kalerkantho

যারা পশু-পাখিকে ভালোবাসে না, তাদের দেখলে ভয় হয় : তসলিমা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৩ আগস্ট, ২০১৯ ১৬:৩১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



যারা পশু-পাখিকে ভালোবাসে না, তাদের দেখলে ভয় হয় : তসলিমা

ছবি : তসলিমা নাসরিনের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজ

রাস্তার বেড়াল কুকুরকে পেট স্টোর থেকে কেনা খাবার, গাছের বাঁদরকে কলা, ফুটপাতের বাচ্চাদের বিস্কুট টিস্কুট নিয়মিতই খেতে দিই। আমি খুব ধনী লোক নই। যেটুকু সামর্থ তার মধ্যেই করি। মাঝে মধ্যে অবশ্য সামর্থের বাইরেও করি।  দেখে অনেকে বলে, আমি যেন মঙ্গলবার বা শনিবারে খাওয়াই। কেন, শনি আর মঙ্গলে কেন, কেন বুধবার, রবিবারে নয়? অথবা সোমবার, শুক্রবারে, বা বৃহস্পতিবারে কেন নয়? 

তারা বলে, শনি আর মঙ্গলবারে খাওয়ালে পূণ্য হবে। আমি বলি, আমি তো পূণ্যের জন্য খাওয়াই না।

ওরা চোখ কপালে তোলে। তবে কিসের জন্য পয়সা খরচ করে ওদের খাওয়াচ্ছি?

আমি বলি ওরা ক্ষুধার্ত, সেজন্য খাওয়াচ্ছি। এই যুক্তি ওরা মেনে নিতে পারে না। ওরা ক্ষুধার্ত, তাই বলে আমি খাওয়াব কেন, যদি আমার লাভ কিছুই না হয়? 

তুঘলকাবাদ দুর্গের কাছে শত শত ক্ষুধার্ত বাঁদরের জন্য শত শত কলা নিয়ে যাই। কেন? 

কারণ ওই একই ওরা ক্ষুধার্ত, তাছাড়া ওদের জংগল তো আমরা মানুষেরা ধংস করেছি। ওদের থাকার জায়গা ধংস করে নিজেদের থাকার জায়গা বানিয়েছি। ওদের থাকা খাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া তো আমাদেরই দায়িত্ব। কুকুর বেড়ালকেও নিজেদের প্রয়োজনে আমরা লোকালয়ে রেখেছি। ওদের থাকা খাওয়া দেওয়ার দায়িত্ব তো আমাদেরই।

কুকুরেরা রাস্তায় না খেয়ে পড়ে থাকে, আমরা ওদের মেরে পা ভেঙ্গে দিই। হাজারো কুকুরকে বিষ খাইয়ে মেরে ফেলি। ওরা ডাস্টবিন খুঁটে বাসি পচা অখাদ্য খায়। ফুটপাতে কেন মানুষ শোবে, ইস্কুলে যাওয়ার বয়সে বাচ্চারা কেন ভিক্ষে করবে। মানুষের হাতে কি টাকা পয়সার অভাব? পৃথিবীর অল্প কয়েকজনের হাতে যে বিশাল টাকা আছে, তার সামান্য খরচ করলে কিন্তু পৃথিবীর কোনও প্রাণীকে না খেয়ে থাকতে হয় না।

ধনী লোকেরা কোটি টাকা খরচ করে বড় পূণ্য কামিয়ে নিচ্ছেন। সুতরাং তাদের আর ছোটখাটো পূণ্যের দরকার নেই। তারা মন্দির মসজিদ গির্জায় টাকা দিচ্ছেন, তারা হরিদ্বার যান, হজে যান, তারা বাবা আর পীরের পেছনে অঢেল টাকা ঢালেন। পূণ্য তাদের যথেষ্ট হচ্ছে। সুতরাং অসহায় প্রাণীদের করুণা করে পূণ্য কামাবার প্রয়োজন নেই তাদের।

অগত্যা আমাদেরই , যারা পূণ্যের তোয়াক্কা করি না, সাহায্য করতে হবে অসহায় প্রাণীদের। প্রাণীদের ভালোবেসে সাহায্য করতে হবে। সেটাই সত্যিকারের সাহায্য। যারা পশু পাখিকে ভালোবাসে না, তাদের দেখলে আমার ভয় হয় খুব।

-প্রখ্যাত নারীবাদী লেখিকা তসলিমা নাসরিনের ওয়াল থেকে

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা