kalerkantho

বুধবার । ২০ নভেম্বর ২০১৯। ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ইমেরিটা প্রফেসর রোমিলাকে কাজের প্রমাণ দিতে বলল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১৮:৪২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ইমেরিটা প্রফেসর রোমিলাকে কাজের প্রমাণ দিতে বলল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ

ভারতের প্রবীণ শিক্ষাবিদ রোমিলা থাপারের যোগ্যতার প্রমাণ চেয়েছে দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় (জেএনইউ) কর্তৃপক্ষ। বিশ্বদ্যিালয়টির রেজিস্ট্রার তাকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন, কমিটির কাছে তাকে বায়োডেটা জমা দিতে হবে। তারপর কমিটি খতিয়ে দেখবে, কী কী ‘কাজ’ করেছেন তিনি। তার পরেই নাকি সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ইমেরিটা অধ্যাপিকা’ হিসেবে তিনি থাকতে পারবেন কি না। 

৮৭ বছর বয়সী রোমিলার পাওয়া আন্তর্জাতিক সম্মানের তালিকা দীর্ঘ। অক্সফোর্ডের সাম্মানিক ডক্টরেট, যুক্তরাষ্ট্রের ফিলোসফিক্যাল সোসাইটির সদস্যপদ, ‘ইতিহাসের নোবেল’ বলে পরিচিত ক্লুগ পুরস্কার। সেই রোমিলাকেই নিজের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে কার্যত ‘যোগ্যতা’-র প্রমাণ দিতে হওয়ায় ক্ষুব্ধ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

রোমিলাদেবী বলেন, বিষয়টি দুর্ভাগ্যজনক। এক অদ্ভুত সময়ের মধ্যে রয়েছি। ইমেরিটা নিছকই একটি পদ নয়। এটি একটি মর্যাদা; যা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানের সঙ্গে যুক্ত। কারা এই সম্মান পাবেন, বিশ্ববিদ্যালয় তা নির্ধারণের মাপকাঠি তৈরি করে রেখেছে। কেন যে তারা আমার বিরুদ্ধে যাচ্ছেন, তা আমার বোধগম্য নয়।

বিশ্ববিদ্যালয় কোনো সম্মান প্রাপকের যোগ্যতামান একবার নির্ধারণ করে দিলে তা আর পুনর্বিবেচনা করা যায় না বলেও জানান রোমিলাদেবী। 

জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক প্রভাত পট্টনায়কের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের এক্সিকিউটিভ কাউন্সিল সম্ভবত এই পদটির অর্থই জানে না। বহু আবেদনকারীর মধ্যে থেকে কাউকে বেছে নিতে হবে, এমন কোনো পদ নয় ইমেরিটাস (নারীদের ক্ষেত্রে ইমেরিটা)। এটি আসলে অবসর নিতে চলা বা অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপককে তার অতীতের কাজের জন্য সম্মান দেওয়া। সেই সম্মান সারা জীবনের জন্য। 

তিনি আরো বলেন, রেজিস্ট্রারের চিঠির উত্তর দিয়ে রোমিলা জানতে চেয়েছেন, ঠিক কীভাবে তার মূল্যায়ন করা হবে? ইমেরিটা অধ্যাপিকা হওয়ার পর তার প্রকাশিত বইগুলোর মান নির্ধারণ হবে? নাকি ক্লুগ-সহ তার পাওয়া পুরস্কারগুলোর মূল্যায়ন হবে? 

বামপন্থী অর্থনীতিবিদ প্রভাত ও তার স্ত্রী তথা ইমেরিটা অধ্যাপিকা উৎসা পট্টনায়কের দপ্তরে গত বছর তালা ঝুলিয়ে দেয় জেএনইউ কর্তৃপক্ষ। প্রভাতের অভিযোগ, জেএনইউ শিক্ষকদের দমিয়ে রাখতে চায়। অফিসে তালা ঝোলানোর কারণে আমাদের ক্যাম্পাসে যাওয়া কমেছে। অন্য শিক্ষকদেরও নানাভাবে হেনস্থার চেষ্টা চলছে। কর্তৃপক্ষের সার্কুলারের বিরুদ্ধে ক্যাম্পাসে মিছিল করেছিলেন বলে অবসরের পর ইতিহাসের এক অধ্যাপককে ‘সার্ভিস ব্রেক’ ও পেনশন বন্ধের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে জেএনইউয়ের রেজিস্ট্রার প্রমোদ কুমারের যুক্তি, শুধু রোমিলা নন, অন্য ইমেরিটাস অধ্যাপকরা গত পাঁচ বছরে কী কাজ করেছেন, তার কোনো রেকর্ড আমাদের কাছে নেই। তা থাকা খুব জরুরি। সে ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক রিপোর্টে তাদের সাম্প্রতিক কাজটির কথা লেখা যায়।

প্রভাত যদিও মনে করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট সময় মতো আপডেট করা থাকলে এসব তথ্য সেখান থেকে পাওয়া সম্ভব। কারো কারো মতে, মোদির আমলে দিল্লিতে জেএনইউয়ের ছাত্র সংসদে বামদের ক্ষমতায় থাকাটা বিজেপির বড় অস্বস্তি। আসন্ন ছাত্র-ভোটে এবিভিপি-র স্লোগান, ‘বামপন্থী মুক্ত জেএনইউ’। উগ্র জাতীয়তাবাদ বিরোধী রোমিলা বা প্রভাতের উপরে কোপ পড়াটা তাই অস্বাভাবিক নয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা