kalerkantho

বুধবার । ১৩ নভেম্বর ২০১৯। ২৮ কার্তিক ১৪২৬। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ছবির অ্যালবাম : বাংলাদেশ টেলস ফ্রম দ্যা ডেল্টা

অসাধারণ, অনন্য, অনবদ্য, নান্দনিক, অনিন্দ্য সব অভিধাই যায় এর সাথে!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১৯:৪৩ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



অসাধারণ, অনন্য, অনবদ্য, নান্দনিক, অনিন্দ্য সব অভিধাই যায় এর সাথে!

এই অ্যালবাম আপনার দুইটি নষ্টালজিয়া জাগিয়ে তুলবে। প্রথমত, যদি কোন সময় আপনার ভিউকার্ড জমানোর নেশা থাকে অথবা ভিউকার্ড গিফট করার অভ্যাস থাকে তাহলে আপনার এটি হাতে পাওয়ার পর অন্যরকম ভালোলাগা কাজ করবে। দ্বিতীয়ত, গ্রাম ও প্রকৃতির সাথে আপনার স্মৃতিগুলো জাগিয়ে তুলবে। বাংলাদেশ ট্রাভেল রাইটার্স অ্যাসোসিয়েশন এর একটি এক্সক্লুসিভ প্রকাশনা। ১২টি ছবির প্রত্যেকটি হতে পারে এক একটি উপহার। ভিউকার্ড বা পোস্টকার্ডরুপে ৫ বাই ৮ ইঞ্চির প্রতিটি ছবি। ঝকঝকে সুন্দর ছাপা ও স্পট লেমিনেশন করা। ছবিগুলো তুলেছেন নূর আহমেদ জিলাল, মুস্তাফিজুর রহমান ও ইন্দ্রনীল কিশোর। সুন্দর ছবিগুলো দিয়ে এমন অনবদ্য উপহার তৈরি করেছেন ট্রাভেল রাইটার্স অ্যাসোসিয়শন অব বাংলাদেশের সভাপতি আশরাফুজ্জামান উজ্জল।  

ছবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে মরিচ শুকানোর দৃশ্য। লাল ক্যানভাসে চোখ লেগে থাকে বহুক্ষণ। যেন অনেক না বলা কথার চিত্রমালা। ঢাকার মন্দিরে সনাতন প্রার্থনার প্রদীপগুলো এক পলকে আপনার মনে জ্বালিয়ে দিবে এক পবিত্র দ্বীপশিখা। যেন স্বর্গমর্ত্যলোকের কোনো অপার্থিব সরবিত নিরবতা।

> কাঁধে আনারসের ঝুড়ি নিয়ে রাঙামাটির আদিবাসীদের পাহাড়ের ঢাল বেয়ে পথচলা। এই পথ যেন সেখান থেকে শুরু হয়েছে যেখানে সবুজের দেবী বসে আহবানের বীণা বাজায়।

> সবুজের তুলি, সবুজ ক্যানভাস, সবুজ রং সবুজের এমন উদ্বেলিত প্রকাশ তবুও প্রতিটি লাইন যেন জীবনের কথা বলে। জলের রেখা যেন হয়ে উঠেছে এক একটি কবিতার চরণ। এমন আকাশ সবুজ করা স্বর্গীয় ছবিটি সিলেটের রাতারগুলের। আপনি এটির দিকে তাকিয়ে থাকবেন ক্লান্তিহীনভাবে অক্লান্তির সীমানা পর্যন্ত।

> নরসিংদীতে গণ মাছ ধরার এক অপূর্ব দৃশ্য। খুব নৈমিত্তিক কিন্তু মানুষের মুখাবয়বে তা হয়ে উঠেছে অসাধারণ। দিগন্তজোড়া লোকজ ঠিকানা যেন বিন্দু বিন্দু জীবন কণা আশার কণা হয়ে ভাসছে জাগ্রত জলের কোলো। যে জল মানুষকে দিয়ে যায় জীবনের সব উপাদান।

> কাপ্তাই লেকের ছবি দেখে প্রথমে মনে হবে কেউ বুঝি নীল আকাশের বুকে খোদাই করে বানিয়েছে তার স্বপ্নের বাড়ী। অথবা গ্রীস দেবী বুঝি ভেলা বানিয়ে ভেসে চলেছে সৌরদিগন্তের পানে। অবারিত জলে রাশি রাশি সবুজ প্রকৃতির রং বিলাসের এক কারুকাজ যেন। মন বলবে ‘‘এথা নয় হেথা নয় চল যাই অন্যকোনো খানে। আজ তবে গাই গান জলের সাম্পানে’’। ঠিক ধরেছেন মন হয়ে উঠতে পারে কবি।

> আহারে দূরন্ত কৈশর। এমন আক্ষেপ খুব বেশিক্ষণ থাকবে না। দিগন্তরেখার কোল ঘেঁসে গ্রামের দুষ্টু কিশোরদলের নারিকেল গাছ থেকে লাফিয়ে পানিতে পড়ার দৃশ্যের মধ্য থেকে আবিষ্কার করবেন ৬ জন কিশোরের কোনো একজন হয়তো আপনি। আর আপনার সামনে ধরা দিবে ছেলেবেলার সব দুষ্টু মিষ্টি অনূভুতি মাখানো স্মৃতি।

> ‘‘মন মাঝি তোর বৈঠা নে রে আমি আর মন বাইতে পারলাম না।” সবুজ গাছের পাতাকে পাশে রেখে বৈঠা বেয়ে তর তর করে এগিয়ে চলেছে মাঝির ডিঙ্গি নৌকা। এই নৌকা বৈঠা আমি অন্তত কখনো ফেরত দিতে চাইবনা। কারণ ক্লান্তি এখানে ‘‘প্রবেশ নিষেধ’’। সিলেটে তোলা নদীর বুকে নৌকার এই ছবি যেন বাংলাদেশের পতাকা হয়ে উঠেছে। সবুজের বুকে সবুজ বৃত্ত যেন ভবিষ্যত সমৃদ্ধ বাংলাদেশের আশা দেখায়।

> শেষের আগে যদি শুরু হয়, তবে কি শুরুর আগে শেষ? চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমের বাজার ছোট একটি ফ্রেম কিন্তু মনে হয় আদিগন্ত অনিঃশেষ। আম আর মানুষের মিতালী যেন। সারি সারি ঝুড়ি, সাজানো সবুজ আশা, গামছা মাথায় সাদামাটা মানুষগুলোর বিচরণ। সাধারণ কিছু দিয়ে যেমন অসাধারণ প্রকাশের মুন্সিয়ানা।

> ‘‘ওই দূর নীলিমায় যতদূর চোখ যায় যেখানে আকাশ ছোঁয় সাগরের ঢেউ, চল না সেখানে যাই’’ যেখানে পানি এবং আকাশ দুটোই নীল সেখানে দিগন্ত রেখা আলাদা করা খুব কঠিন। আর যদি সমুদ্রের দিগন্ত হয় তাহলেতো কথাই নেই। সেন্টমার্টিন দ্বীপের কাছে ছোট ছোট নৌকাগুলো ভেসে চলেছে নীল স্বচ্ছ জলে। ছোট ছোট বিন্দু যেন কোনো মহাকাশ যান। ছুটে চলেছে আদিগন্ত ঠিকানার পানে।

> ‘‘গ্রাম ছাড়া ওই রাঙামাটির পথ, আমার মন ভোলায়রে’’ যশোরের বেনাপোলের ছবিটা দেখার পর আপনার মনে হবে এই ছবিটার জন্যই গানটি লিখেছেন রবী ঠাকুর। রাঙাপথের বাঁকে দাঁড়িয়ে আছে গলাকাটা খেজুরের গাছগুলো। রাঙাপথ ধরে জুতো হাতে নিয়ে চলেছে ডাকঘর নাটকের সে দইওয়ালা। যে অমলকে এক বাটি দই খেতে দিয়েছিলো। আর কথা দিয়েছিলো অমল সুস্থ্য হলে তাকে নিয়ে যাবে তাদের পাহাড়ের কোল ঘেঁষা সে শ্যামল গায়ে। যেখানে পাহাড়ের গায়ে চরে বেড়ায় গরু। আর মেয়েরা সব লালশাড়ি পরে জল আনতে যায়। দইওয়ালাকে দেখে আমি অমলের মতো মনের অজান্তে বলেছি ‘‘দঅইইইই, ভালো দইইই।’’

১২টি ছবির প্রত্যেকটি হতে পারে এক একটি উপহার। ভিউকার্ড বা পোস্টকার্ডরুপে ৫ বাই ৮ ইঞ্চির প্রতিটি ছবি। ঝকঝকে সুন্দর ছাপা ও স্পট লেমিনেশন করা। বিশেষ করে কোনো প্রবাসী বা বিদেশিকে এটি উপহার দিলে হয়তো সে ব্যক্তি সারাজীবন আগলে রাখবে এটি।

ছবির সংগ্রহটি ঘরে বসেই পেতে ক্লিক করুন রকমারিতে

রিভিউ : জাহাঙ্গীর আলম শোভন

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা