kalerkantho

কোচের যৌন নিপীড়নের ভিডিও ফাঁস করে সাহায্য চাইলেন সোনাজয়ী সাঁতারু

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ২৩:০১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কোচের যৌন নিপীড়নের ভিডিও ফাঁস করে সাহায্য চাইলেন সোনাজয়ী সাঁতারু

ছয় মাস ধরে যৌন নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন কিশোরী একজন সাঁতারু। নিজের কোচই তার সঙ্গে যৌন হয়রানিমূলক আচরণ করছেন। ওই কিশোরী তার কোচের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ করেছেন। 

তবে আগোচরে হওয়া ওই ঘটনাকে সবার সামনে তুলতে ধরার জন্য অভিনব পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন পশ্চিমবঙ্গের ওই কিশোরী। নিজেই মোবাইলে কোচের যৌন হয়রানির ভিডিও ধারণ করেছেন। সেই ভিডিও তার প্রতি হওয়া দীর্ঘ দিনের অশালীন আচরণের জ্বলন্ত প্রমাণ। 

সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করে সাহায্য চেয়েছেন ওই সাঁতারু। আর সেই কোচের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করতে অনীহা দেখায় রিষড়া থানা।

ফাঁস হওয়া সেই ভিডিওতে পরিষ্কার দেখা যায়, আগে থেকেই ঘরের একটি জায়গায় ভিডিও রেকর্ডার চালু করে মোবাইল রেখে দিচ্ছেন ওই কিশোরী। তারপর ঘরের দরজার দিকে এগিয়ে যান তিনি। খোলা দরজা দিয়ে এরপর ওই কোচকে ঢুকতে দেখা যায়। কিশোরীর ডান পায়ে ক্রেপ ব্যান্ডেজ বাঁধা। কোচ এসে প্রথমে সেই চোটের জায়গাটা দেখলেন। তারপর নানা ভাবে কিশোরীর সারা গায়ে, গোপনাঙ্গে স্পর্শ করলেন। কিছুক্ষণ পর তিনি ঘর থেকে বের হয়ে যান। 

এরপর যথারীতি মোবাইলের ভিডিও রেকর্ডার বন্ধ করে দেন কিশোরী। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওর সত্য-মিথ্যা যদিও যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

কিশোরীর বাবা জানান, তার মেয়ে বর্তমানে চূড়ান্ত হতাশার মধ্যে রয়েছে। অবসাদগ্রস্থ হয়ে পড়েছে হেনস্তার শিকার হওয়া মেয়েটি। কারো সঙ্গে কথা বলাও প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে।

অন্য একটি ভিডিওতে ওই কিশোরীকে বলতে শোনা যায়, গোয়ায় আসার পর থেকেই স্যার আমার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করছিলেন। আমি প্রতিবাদ জানালে কাউকে বলতে নিষেধ করতেন। ভয় দেখাতেন আমার ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ নিয়ে। আমি ভয়ে কাউকে কিছু বলতাম না। কিন্তু, এই নোংরামি আমার পক্ষে আর সহ্য করা সম্ভব হচ্ছিল না। তাই সব কিছু ফাঁস করার সিদ্ধান্ত নিই। এখন আমি সাহায্য চাই।

যদিও গোয়া থেকে ফিরে তারা সোমবার রাতে রিষড়া থানায় অভিযোগ জানাতে যান বলে জানান ওই কিশোরীর বাবা। থানার কর্মীরা অভিযোগ না নিয়ে তাদের গোয়ায় গিয়ে অভিযোগ জানানোর পরামর্শ দেন বলে দাবি করেন তারা।

এ ব্যাপারে চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের ডেপুটি কমিশনার জানান, রিষড়া থানাকে আমি পুরো ঘটনার কথা জানিয়েছি। ওই কিশোরী যদি অভিযোগ জানাতে চান, তাহলে তিনি যেন রিষড়া থানায় যান। তার অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা করা হবে। কেন থানা প্রথমে অভিযোগ নেয়নি, সেটা খতিয়ে দেখছি আমরা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা