kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ছিলেন সন্ন্যাসী, বর্তমানে কোটি কোটি ডলারের মালিক

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১৬:২৩ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ছিলেন সন্ন্যাসী, বর্তমানে কোটি কোটি ডলারের মালিক

রিচার্ড পিয়েরসন (বামে) এবং অ্যান্ডি পাডিকোম্বে (ডানে)

দুঃখজনক কিছু ঘটনা পরপর ঘটে যায় অ্যান্ডি পাডিকোম্বের জীবনে। তারপর তার জীবনটাই সম্পূর্ণভাবে বদলে যায়। জানা গেছে, তখন ২২ বছর বয়স ছিল তার। লন্ডনের একটি পানশালার বাইরে বন্ধুদের নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকাকালীন এক মদ্যপ গাড়িচালক তার বন্ধুদের ওপর গাড়ি উঠিয়ে দিলে দু'জন মারা যায়।

ওই ঘটনার কয়েকমাস পর তার সৎ বোন মারা যান সাইকেল দুর্ঘটনায়। তারও কিছুদিন পর অপারেশনের সময় মারা যান তার সাবেক বান্ধবী। ওই সময় অ্যান্ডি স্পোর্টস সাইন্সের ওপর পড়াশোনা করছিলেন। টানা কয়েকটি ঘটনার শোক সহ্য করতে না পেরে পড়াশোনা ছেড়ে দেন।

জীবন পুরোপুরি পরিবর্তন করার জন্য তিনি হিমালয়ে গিয়ে বৌদ্ধ ভিক্ষু হওয়ার দীক্ষা গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেন। পরের ১০ বছর ভিক্ষু হিসেবে জীবনযাপন করেন অ্যান্ডি। ভ্রমণ করেন এশিয়ার বিভিন্ন স্থানে, কখনো কখনো দিনে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্তও ধ্যান করতেন।

তিনি বলেন, সবকিছু আবার সহজভাবে মেনে নেয়ার ক্ষেত্রে ধ্যান আমাকে সাহায্য করেছে। ধ্যান আমার দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন এনেছে। নিজের বিষয়ে কম চিন্তা করে অন্যান্যদের সুখের জন্য চিন্তা করতে শিখিয়েছে এটি।

অ্যান্ডি আরো বলেন, পরিবারের একজনও জানতো না যে কীভাবে এ বিষয়টি সামাল দেবে। কিন্তু তার পরেও প্রত্যেকে সমর্থন ও সাহস দিয়ে গেছেন।

এরপর ২০০৫ সালে যুক্তরাজ্যে ফিরে গিয়ে ধ্যানে সহায়তা করার একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠা করার উদ্যোগ নেন তিনি। কিন্তু যুক্তরাজ্যে সে সময় মেডিটেশনের তেমন একটা চল ছিল না। তিনি এ ব্যাপারে বলেন, ধ্যানের সময় যেন ভঙ্গিতে কথা বলা হয়, তা নিয়ে আপত্তি ছিল অনেকের। কেউ আবার এটিকে কিছুটা হিপি বিষয় বলে মনে করতো। মানুষের ধ্যান করার সময়ও ছিল না, আর তারা জানত না যে এটা কীভাবে করা যায়।

লন্ডনে ব্যক্তিগত উদ্যোগে মেডিটেশনের প্রশিক্ষণ দেয়ার ব্যবস্থা করেন অ্যান্ডি, যেখানে অতিরিক্ত কাজের চাপে থাকা পেশাজীবীদের দৈনন্দিন জীবনযাপনের ক্ষেত্রে সাহায্য করার চেষ্টা করতেন তিনি। বর্তমানে তিনি এবং সহ-প্রতিষ্ঠাতা রিচার্ড পিয়েরসন জনপ্রিয় চিকিৎসা বিষয়ক অ্যাপ হেডস্পেস পরিচালনা করেন। যা বিশ্বজুড়ে প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি বার ডাউনলোড করা হয়েছে এবং যাদের বার্ষিক আয় ১০ কোটি ডলারেরও বেশি বলে ধারণা করা হয়।

২০১০ সালের মধ্যে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় অনুষ্ঠান করা শুরু করে তারা। ধ্যানের উপকারিতা সম্পর্কে আলোচনা করার পাশাপাশি দলগতভাবে মেডিটেশনের সেশনও পরিচালনা করে তারা।
বর্তমানে তাদের অ্যাপ ব্যবহার করতে মাসে প্রায় ১০ পাউন্ড অর্থ ব্যয় করতে হয়।

২০১৩ সালে রিচার্ড ও অ্যান্ডি ব্যবসার কেন্দ্র সরিয়ে লন্ডন থেকে লস অ্যাঞ্জেলসে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তখন থেকে হেডস্পেসের সদর দপ্তর লস অ্যাঞ্জেলসে রয়েছে। শুরুতে নিজেদের অর্থায়নে পরিচালিত হলেও, ২০১৪ সাল থেকে ব্যবসা ও অ্যাপের কার্যক্রম বড় করার উদ্দেশ্যে বাইরের বিনিয়োগ গ্রহণ করা শুরু করে হেডস্পেস।

বর্তমানে সাড়ে সাত কোটি ডলার লগ্নি করা রয়েছে হেডস্পেসে, যদিও সিংহভাগ মালিকানা অ্যান্ডি ও রিচার্ডের হাতেই। শুরুতে অ্যান্ডি ও রিচার্ড দু'জনই ব্যবসার সব অংশের দেখভাল করলেও ব্যবসা বড় হওয়ার পর থেকে তারা কাজ ভাগ করে নেন।

প্রধান নির্বাহী হয়ে প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা ও তিনশ কর্মীর তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব নেন রিচার্ড। অ্যান্ডির মূল কাজ এখনো অ্যাপের সম্প্রসারণের বিষয় চিন্তা করা এবং নেপথ্য কণ্ঠ দেয়া। হেডস্পেস বর্তমানে শুধু একটি অ্যাপ নয়। তাদের তিন শতাধিক ব্যবসায়িক ক্লায়েন্ট রয়েছে। যাদের মধ্যে রয়েছে গুগল, লিঙ্কড ইন, জেনারেল ইলেকট্রিক এবং ইউনিলিভার। এসব প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার ও কর্মীদের ধ্যান করতে সাহায্য করে তারা। হার্ভার্ড ও স্ট্যানফোর্ডসহ যুক্তরাষ্ট্রের বেশকিছু বিশ্ববিদ্যালয় এবং যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা সংস্থা ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের সাথে যুক্ত হয়ে বিভিন্ন গবেষণায় সহায়তা করেন তারা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা