা কৃষিকাজ করত। পরে তাদের একটি অংশ ভারতে চলে আসে। কিন্তু রাখিগড়ির কঙ্কালের জিনে এমন কিছু পাওয়া যায়নি।

রাখিগড়িতে পাওয়া সভ্যতার নিদর্শন নিয়ে গবেষণা করেছেন পুরাতত্ত্ববিদ বসন্ত সিন্ধে। তিনি কঙ্কালের জিন পরীক্ষার ফলাফল সম্পর্কে বলেন, সিন্ধু সভ্যতার সবচেয়ে গৌরবের দিনগুলোতে ওই অঞ্চলে নগর গড়ে উঠেছিল। সেখানে পাওয়া একটি কঙ্কালের ডিএনএ টেস্ট করে দেখা গেছে, তারা স্তেপের পশুপালকদের বংশধর নয়। এমনকি ইরানের কৃষিজীবীদের বংশধরও নয়। বরং ভারতের উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলের বাসিন্দাদের সঙ্গে তাদের জিনের মিল রয়েছে।

অনেকের ধারণা, ইরানের কৃষকরা ভারতে এসে স্থানীয় মানুষকে কৃষিকাজ শিখিয়েছিল। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, ইরান থেকে প্রাচীনকালে ভারতে অভিবাসন হয়নি। তার মানে ধরে নিতে হবে, স্থানীয় মানুষই কৃষিকাজ শুরু করেছিল। রাখিগড়ির কঙ্কালের ডিএনএ টেস্টে এমনই অনেক চালু ধারণা বদলে যেতে বসেছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা